ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা Logo বেনাপোলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন: এস আলমের সম্পত্তি ক্রোকের দাবি Logo কর্মচারীর বিয়েতে সৌদি থেকে উড়ে এলেন কফিল Logo বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেন ইয়ামাল Logo বাজিতপুরে বজ্রপাতে পুরোহিতের মৃত্যু Logo ধনবাড়ীতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ও পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন Logo শাওমি নিয়ে এলো ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ Logo নীলফামারীর ডিমলায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই বোনের Logo ইনফিনিক্সের ‘ফুটবল ফিয়েস্তা’য় নিশ্চিত ক্যাশব্যাক ও মেগা পুরস্কার Logo বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে

কর্মচারীর বিয়েতে সৌদি থেকে উড়ে এলেন কফিল

কর্মচারীর বিয়েতে সৌদি থেকে উড়ে এলেন কফিল

সাধারণত কর্মচারীরা মালিকের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে এবার ঘটেছে ঠিক উল্টো ঘটনা। প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর বিয়েতে যোগ দিতে সৌদি আরব থেকে নিজেই বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন তার কফিল (নিয়োগকর্তা)। সঙ্গে ছিলেন তার দুই বন্ধু। হেলিকপ্টারযোগে তাদের আগমনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে চাউরা কবি সানাউল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। হেলিকপ্টার নামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ মাঠে ভিড় জমান। হেলিকপ্টারটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুদন মিয়ার ছোট ছেলে মো. বাপ্পি গত চার বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। তার বড় ভাই মাসুদ রানাও প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাদের সঙ্গে সৌদি প্রতিষ্ঠানের মালিক ফায়েজ আল মাকদুবি এবং তার দুই বন্ধু সালমান আল মুতাহারী ও আহাদ মোহাম্মদীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদ রানা জানান, অনেক দিন ধরেই তাদের কফিল ও তার বন্ধুরা বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন। ছোট ভাইয়ের বিয়েকে উপলক্ষ করে তারা সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের এই আগমনে পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

বর মো. বাপ্পিও বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। তার বিয়েতে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

বাপ্পির বাবা সুদন মিয়া বলেন, “আমার ছেলের বিয়েতে তার মালিক সুদূর সৌদি আরব থেকে এসেছেন। এটি আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। এমন ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায় এ ধরনের বিদেশি অতিথির আগমন এই প্রথম। বিশেষ করে হেলিকপ্টারযোগে তাদের আগমন পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে এলাকার জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

এলাকাবাসীর আশা, সৌদি অতিথিদের সঙ্গে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, দক্ষ জনশক্তির জন্য বিদেশে কাজের নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হতে পারে।

প্রবাসী যুবক বাপ্পির বিয়ে এবং সৌদি অতিথিদের ব্যতিক্রমী আগমনকে ঘিরে মধ্যপাড়া গ্রাম এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন হেলিকপ্টার দেখতে এবং অতিথিদের একনজর দেখার জন্য। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন বাপ্পির বিয়েকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা, যা দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবেন এলাকাবাসী।

জনপ্রিয়

কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা

কর্মচারীর বিয়েতে সৌদি থেকে উড়ে এলেন কফিল

প্রকাশিত ১১:৪৯:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

সাধারণত কর্মচারীরা মালিকের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে এবার ঘটেছে ঠিক উল্টো ঘটনা। প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীর বিয়েতে যোগ দিতে সৌদি আরব থেকে নিজেই বাংলাদেশে ছুটে এসেছেন তার কফিল (নিয়োগকর্তা)। সঙ্গে ছিলেন তার দুই বন্ধু। হেলিকপ্টারযোগে তাদের আগমনকে ঘিরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়া গ্রামে সৃষ্টি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

সোমবার (৮ জুন) দুপুর ১২টার দিকে চাউরা কবি সানাউল হক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারটি অবতরণ করে। হেলিকপ্টার নামার খবর ছড়িয়ে পড়তেই সকাল থেকেই আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত মানুষ মাঠে ভিড় জমান। হেলিকপ্টারটি অবতরণের সঙ্গে সঙ্গে পুরো এলাকায় উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে।

জানা গেছে, মধ্যপাড়া গ্রামের বাসিন্দা সুদন মিয়ার ছোট ছেলে মো. বাপ্পি গত চার বছর ধরে সৌদি আরবে কর্মরত। তার বড় ভাই মাসুদ রানাও প্রায় পাঁচ বছর ধরে একই প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। দীর্ঘদিন একসঙ্গে কাজ করার সুবাদে তাদের সঙ্গে সৌদি প্রতিষ্ঠানের মালিক ফায়েজ আল মাকদুবি এবং তার দুই বন্ধু সালমান আল মুতাহারী ও আহাদ মোহাম্মদীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

মাসুদ রানা জানান, অনেক দিন ধরেই তাদের কফিল ও তার বন্ধুরা বাংলাদেশে আসার আগ্রহ প্রকাশ করে আসছিলেন। ছোট ভাইয়ের বিয়েকে উপলক্ষ করে তারা সৌদি আরব থেকে বাংলাদেশে এসেছেন। তাদের এই আগমনে পরিবার অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।

বর মো. বাপ্পিও বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত। তার বিয়েতে বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি পরিবার ও এলাকাবাসীর জন্য বাড়তি আনন্দের উপলক্ষ হয়ে ওঠে।

বাপ্পির বাবা সুদন মিয়া বলেন, “আমার ছেলের বিয়েতে তার মালিক সুদূর সৌদি আরব থেকে এসেছেন। এটি আমাদের পরিবারের জন্য গর্বের বিষয়। এমন ঘটনা আমাদের এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি।”

স্থানীয়দের ভাষ্য, সিঙ্গারবিল ইউনিয়নের মধ্যপাড়ায় এ ধরনের বিদেশি অতিথির আগমন এই প্রথম। বিশেষ করে হেলিকপ্টারযোগে তাদের আগমন পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই এটিকে এলাকার জন্য একটি স্মরণীয় ঘটনা হিসেবে দেখছেন।

এলাকাবাসীর আশা, সৌদি অতিথিদের সঙ্গে এই সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে স্থানীয় তরুণদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে। তাদের মতে, দক্ষ জনশক্তির জন্য বিদেশে কাজের নতুন সম্ভাবনার দ্বারও উন্মোচিত হতে পারে।

প্রবাসী যুবক বাপ্পির বিয়ে এবং সৌদি অতিথিদের ব্যতিক্রমী আগমনকে ঘিরে মধ্যপাড়া গ্রাম এখন উৎসবের নগরীতে পরিণত হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসছেন হেলিকপ্টার দেখতে এবং অতিথিদের একনজর দেখার জন্য। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন বাপ্পির বিয়েকে দিয়েছে এক অনন্য মাত্রা, যা দীর্ঘদিন স্মরণে রাখবেন এলাকাবাসী।