সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বাঙালিকে চিরতরে পঙ্গু করে রাখার চেষ্টা করেছিল পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী। এমন মন্তব্য করেছেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম।
তিনি বলেন, বাঙালিকে চিরতরে পদানত করে রাখতে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী নানা পন্থা অবলম্বন করেছিল। এর অন্যতম ছিল মানুষের মনের ভাব প্রকাশের বাহন ভাষার ওপর সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। তিনি উল্লেখ করেন, পুরো পাকিস্তানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের ভাষা ছিল বাংলা, যেখানে পশ্চিম পাকিস্তানের মাত্র ৭.২ শতাংশ মানুষের ভাষা ছিল উর্দু। উর্দু ও ইংরেজিকে রাষ্ট্রভাষা হিসেবে রাখার উদ্যোগের বিপরীতে সংখ্যাগরিষ্ঠের ভাষা হিসেবে বাংলারই রাষ্ট্রভাষা হওয়ার যৌক্তিক দাবি ছিল।
উপাচার্য আরও বলেন, প্রশাসনিক, রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক সব ক্ষেত্রেই বাঙালিদের বঞ্চিত করা হয়েছিল। ভাষাগত কারণে চাকরির ক্ষেত্রেও বৈষম্যের শিকার হতে হয়েছে।
২০ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার) রাত ১০:৩০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের চুরুলিয়া মঞ্চে আলোচনা ও সংগীত বিভাগের শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে ভাষা শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬-এর কর্মসূচির সূচনা হয়। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ট্রেজারার প্রফেসর ড. জয়নুল আবেদীন সিদ্দিকী, কলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইমদাদুল হুদা, চারুকলা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মুহাম্মদ এমদাদুর রাশেদ (রাশেদ সুখন), শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রফেসর ড. তুষার কান্তি সাহা এবং রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমানসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, আলোচনাসভা শেষে ২১ ফেব্রুয়ারি শনিবার প্রথম প্রহরে ভাষা শহিদদের স্মরণে ১ মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়।
এদিন সকাল ১০:৩০ ঘটিকায় নতুন প্রশাসনিক ভবনের সামনে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে দিবসের কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।



















