ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির Logo কুবিতে মুরাদনগর ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীনবরণ ও মিলনমেলা Logo ঢাকেবির অধ্যাদেশের পক্ষে চার ছাত্র সংগঠনের সংহতি প্রকাশ Logo ১৮ স্কুলের অর্ধশতাধিক সুবিধাবঞ্চিত শিশুকে ইবিস্থ ফুলকুঁড়ি তারারমেলার উষ্ণবস্ত্র উপহার  Logo সরস্বতীপূজার ব্যানার ‘ভুলবশত’ খুলে ফেলেন, দাবি জাবি কর্মচারীর Logo জাবিতে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মাঝে ‘তরী’র শীতবস্ত্র বিতরণ  Logo জাবিস্থ মাদারীপুর জেলা ছাত্র সংসদের নেতৃত্বে রিমন-জাহিদ Logo ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাদেশ জারির দাবিতে সোমবার শিক্ষার্থীদের গণজমায়েত Logo র‌্যাব-১০ এর অভিযানে ৫০ বোতল ফেনসিডিলসহ নারী মাদক ব্যবসায়ী আটক Logo জাবিতে ‘তারুণ্যের চোখে আগামী নির্বাচন ও গণভোট’ শীর্ষক সেমিনার

কুয়াশায় বিমান অবতরণে বিড়ম্বনা, দুশ্চিন্তায় যাত্রীদের স্বজনরা

প্রবল শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীদের স্বজনরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ফলে বিমানবন্দর এলাকায় দুশ্চিন্তা ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল সাতটার দিকে সরেজমিনে বিমানবন্দরের যাত্রী অপেক্ষা ছাউনিতে দেখা যায়, অনেকেই শীত উপেক্ষা করে প্রবাসফেরত স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছেন। মাদারীপুরের এক বাসিন্দা জানান, তার বড় ভাই দুবাই থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণের কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে বিমানটি ঢাকায় নামতে পারেনি। তিনি বলেন, শীতের মধ্যে সারারাত বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কষ্ট হচ্ছে, তবুও ভাই আসবে—এই আশায় অপেক্ষা করছি।

অপেক্ষা ছাউনিতে ছয় সদস্যের একটি পরিবারকে দেখা যায়, যাদের একজনের হাতে ছিল ফুলের তোড়া। আয়েশা নামের এক যাত্রীর স্বজন জানান, তার স্বামী কুয়েত থেকে আসার কথা ছিল সকাল ৭টায়। তবে সকাল ১০টা বেজে গেলেও ফ্লাইটের কোনো সময়সূচি স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছিল না। তিনি বলেন, ভেতরে খুব দুশ্চিন্তা কাজ করছে। তবে আমার মতো শত শত যাত্রীর স্বজন এখানে অপেক্ষা করছেন।

ফরিদপুরের সদরপুর থেকে আসা রাকিব হোসেন জানান, তার বাবা ও ছোট ভাই কাতারের দোহা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ফোনে জানতে পারেন, কুয়াশার কারণে ঢাকার আকাশে পৌঁছেও অবতরণ সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। পরে সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করবে—এমন খবরে তার পরিবার কিছুটা স্বস্তি পায়।

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আসা হৃদয় জানান, তার ভাই দুবাই থেকে আসার কথা থাকলেও ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো আপডেট পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “শীতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বসার কোনো ব্যবস্থা নেই, ভেতরেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে এলে তাদের স্বজনদের জন্য বিমানবন্দরে আরও ভালো ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।”

অবশেষে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে কাতার থেকে আগত নূর হোসেন ও তার বাবা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে আজ বেশ কয়েকটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে প্রতিটি বিমানের সর্বশেষ অবস্থান বড় টিভি স্ক্রিনের মাধ্যমে যাত্রীদের স্বজনদের জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শীতের কারণে কিছুটা কষ্ট হলেও সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।

