ঢাকা ০৮:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ইনজুরিতে মাঠ ছাড়লেন মেসি, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা Logo কুবি শিক্ষক অপহরণ মামলায় গ্রেফতার এক, গাড়ি জব্দ Logo ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে শিক্ষার্থীদের পাশে নোবিপ্রবি ছাত্রশিবির Logo ছাত্রদল নেতার সকালে পদত্যাগ করে পোস্ট, রাতে জানালেন আইডি হ্যাক ছিলো Logo রাবিস্থ খুলনা জেলা সমিতির নেতৃত্বে ফয়সাল ও মেহেদী Logo সাঁতারে খুলনা এবং অ্যাথলেটিকসে চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগ চ্যাম্পিয়ন ঢাকা Logo অপো এ সিরিজকে নম্বর ১ স্মুথনেস, ব্যাটারি লাইফ ও ডিউরেবিলিটির স্বীকৃতি দিলো বুয়েট Logo রবি এলিট প্রোগ্রামে আরও ১৬ ব্র্যান্ড, মিলবে ৫২% পর্যন্ত ছাড় Logo ঈদ উপলক্ষ্যে সব মডেলে ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত ক্যাশব্যাক দিচ্ছে রিভো Logo হাবিপ্রবিতে দুই হলের সংঘর্ষে আহত সহকারী প্রক্টর

মেধাবী ওমরের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালো ‘স্বপ্ন’

দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট হয়েও অদম্য মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কুষ্টিয়ার মেধাবী ছাত্র ওমর। তবে মেধা থাকলেও ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নূন্যতম আর্থিক সামর্থ্য। ওমরের এই জীবনসংগ্রাম ও উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ (Shwapno)। প্রতিষ্ঠানটি ওমরের উচ্চশিক্ষার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

ওমর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিকের কাজও করতে হয়েছে।

ওমরের পারিবারিক পটভূমি অত্যন্ত সংঘাতময়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তার মা অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন। এমন প্রতিকূলতার মাঝেও ওমর জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৯২ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহায়তায় বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি এই ঈর্ষণীয় সাফল্য পান।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওমর বলেন, “স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ পর্যন্ত আমার লেখাপড়া হয়েছে। আমার পরিবারের সামর্থ্য নাই যে আমাকে একটা বই বা খাতা কিনে দেবে। স্বপ্ন (Shwapno) আজ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়ালো, তা আমার এবং আমার মায়ের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে। আমি এখন নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারব।”

সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘স্বপ্ন’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। ওমরের পাশে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে স্বপ্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে—ছোট কিন্তু নিয়মিত সহায়তাই একজন মেধাবী মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে স্বপ্নের এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ওমরের এই সাফল্য কেবল তার নিজের নয়, বরং বাংলাদেশের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। আর স্বপ্নের এই উদ্যোগ সেই অনুপ্রেরণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।

জনপ্রিয়

ইনজুরিতে মাঠ ছাড়লেন মেসি, বিশ্বকাপ খেলা নিয়ে শঙ্কা

মেধাবী ওমরের উচ্চশিক্ষার স্বপ্নপূরণে পাশে দাঁড়ালো ‘স্বপ্ন’

প্রকাশিত ১১:০৫:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬

দারিদ্র্যের কষাঘাতে পিষ্ট হয়েও অদম্য মেধা ও কঠোর পরিশ্রমের জোরে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছেন কুষ্টিয়ার মেধাবী ছাত্র ওমর। তবে মেধা থাকলেও ছিল না বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির নূন্যতম আর্থিক সামর্থ্য। ওমরের এই জীবনসংগ্রাম ও উচ্চশিক্ষার স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে এগিয়ে এসেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় রিটেইল চেইন শপ ‘স্বপ্ন’ (Shwapno)। প্রতিষ্ঠানটি ওমরের উচ্চশিক্ষার যাবতীয় খরচ বহনের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে।

ওমর ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষায় সারাদেশে ৯০তম স্থান অর্জন করার পাশাপাশি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৫১তম এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৪৩তম স্থান পেয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার খরচ জোগাতে তাকে শ্রমিকের কাজও করতে হয়েছে।

ওমরের পারিবারিক পটভূমি অত্যন্ত সংঘাতময়। দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় তার বাবা কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। এরপর থেকে তার মা অন্যের বাসাবাড়িতে কাজ করে কোনোমতে সংসার চালিয়ে নিচ্ছেন। এমন প্রতিকূলতার মাঝেও ওমর জিডি শামছুদ্দিন আহমেদ কলেজিয়েট স্কুল থেকে ২০২৩ সালে বাণিজ্য বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি এবং ২০২৫ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৯২ পয়েন্ট পেয়ে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়ার একটি কোচিং সেন্টারের শিক্ষকের সহায়তায় বিনা মূল্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রস্তুতি নিয়ে তিনি এই ঈর্ষণীয় সাফল্য পান।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে ওমর বলেন, “স্কুল, কলেজ ও কোচিংয়ের শিক্ষকদের সহযোগিতায় আজ পর্যন্ত আমার লেখাপড়া হয়েছে। আমার পরিবারের সামর্থ্য নাই যে আমাকে একটা বই বা খাতা কিনে দেবে। স্বপ্ন (Shwapno) আজ যেভাবে আমার পাশে দাঁড়ালো, তা আমার এবং আমার মায়ের দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তা দূর করে দিয়েছে। আমি এখন নিশ্চিন্তে পড়াশোনা করতে পারব।”

সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ‘স্বপ্ন’ দীর্ঘদিন ধরে দেশের বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়। ওমরের পাশে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে স্বপ্নের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে—ছোট কিন্তু নিয়মিত সহায়তাই একজন মেধাবী মানুষের জীবনে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারে। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মেধাবীদের সঠিক মূল্যায়ন ও তাদের জীবনমান উন্নয়নে স্বপ্নের এই ধরনের সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

ওমরের এই সাফল্য কেবল তার নিজের নয়, বরং বাংলাদেশের হাজারো সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর জন্য এক বড় অনুপ্রেরণা। আর স্বপ্নের এই উদ্যোগ সেই অনুপ্রেরণাকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার একটি প্রচেষ্টা।