ঢাকা ০২:৪৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬

নির্বাচনী ধাক্কায় শেয়ারবাজারে ধস, ট্রিলিয়নের নিচে মাস্কের সম্পদ

অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয় পাওয়ার পর শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের দুই কোম্পানি টেসলা ও স্পেসএক্স। কঠোর সরকারি তদারকি এবং নতুন বিধিনিষেধের আশankায় কেবল কয়েক দিনেই কোম্পানি দুটি ৪২ হাজার কোটি ডলারের বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে। এর ফলে মাস্কের নিজের মোট সম্পদও এক ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে লেনদেন চলাকালে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ারমূল্য প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, নতুন কংগ্রেসের তদন্তের মুখে পড়া এবং কঠোর সরকারি বিধিনিষেধ আসার শঙ্কা থেকেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ও প্রচারে সবচেয়ে বড় অর্থদাতা ছিলেন ইলন মাস্ক, যার অনুদানের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ডলারের বেশি। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালার পরও মাস্ক সমর্থিত প্রার্থীদের অধিকাংশকেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে এবং নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এমনকি টেক্সাসে মাস্কের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের কাছে হেরে গেছেন। ফোরবেসের তথ্য অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক পালাবদলের পর মাত্র এক সপ্তাহেই মাস্কের সম্পদ প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলার কমেছে। তবে এত বড় দরপতনের পরও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।

নির্বাচনী এই ফলের পর ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে স্পেসএক্স বেশ কিছু নতুন ও বাড়তি প্রতিকূলতার মুখে পড়তে পারে। নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোহোসা তার প্রচারাভিযানে কঠোর সুরক্ষামূলক আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত নতুন ডেটা সেন্টার অনুমোদনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি রাখার কথা বলেছিলেন। বর্তমানে টেক্সাসে টেসলা ও স্পেসএক্স উভয় কোম্পানিই বিপুল পরিমাণ এআই অবকাঠামো এবং ‘টেরাফ্যাব’ নামের বিশালাকার সমন্বিত কারখানা গড়ে তোলার কাজ চালাচ্ছে। এছাড়া স্টারবেইসে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে কঠোর নতুন বিধিনিষেধ ও আইনগত তদারকির মুখে এই ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগগুলো দীর্ঘসূত্রতা ও বিলম্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে ইউক্রেইনে ব্যবহৃত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সার্ভিসের সামরিক সংস্করণের ওপর চাপানো বিধিনিষেধ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাস্ক ও স্পেসএক্সকে। সিএনএন জানিয়েছে, একজন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটরের সহকারীকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকির কারণে স্পেসএক্স ও টেসলাকে একীভূত করার মাস্কের বহুদিনের ইচ্ছাও আটকে যেতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরবর্তী এই ধসের কারণে বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের সময় স্পেসএক্স ও টেসলার সম্মিলিত বাজার মূলধন কমে প্রায় ৪৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।

জনপ্রিয়

নিন্দার কাঁটা থেকে সেঞ্চুরির ফুল

নির্বাচনী ধাক্কায় শেয়ারবাজারে ধস, ট্রিলিয়নের নিচে মাস্কের সম্পদ

প্রকাশিত ১২:৫২:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির জয় পাওয়ার পর শেয়ারবাজারে বড় ধরনের ধসের মুখে পড়েছে ইলন মাস্কের দুই কোম্পানি টেসলা ও স্পেসএক্স। কঠোর সরকারি তদারকি এবং নতুন বিধিনিষেধের আশankায় কেবল কয়েক দিনেই কোম্পানি দুটি ৪২ হাজার কোটি ডলারের বেশি বাজার মূলধন হারিয়েছে। এর ফলে মাস্কের নিজের মোট সম্পদও এক ট্রিলিয়ন ডলার থেকে কমে ৮০ হাজার কোটি ডলারের নিচে নেমে গেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে লেনদেন চলাকালে স্পেসএক্সের শেয়ারের দাম প্রায় ৯ শতাংশ এবং টেসলার শেয়ারমূল্য প্রায় ১১ শতাংশ কমেছে। আমেরিকান সংবাদমাধ্যম সিএনবিসি জানিয়েছে, নতুন কংগ্রেসের তদন্তের মুখে পড়া এবং কঠোর সরকারি বিধিনিষেধ আসার শঙ্কা থেকেই বিনিয়োগকারীরা শেয়ার বিক্রি করে দিচ্ছেন।

