ঢাকা ০৩:৫১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘পুনরুদ্ধারের’ সময় এসেছে: বিজেপি এমপি দুবে Logo কুয়েতে ভিসা জালিয়াতি, বাংলাদেশির ৪ বছর কারাদণ্ড Logo কোরিয়ায় আন্তর্জাতিক উৎসবে খাবার ক্যাটাগরিতে প্রথম বাংলাদেশ Logo সিলেটে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলের প্রস্তুতিকালে আটক ১২ নেতাকর্মী Logo ফুটবল থেকে রোনালদোর বিদায় যেন এমন না হয়, চাওয়া মরিনিয়োর Logo আইনজীবীদের সম্পূরক কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে চাই: আইনমন্ত্রী Logo বগুড়ায় নাশকতার মামলায় ২ কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা গ্রেপ্তার Logo চট্টগ্রামে সেমিনার: ‘ক্লাস্টারভিত্তিক’ অর্থনৈতিক বিকাশ দরকার, বলছেন অধ্যাপক ওবায়দুল করিম Logo পরিচালকের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন, যা বললেন দীঘি Logo আরও কয়েক সপ্তাহ সাকাকে পাচ্ছে না আর্সেনাল

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘পুনরুদ্ধারের’ সময় এসেছে: বিজেপি এমপি দুবে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু জোরপূর্বক এই ভূখণ্ডগুলো হস্তান্তর করেছিলেন।

ওই সাক্ষাৎকারে দুবে অভিযোগ করেন যে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ত্রিপুরার রাজার মতামত উপেক্ষা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় মুসলিম লীগের সমর্থন লাভের জন্য নেহরু এই অঞ্চলগুলো ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ছাড়াও নেহরুর মাধ্যমে হস্তান্তরিত হওয়া এসব অঞ্চল পুনরুদ্ধারের সময় এখন এসেছে।

বিজেপি এমপির এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার প্রয়াত রাজার বংশধর প্রদ্যোত মানিক্য। তিনি দাবি করেন যে, দেশভাগের সময় তার দাদিসহ রাজপরিবারকে অন্ধকারে রেখে ত্রিপুরার একটি বড় অংশ পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এটিকে তাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি অত্যন্ত অন্ধকার অধ্যায় বলে অভিহিত করেন।

ত্রিপুরাভিত্তিক দল তিপরা মোথার প্রধান প্রদ্যোত মানিক্য আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়ার কারণে উত্তর-পূর্ব ভারত সমুদ্রপথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ হারিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এই অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্তকারী সরু স্থলপথ বা চিকেনস নেক নিয়ে দেশটির বর্তমানের মতো উদ্বেগ থাকত না।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে দুবে জানান যে, সে সময় ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। রাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে কীভাবে তার রাজ্যের অংশবিশেষ এবং সিলেট বা নোয়াখালী পাকিস্তানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে সে সব আপত্তি উপেক্ষা করেই তৎকালীন নেতৃবৃন্দ সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।

জনপ্রিয়

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘পুনরুদ্ধারের’ সময় এসেছে: বিজেপি এমপি দুবে

নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট ‘পুনরুদ্ধারের’ সময় এসেছে: বিজেপি এমপি দুবে

প্রকাশিত ০৩:২২:১৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সংসদ সদস্য নিশিকান্ত দুবে বাংলাদেশের নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর ও সিলেট অঞ্চলগুলো পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানিয়েছেন। সম্প্রতি ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন যা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। তার দাবি অনুযায়ী, তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু জোরপূর্বক এই ভূখণ্ডগুলো হস্তান্তর করেছিলেন।

ওই সাক্ষাৎকারে দুবে অভিযোগ করেন যে, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় রাজনৈতিক সুবিধা পাওয়ার উদ্দেশ্যে ত্রিপুরার রাজার মতামত উপেক্ষা করা হয়েছিল। তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সময় মুসলিম লীগের সমর্থন লাভের জন্য নেহরু এই অঞ্চলগুলো ছেড়ে দিয়েছিলেন। তার মতে, পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর ছাড়াও নেহরুর মাধ্যমে হস্তান্তরিত হওয়া এসব অঞ্চল পুনরুদ্ধারের সময় এখন এসেছে।

বিজেপি এমপির এই বক্তব্যের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন ত্রিপুরার প্রয়াত রাজার বংশধর প্রদ্যোত মানিক্য। তিনি দাবি করেন যে, দেশভাগের সময় তার দাদিসহ রাজপরিবারকে অন্ধকারে রেখে ত্রিপুরার একটি বড় অংশ পূর্ব পাকিস্তানের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছিল। তিনি এটিকে তাদের জাতীয় ইতিহাসের একটি অত্যন্ত অন্ধকার অধ্যায় বলে অভিহিত করেন।

ত্রিপুরাভিত্তিক দল তিপরা মোথার প্রধান প্রদ্যোত মানিক্য আরও উল্লেখ করেন যে, চট্টগ্রাম বন্দর হাতছাড়া হওয়ার কারণে উত্তর-পূর্ব ভারত সমুদ্রপথে সরাসরি যোগাযোগের সুযোগ হারিয়েছে। তার ভাষ্যমতে, এই অঞ্চলগুলোর নিয়ন্ত্রণ থাকলে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্তকারী সরু স্থলপথ বা চিকেনস নেক নিয়ে দেশটির বর্তমানের মতো উদ্বেগ থাকত না।

ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে দুবে জানান যে, সে সময় ত্রিপুরার রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ নির্ধারণের সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। রাজা প্রশ্ন তুলেছিলেন যে কীভাবে তার রাজ্যের অংশবিশেষ এবং সিলেট বা নোয়াখালী পাকিস্তানের হাতে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। তবে সে সব আপত্তি উপেক্ষা করেই তৎকালীন নেতৃবৃন্দ সীমানা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।