ঢাকা ০৩:৫৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

মঙ্গলে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির ইঙ্গিত, মিলল গ্যাসের প্রমাণ

প্রযুক্তি ডেস্ক: মঙ্গল গ্রহের তলদেশ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই গ্যাস লাল গ্রহটির ভূগর্ভে কোনো গোপন ভৌগোলিক কার্যক্রম বা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সক্রিয় থাকার জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি গ্রহটির পৃষ্ঠদেশে কিছু নতুন ফাটল চিহ্নিত হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এর অভ্যন্তরভাগ এখনও সক্রিয় রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলের ভেতর তৈরি হওয়া গ্যাস নিচ থেকে ধীরে ধীরে পৃষ্ঠদেশের দিকে বেরিয়ে আসছে।

নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে মঙ্গলের তলদেশে থাকা ফুটন্ত ম্যাগমা থেকে মূলত হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার এক্সোমার্স ট্রেস গ্যাস অরবিটার প্রথমবারের মতো মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে এই গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিল। পৃথিবীতে আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা তৈরির মুখ বা ভেন্ট থেকেই সাধারণত এই গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। ফলে বিজ্ঞানীরা তখন থেকেই অনুমান করেছিলেন যে মঙ্গলেও একই ধরনের কোনো প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, মঙ্গলের তলদেশে এখনও পর্যাপ্ত ভূ-তাপ বিদ্যমান রয়েছে যা আগ্নেয়গিরির কার্যক্রমকে টিকিয়ে রেখেছে। পুরো সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরিগুলো এই মঙ্গলেই অবস্থিত হলেও এতদিন সেগুলোর সক্রিয়তা নিয়ে সংশয় ছিল। এর আগে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে বসানো সেন্সরে মার্সকোয়েক বা মঙ্গলকম্প ধরা পড়লেও কোনো প্রত্যক্ষ লাভা প্রবাহ দেখা যায়নি। তবে নতুন ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অগ্ন্যুৎপাতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্ভবত গ্রহের পৃষ্ঠতলের নিচেই সংঘটিত হচ্ছে।

গবেষকরা মনে করছেন, অতীতে মঙ্গল গ্রহ যদি এভাবে সক্রিয় থেকে থাকে তবে তা সেখানে প্রাণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারত। ভূত্বক ভেদ করে বেরিয়ে আসা গরম লাভা ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারে যা অণুজীবের বেঁচে থাকার সহায়ক। পোলিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের স্পেস রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ও গবেষণা প্রবন্ধের যৌথ প্রধান লেখক ড্যানিয়েল মেজ আলবা মনস অঞ্চলের গ্যাস নিঃসরিত ফাটলগুলোতে প্রাণের সন্ধান করা বেশ যুক্তিসঙ্গত বলে মত দিয়েছেন। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি লাল গ্রহের ভূগর্ভস্থ রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

জনপ্রিয়

মঙ্গলে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির ইঙ্গিত, মিলল গ্যাসের প্রমাণ

মঙ্গলে সুপ্ত আগ্নেয়গিরির ইঙ্গিত, মিলল গ্যাসের প্রমাণ

প্রকাশিত ০৩:৩৭:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

প্রযুক্তি ডেস্ক: মঙ্গল গ্রহের তলদেশ থেকে বিষাক্ত গ্যাস নির্গত হওয়ার চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এই গ্যাস লাল গ্রহটির ভূগর্ভে কোনো গোপন ভৌগোলিক কার্যক্রম বা সুপ্ত আগ্নেয়গিরি সক্রিয় থাকার জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে। সম্প্রতি গ্রহটির পৃষ্ঠদেশে কিছু নতুন ফাটল চিহ্নিত হয়েছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে এর অভ্যন্তরভাগ এখনও সক্রিয় রয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মঙ্গলের ভেতর তৈরি হওয়া গ্যাস নিচ থেকে ধীরে ধীরে পৃষ্ঠদেশের দিকে বেরিয়ে আসছে।

নতুন এই গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখতে পেয়েছেন যে মঙ্গলের তলদেশে থাকা ফুটন্ত ম্যাগমা থেকে মূলত হাইড্রোজেন ক্লোরাইড গ্যাস নির্গত হচ্ছে। এর আগে ২০২১ সালে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার এক্সোমার্স ট্রেস গ্যাস অরবিটার প্রথমবারের মতো মঙ্গলের বায়ুমণ্ডলে এই গ্যাসের উপস্থিতি শনাক্ত করেছিল। পৃথিবীতে আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা তৈরির মুখ বা ভেন্ট থেকেই সাধারণত এই গ্যাস নির্গত হয়ে থাকে। ফলে বিজ্ঞানীরা তখন থেকেই অনুমান করেছিলেন যে মঙ্গলেও একই ধরনের কোনো প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বিজ্ঞানীদের নতুন গবেষণা অনুযায়ী, মঙ্গলের তলদেশে এখনও পর্যাপ্ত ভূ-তাপ বিদ্যমান রয়েছে যা আগ্নেয়গিরির কার্যক্রমকে টিকিয়ে রেখেছে। পুরো সৌরজগতের সবচেয়ে বড় আগ্নেয়গিরিগুলো এই মঙ্গলেই অবস্থিত হলেও এতদিন সেগুলোর সক্রিয়তা নিয়ে সংশয় ছিল। এর আগে মঙ্গল গ্রহের পৃষ্ঠে বসানো সেন্সরে মার্সকোয়েক বা মঙ্গলকম্প ধরা পড়লেও কোনো প্রত্যক্ষ লাভা প্রবাহ দেখা যায়নি। তবে নতুন ফলাফল ইঙ্গিত দিচ্ছে যে অগ্ন্যুৎপাতের সম্পূর্ণ প্রক্রিয়াটি সম্ভবত গ্রহের পৃষ্ঠতলের নিচেই সংঘটিত হচ্ছে।

গবেষকরা মনে করছেন, অতীতে মঙ্গল গ্রহ যদি এভাবে সক্রিয় থেকে থাকে তবে তা সেখানে প্রাণের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারত। ভূত্বক ভেদ করে বেরিয়ে আসা গরম লাভা ভূগর্ভস্থ পানির সঙ্গে মিশে এমন পরিবেশ তৈরি করতে পারে যা অণুজীবের বেঁচে থাকার সহায়ক। পোলিশ অ্যাকাডেমি অফ সায়েন্সেসের স্পেস রিসার্চ সেন্টারের অধ্যাপক ও গবেষণা প্রবন্ধের যৌথ প্রধান লেখক ড্যানিয়েল মেজ আলবা মনস অঞ্চলের গ্যাস নিঃসরিত ফাটলগুলোতে প্রাণের সন্ধান করা বেশ যুক্তিসঙ্গত বলে মত দিয়েছেন। সায়েন্স অ্যাডভান্সেস জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণাটি লাল গ্রহের ভূগর্ভস্থ রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।