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান দলের প্রার্থী ও প্রচারে সবচেয়ে বড় অর্থদাতা ছিলেন ইলন মাস্ক, যার অনুদানের পরিমাণ ছিল ৪৭ কোটি ডলারের বেশি। তবে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঢালার পরও মাস্ক সমর্থিত প্রার্থীদের অধিকাংশকেই পরাজয় বরণ করতে হয়েছে এবং নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেট উভয় কক্ষেরই নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করেছে ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। এমনকি টেক্সাসে মাস্কের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র গভর্নর গ্রেগ অ্যাবট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কেন প্যাক্সটনও ডেমোক্র্যাট প্রার্থীদের কাছে হেরে গেছেন। ফোরবেসের তথ্য অনুযায়ী, এই রাজনৈতিক পালাবদলের পর মাত্র এক সপ্তাহেই মাস্কের সম্পদ প্রায় ৯ হাজার কোটি ডলার কমেছে। তবে এত বড় দরপতনের পরও বিশ্বের শীর্ষ ধনী ব্যক্তিদের তালিকায় নিজের প্রথম স্থান ধরে রেখেছেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।

নির্বাচনী এই ফলের পর ডয়চে ব্যাংকের বিশ্লেষকরা জানিয়েছেন যে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের কারণে স্পেসএক্স বেশ কিছু নতুন ও বাড়তি প্রতিকূলতার মুখে পড়তে পারে। নবনির্বাচিত গভর্নর জিনা হিনোহোসা তার প্রচারাভিযানে কঠোর সুরক্ষামূলক আইন পাস না হওয়া পর্যন্ত নতুন ডেটা সেন্টার অনুমোদনের ওপর স্থগিতাদেশ জারি রাখার কথা বলেছিলেন। বর্তমানে টেক্সাসে টেসলা ও স্পেসএক্স উভয় কোম্পানিই বিপুল পরিমাণ এআই অবকাঠামো এবং ‘টেরাফ্যাব’ নামের বিশালাকার সমন্বিত কারখানা গড়ে তোলার কাজ চালাচ্ছে। এছাড়া স্টারবেইসে শক্তিশালী সুপারকম্পিউটার গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন যে কঠোর নতুন বিধিনিষেধ ও আইনগত তদারকির মুখে এই ডেটাভিত্তিক প্রযুক্তি সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগগুলো দীর্ঘসূত্রতা ও বিলম্বের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

এদিকে ইউক্রেইনে ব্যবহৃত স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেট সার্ভিসের সামরিক সংস্করণের ওপর চাপানো বিধিনিষেধ সংক্রান্ত যাবতীয় নথি সংরক্ষণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে মাস্ক ও স্পেসএক্সকে। সিএনএন জানিয়েছে, একজন ডেমোক্র্যাটিক সেনেটরের সহকারীকে উদ্ধৃত করে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। এছাড়া কঠোর নিয়ন্ত্রক তদারকির কারণে স্পেসএক্স ও টেসলাকে একীভূত করার মাস্কের বহুদিনের ইচ্ছাও আটকে যেতে পারে। সব মিলিয়ে নির্বাচনী পরবর্তী এই ধসের কারণে বৃহস্পতিবার বাজার বন্ধের সময় স্পেসএক্স ও টেসলার সম্মিলিত বাজার মূলধন কমে প্রায় ৪৫ হাজার ৬০০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে।