ঢাকা ০২:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে ২০২৭ সালে

প্রযুক্তি ডেস্ক: জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের পরবর্তী রকেট উৎক্ষেপণ কর্মসূচি আরও পেছানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের উৎক্ষেপণ আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে আর হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের একটি প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ফ্লোরিডার উৎক্ষেপণ প্যাডে পরীক্ষার সময় রকেটটিতে একটি মারাত্মক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুর্ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মূল অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার পর ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ লিম্প দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রকেট উৎক্ষেপণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে সম্প্রতি কর্মীদের পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ নোটে তিনি জানিয়েছেন যে মেরামতকাজের সময়সীমা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে। ওই স্মারকে উল্লেখ করা হয় যে প্যাডের ‘ভেহিকল অ্যাক্সেস টাওয়ার’ মেরামত করে পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে এবং ‘লঞ্চ ব্রিজ’-এর নির্মাণকাজও সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাহী জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে মূলত মেরামত প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশিত গতির চেয়ে কিছুটা ধীরগতির হয়েছে।

কাজে বিলম্ব হলেও প্রকৌশলী ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন ব্লু অরিজিনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন যে কাজটি শেষ করতে সাধারণত দীর্ঘ কয়েক বছর সময় লেগে যাওয়ার কথা, সেটি মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করেছে টিম ব্লু। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অনুমতি প্রদান করলেই মহাকাশ খাতে নিজেদের সক্ষমতা আরও প্রসারিত করতে প্রস্তুত রয়েছে কোম্পানিটি। মঙ্গল গ্রহে বিশেষ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে ব্লু অরিজিন।

এই রকেট উৎক্ষেপণের ওপর নির্ভর করছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের ‘লিও’ স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম। কক্ষপথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সফলভাবে পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এই ভারী রকেটটি। সব ধরনের বাধা পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ে সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায় ব্লু অরিজিন।

জনপ্রিয়

নিন্দার কাঁটা থেকে সেঞ্চুরির ফুল

ব্লু অরিজিনের ‘নিউ গ্লেন’ রকেট উৎক্ষেপণ পিছিয়ে ২০২৭ সালে

প্রকাশিত ১১:০৭:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: জেফ বেজোসের মালিকানাধীন মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান ব্লু অরিজিনের পরবর্তী রকেট উৎক্ষেপণ কর্মসূচি আরও পেছানো হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির শক্তিশালী ‘নিউ গ্লেন’ রকেটের উৎক্ষেপণ আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারির আগে আর হচ্ছে না। প্রযুক্তি বিষয়ক ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের একটি প্রতিবেদনের বরাতে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ফ্লোরিডার উৎক্ষেপণ প্যাডে পরীক্ষার সময় রকেটটিতে একটি মারাত্মক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। ওই দুর্ঘটনার কারণে প্রতিষ্ঠানটির মূল অবকাঠামোতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং সব ধরনের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

দুর্ঘটনার পর ব্লু অরিজিনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ডেভ লিম্প দ্রুত মেরামতের কাজ শেষ করে চলতি বছরের শেষ নাগাদ রকেট উৎক্ষেপণের আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন। তবে সম্প্রতি কর্মীদের পাঠানো এক অভ্যন্তরীণ নোটে তিনি জানিয়েছেন যে মেরামতকাজের সময়সীমা নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দীর্ঘায়িত হয়েছে। ওই স্মারকে উল্লেখ করা হয় যে প্যাডের ‘ভেহিকল অ্যাক্সেস টাওয়ার’ মেরামত করে পুনরায় স্থাপন করা হয়েছে এবং ‘লঞ্চ ব্রিজ’-এর নির্মাণকাজও সম্পন্ন হয়েছে। প্রধান নির্বাহী জানান, প্রতিকূল আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে মূলত মেরামত প্রক্রিয়াটি প্রত্যাশিত গতির চেয়ে কিছুটা ধীরগতির হয়েছে।

কাজে বিলম্ব হলেও প্রকৌশলী ও কর্মীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন ব্লু অরিজিনের শীর্ষ এই কর্মকর্তা। তিনি উল্লেখ করেন যে কাজটি শেষ করতে সাধারণত দীর্ঘ কয়েক বছর সময় লেগে যাওয়ার কথা, সেটি মাত্র ছয় মাসের মধ্যে সম্পন্ন করেছে টিম ব্লু। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত অনুমতি প্রদান করলেই মহাকাশ খাতে নিজেদের সক্ষমতা আরও প্রসারিত করতে প্রস্তুত রয়েছে কোম্পানিটি। মঙ্গল গ্রহে বিশেষ টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার জন্য গত সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার সঙ্গে একটি চুক্তিও স্বাক্ষর করেছে ব্লু অরিজিন।

এই রকেট উৎক্ষেপণের ওপর নির্ভর করছে ই-কমার্স জায়ান্ট অ্যামাজনের ‘লিও’ স্যাটেলাইট ব্রডব্যান্ড সেবার ভবিষ্যৎ কার্যক্রম। কক্ষপথে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও যন্ত্রপাতি সফলভাবে পৌঁছে দিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে এই ভারী রকেটটি। সব ধরনের বাধা পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ে সফল উৎক্ষেপণের মাধ্যমে মহাকাশ বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করতে চায় ব্লু অরিজিন।