জনপ্রিয়

সাত কলেজের সংকট নিরসনে অধ্যাদেশই একমাত্র সমাধান: কবি নজরুল কলেজ ছাত্রশিবির

কুয়াশায় বিমান অবতরণে বিড়ম্বনা, দুশ্চিন্তায় যাত্রীদের স্বজনরা

প্রকাশিত ১০:৫৬:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রবল শৈত্যপ্রবাহ ও ঘন কুয়াশার কারণে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) একাধিক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে না পারায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীদের স্বজনরা। দীর্ঘ সময় অপেক্ষার ফলে বিমানবন্দর এলাকায় দুশ্চিন্তা ও হতাশা ছড়িয়ে পড়ে।

সকাল সাতটার দিকে সরেজমিনে বিমানবন্দরের যাত্রী অপেক্ষা ছাউনিতে দেখা যায়, অনেকেই শীত উপেক্ষা করে প্রবাসফেরত স্বজনদের জন্য অপেক্ষা করছেন। মাদারীপুরের এক বাসিন্দা জানান, তার বড় ভাই দুবাই থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ভোর ৪টা ১৫ মিনিটে ঢাকায় অবতরণের কথা থাকলেও কুয়াশার কারণে বিমানটি ঢাকায় নামতে পারেনি। তিনি বলেন, শীতের মধ্যে সারারাত বিমানবন্দরে দাঁড়িয়ে আছি। খুব কষ্ট হচ্ছে, তবুও ভাই আসবে—এই আশায় অপেক্ষা করছি।

অপেক্ষা ছাউনিতে ছয় সদস্যের একটি পরিবারকে দেখা যায়, যাদের একজনের হাতে ছিল ফুলের তোড়া। আয়েশা নামের এক যাত্রীর স্বজন জানান, তার স্বামী কুয়েত থেকে আসার কথা ছিল সকাল ৭টায়। তবে সকাল ১০টা বেজে গেলেও ফ্লাইটের কোনো সময়সূচি স্ক্রিনে দেখা যাচ্ছিল না। তিনি বলেন, ভেতরে খুব দুশ্চিন্তা কাজ করছে। তবে আমার মতো শত শত যাত্রীর স্বজন এখানে অপেক্ষা করছেন।

ফরিদপুরের সদরপুর থেকে আসা রাকিব হোসেন জানান, তার বাবা ও ছোট ভাই কাতারের দোহা থেকে ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেন। প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে ফোনে জানতে পারেন, কুয়াশার কারণে ঢাকার আকাশে পৌঁছেও অবতরণ সম্ভব না হওয়ায় বিমানটি সিলেট বিমানবন্দরে অবতরণ করেছে। পরে সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে পুনরায় যাত্রা শুরু করবে—এমন খবরে তার পরিবার কিছুটা স্বস্তি পায়।

কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে আসা হৃদয় জানান, তার ভাই দুবাই থেকে আসার কথা থাকলেও ভোর থেকে সকাল সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কোনো আপডেট পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, “শীতে খুব কষ্ট হচ্ছে। বসার কোনো ব্যবস্থা নেই, ভেতরেও ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। খোলা আকাশের নিচে বসে থাকতে হচ্ছে। প্রবাসীরা দেশে এলে তাদের স্বজনদের জন্য বিমানবন্দরে আরও ভালো ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।”

অবশেষে সকাল ১১টা ৫০ মিনিটে কাতার থেকে আগত নূর হোসেন ও তার বাবা ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়। পরে তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন।

এ বিষয়ে বিমানবন্দরের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, ঘন কুয়াশার কারণে আজ বেশ কয়েকটি ফ্লাইট নির্ধারিত সময়ে অবতরণ করতে বিলম্ব হয়েছে। তবে প্রতিটি বিমানের সর্বশেষ অবস্থান বড় টিভি স্ক্রিনের মাধ্যমে যাত্রীদের স্বজনদের জানানো হচ্ছে। তিনি বলেন, শীতের কারণে কিছুটা কষ্ট হলেও সবাই শৃঙ্খলাবদ্ধভাবে অবস্থান করছেন এজন্য আমরা কৃতজ্ঞ।