ঢাকা ০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

কেশম দ্বীপে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত ৬ নভেম্বর প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয় এবং ড্রোনটিকে আগ্রাসী মার্কিন বিমান হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান, যদিও এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশের কেশম দ্বীপটি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালির উত্তর প্রবেশপথের নিকটবর্তী অবস্থিত। এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক কৌশল ও ভূরাজনৈতিক নজরদারি বজায় রেখেছে বিভিন্ন পক্ষ। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কেশম দ্বীপের আকাশ ও জলসীমায় মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করার একাধিক দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বৈরিতা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের স্থায়ী কোনো অবসান ঘটেনি। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত জটিল আকার ধারণ করছে এবং নানা ধরনের সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

সাম্প্রতিক এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিকটবর্তী এলাকায় এই ধরনের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

জনপ্রিয়

উত্থান-পতন পেরিয়ে বেলিংহ্যাম ও টুখেলের সম্পর্ক এখন ‘ভালো’

কেশম দ্বীপে মার্কিন এমকিউ-৯ ড্রোন ভূপাতিত করল ইরান

প্রকাশিত ১১:৫২:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের কেশম দ্বীপের আকাশসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি অত্যাধুনিক এমকিউ-৯ ড্রোন ধ্বংস করার দাবি জানিয়েছে দেশটির সেনাবাহিনী। গত ৬ নভেম্বর প্রকাশিত এক সরকারি বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয় এবং ড্রোনটিকে আগ্রাসী মার্কিন বিমান হিসেবে অভিহিত করা হয়। তাসনিম নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে ড্রোনটি ভূপাতিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে মার্কিন সামরিক বাহিনীকে সন্ত্রাসী বাহিনী হিসেবে আখ্যায়িত করেছে তেহরান, যদিও এই বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমোজগান প্রদেশের কেশম দ্বীপটি পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযোগকারী হরমুজ প্রণালির উত্তর প্রবেশপথের নিকটবর্তী অবস্থিত। এই এলাকার ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে দীর্ঘদিন ধরে সামরিক কৌশল ও ভূরাজনৈতিক নজরদারি বজায় রেখেছে বিভিন্ন পক্ষ। এর আগেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান সামরিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে কেশম দ্বীপের আকাশ ও জলসীমায় মার্কিন ড্রোন ধ্বংস করার একাধিক দাবি করেছে দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে দুই দেশের মধ্যে চলমান বৈরিতা ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের জুন মাসে একটি পূর্ণাঙ্গ শান্তিচুক্তির বিষয়ে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও দুই দেশের মধ্যকার সংঘাতের স্থায়ী কোনো অবসান ঘটেনি। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রতিনিয়ত জটিল আকার ধারণ করছে এবং নানা ধরনের সামরিক সংঘাতের ঘটনা ঘটছে।

সাম্প্রতিক এই ড্রোন ভূপাতিত করার ঘটনাটি দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক দ্বন্দ্বকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিকটবর্তী এলাকায় এই ধরনের সামরিক তৎপরতা আন্তর্জাতিক রাজনীতি ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে।