ঢাকা ০৫:৫৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাকৃবি ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ১০দিন ব্যাপি কুরআন শিক্ষা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত Logo নোবিপ্রবিতে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ছাত্রদল সভাপতির ইফতার Logo যবিপ্রবিতে ইকসাসের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কুবি বিজ্ঞান অনুষদের উদ্যোগে ২৮ শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড প্রদান Logo পাবিপ্রবি প্রেসক্লাবের উদ্যোগে ইফতার মাহফিল ও দায়িত্ব হস্তান্তর Logo কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের ইফতার ও দোয়া মাহফিল Logo হাবিপ্রবিস্থ বৃহত্তর রাজশাহী ছাত্র কল্যাণ সমিতির ইফতার মাহফিল ও আহবায়ক কমিটি ঘোষণা Logo সৌদিয়া বাসের টিকেট পাওয়া যাচ্ছে বিডিটিকেটসে Logo রোজায় ত্বকের যত্ন: ফুড ও লাইফস্টাইলেই লুকিয়ে স্কিন গ্লো Logo কেন্দ্রীয়ভাবে সকল শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতার আয়োজন করবে যবিপ্রবি

ইবিতে ভর্তি কমিটির সভায় অংশ নিয়ে তোপের মুখে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা

  • সাকীফ বিন আলম
  • প্রকাশিত ০৯:১৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫
  • ৬৫ বার পঠিত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় ভর্তিকমিটির মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করলে তাতে বাঁধা প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের ৩য় তলায় মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরা সভাকক্ষের বাহিরে জড়ো হয়ে ‘স্বৈরাচারীর দোসর -দালাল’ বলে শ্লোগান দিতে থাকে এবং সভাস্থল ত্যাগ করার দাবি জানায়।

এসময় শিক্ষার্থীরা “একটা একটা দালাল ধর, ধইরা ধইরা সাইজ কর”, দালালদের ঠিকানা, এ ক্যাম্পাসে হবে না, চব্বিশের বাংলায়, দালালদের ঠাঁই নাই ইত্যাদি শ্লোগান দেয়।

জানা যায়, বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের তৃতীয় তলায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কমিটির মিটিং শুরু হয়। মিটিংয়ে বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্বে থাকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাও অংশগ্রহণ করে। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা জানলে শিক্ষার্থীরা সভাস্থলে গিয়ে জড়ো হয়ে আওয়ামীবিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মিটিং থেকে বের করে নিয়ে যায়।

এসময় সভায় আওয়ামীপন্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার তৌহিদুল আনাম, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মিয়া মোঃ রাসিদুজ্জামান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবিউল হক, অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক পার্থ সারথি লস্কর, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার, জিওগ্রাফী এন্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বিপুল রায়, ল এ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানজেমন্টে বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শিরিনা খাতুন সহ অন্যান্যরা।

পরে শিক্ষকরা ভ্যানে করে নিজ নিজ বিভাগে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তাদেরকে পেছন থেকে ‘দালাল ধর, দোসর ধর’ বলে ধাওয়া দেয়। পরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে গিয়ে বিভাগটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে আগামীকাল থেকে ক্যাম্পাসে না আসার হুমকি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্বৈরাচারের দোসর এই শিক্ষকরা জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি ছাত্রদের এই আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম আখ্যা দিয়েছিলো। এছাড়া শিক্ষক শহিদুল আন্দোলন পরবর্তী সময়েও প্রতিনিয়ত শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বিভিন্ন পোস্ট করে আসছেন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহসমন্বয়ক তানভীর মন্ডল বলেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা জিয়া পরিষদের ও গ্রীন ফোরামের শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলাসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী আওয়ামী শিক্ষকদের বিষয়ে এমন কোনো কাজ করতে চাই না। আমরা চাই ঐ সব শিক্ষকরা তাদের ভুলের জায়গাটা স্বীকার করে অনুশোচনা করে ফিরে আসুক। তারা তাদের রুটিন কাজগুলো করুক কিন্তু তারা যদি এখনো তাদের পূর্বের রাজনৈতিক ধ্যান ধারণা লালন করে তাহলে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানায়। পরে তাদেরকে আমরা মিটিং থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বের করে নিয়ে আসি।

জনপ্রিয়

বাকৃবি ছাত্রশিবিরের আয়োজনে ১০দিন ব্যাপি কুরআন শিক্ষা কোর্সের সমাপনী অনুষ্ঠিত

ইবিতে ভর্তি কমিটির সভায় অংশ নিয়ে তোপের মুখে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকেরা

প্রকাশিত ০৯:১৩:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ মার্চ ২০২৫

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের কেন্দ্রীয় ভর্তিকমিটির মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করলে তাতে বাঁধা প্রদান করে শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের ৩য় তলায় মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীরা সভাকক্ষের বাহিরে জড়ো হয়ে ‘স্বৈরাচারীর দোসর -দালাল’ বলে শ্লোগান দিতে থাকে এবং সভাস্থল ত্যাগ করার দাবি জানায়।

এসময় শিক্ষার্থীরা “একটা একটা দালাল ধর, ধইরা ধইরা সাইজ কর”, দালালদের ঠিকানা, এ ক্যাম্পাসে হবে না, চব্বিশের বাংলায়, দালালদের ঠাঁই নাই ইত্যাদি শ্লোগান দেয়।

জানা যায়, বেলা ১২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের তৃতীয় তলায় ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কমিটির মিটিং শুরু হয়। মিটিংয়ে বিভিন্ন অনুষদের ডিন ও বিভাগীয় সভাপতির দায়িত্বে থাকা আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরাও অংশগ্রহণ করে। বিষয়টি শিক্ষার্থীরা জানলে শিক্ষার্থীরা সভাস্থলে গিয়ে জড়ো হয়ে আওয়ামীবিরোধী বিভিন্ন শ্লোগান দিতে থাকে। পরে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় আওয়ামীপন্থী শিক্ষকদের মিটিং থেকে বের করে নিয়ে যায়।

এসময় সভায় আওয়ামীপন্থীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. শেলীনা নাসরীন, বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আসাদুজ্জামান, আইন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. খন্দকার তৌহিদুল আনাম, ইংরেজি বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক মিয়া মোঃ রাসিদুজ্জামান, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. রবিউল হক, অর্থনীতি বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক পার্থ সারথি লস্কর, ফিন্যান্স এন্ড ব্যাংকিং বিভাগের সভাপতি সহযোগী অধ্যাপক সঞ্জয় কুমার সরকার, জিওগ্রাফী এন্ড এনভায়রনমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক বিপুল রায়, ল এ্যান্ড ল্যান্ড ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক মেহেদী হাসান, হিউম্যান রিসোর্স ম্যানজেমন্টে বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শরিফুল ইসলাম, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শিরিনা খাতুন সহ অন্যান্যরা।

পরে শিক্ষকরা ভ্যানে করে নিজ নিজ বিভাগে যাওয়ার সময় শিক্ষার্থীরা তাদেরকে পেছন থেকে ‘দালাল ধর, দোসর ধর’ বলে ধাওয়া দেয়। পরে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট বিভাগে গিয়ে বিভাগটির সভাপতি সহকারী অধ্যাপক শহিদুল ইসলামকে আগামীকাল থেকে ক্যাম্পাসে না আসার হুমকি প্রদান করেন শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, স্বৈরাচারের দোসর এই শিক্ষকরা জুলাই আন্দোলনের সময় ছাত্রদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। এমনকি ছাত্রদের এই আন্দোলনকে সন্ত্রাসী কার্যক্রম আখ্যা দিয়েছিলো। এছাড়া শিক্ষক শহিদুল আন্দোলন পরবর্তী সময়েও প্রতিনিয়ত শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ বিভিন্ন পোস্ট করে আসছেন

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সহসমন্বয়ক তানভীর মন্ডল বলেন, বিগত আওয়ামী শাসনামলে ছাত্রলীগের ক্যাডাররা জিয়া পরিষদের ও গ্রীন ফোরামের শিক্ষকদের গায়ে হাত তোলাসহ বিভিন্নভাবে হেনস্তা করার ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু আমরা জুলাই আন্দোলনের বিরোধিতাকারী আওয়ামী শিক্ষকদের বিষয়ে এমন কোনো কাজ করতে চাই না। আমরা চাই ঐ সব শিক্ষকরা তাদের ভুলের জায়গাটা স্বীকার করে অনুশোচনা করে ফিরে আসুক। তারা তাদের রুটিন কাজগুলো করুক কিন্তু তারা যদি এখনো তাদের পূর্বের রাজনৈতিক ধ্যান ধারণা লালন করে তাহলে আমরা কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহিনুজ্জামান বলেন, মিটিংয়ে আওয়ামীপন্থী শিক্ষকরা অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা আপত্তি জানায়। পরে তাদেরকে আমরা মিটিং থেকে শান্তিপূর্ণভাবে বের করে নিয়ে আসি।