ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বাল্যবিয়েতে কমে মেয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ Logo ব্যাটিং স্বর্গে ৮৫৯ রানের ওয়ানডে ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে শ্রীলঙ্কার ইতিহাস Logo ‘দ্য ডার্টি পিকচার ২’ তে কাজ করতে চান বিদ্যা বালান Logo দাম্মামগামী ৩ দিনের ফ্লাইট স্থগিত, রিয়াদ রুট বন্ধ ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত Logo রেয়ালকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে তেবাসের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ স্পেন সরকারের Logo শুধু টাইগার নয়, নজরদারিতে ছিলেন সালমান আমির ও রণবীর Logo প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার নিতে স্পেনে মেসি Logo ভালো চিত্রনাট্যের জন্য শিল্পীর অপেক্ষার শেষ থাকে না: ‘আড্ডানামায়’ সানজিদা প্রীতি Logo ঘরসজ্জায় যেভাবে রুচিশীল নতুনত্ব আনা যায় Logo সাজেক থেকে ৩ হাজার পর্যটককে উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী

কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ওসিয়ত অনুযায়ী ঢাকঢোল বাজিয়ে শতবর্ষী এক বৃদ্ধকে শেষ বিদায় ও দাফনের চেষ্টা করেছে তাঁর পরিবার।

রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাহেতেরটেকী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়িতে লাশের গোসল চলার সময় উঠানে ঢাকঢোল বাজিয়ে নাচানাচির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিবারটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে স্বাভাবিক নিয়মে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক বার্ধক্যজনিত কারণে ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি শামসুদ্দিন (১০০) মারা যান। তিনি ও তাঁর পরিবার নেত্রকোনার প্রয়াত পীর গাজী আকবর আলী রিজভীর মুরিদ এবং রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় আলেম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী, মাওলানা মোবারক হোসাইন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. সোহান এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন এবং মরহুমের পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

কাহেতেরটেকী গ্রামের মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি জানার পর এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করি। একপর্যায়ে তাঁরা বিষয়টি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানাজা ও দাফন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে রাজি হন।”

মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিন বলেন, “আমাদের পিতা রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা ও ওসিয়ত ছিল, মৃত্যুর পর যেন ঢাকঢোল বাজিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। শুধু পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্যই আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে আলেম সমাজ কোরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের বোঝালে আমরা সিদ্ধান্ত বদলে স্বাভাবিকভাবে দাফন সম্পন্ন করি।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানায়নি। তারপরও প্রকৃত ঘটনা জানতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”

জনপ্রিয়

বাল্যবিয়েতে কমে মেয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ

কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা

প্রকাশিত ১১:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ওসিয়ত অনুযায়ী ঢাকঢোল বাজিয়ে শতবর্ষী এক বৃদ্ধকে শেষ বিদায় ও দাফনের চেষ্টা করেছে তাঁর পরিবার।

রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাহেতেরটেকী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়িতে লাশের গোসল চলার সময় উঠানে ঢাকঢোল বাজিয়ে নাচানাচির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিবারটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে স্বাভাবিক নিয়মে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক বার্ধক্যজনিত কারণে ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি শামসুদ্দিন (১০০) মারা যান। তিনি ও তাঁর পরিবার নেত্রকোনার প্রয়াত পীর গাজী আকবর আলী রিজভীর মুরিদ এবং রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় আলেম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী, মাওলানা মোবারক হোসাইন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. সোহান এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন এবং মরহুমের পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

কাহেতেরটেকী গ্রামের মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি জানার পর এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করি। একপর্যায়ে তাঁরা বিষয়টি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানাজা ও দাফন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে রাজি হন।”

মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিন বলেন, “আমাদের পিতা রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা ও ওসিয়ত ছিল, মৃত্যুর পর যেন ঢাকঢোল বাজিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। শুধু পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্যই আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে আলেম সমাজ কোরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের বোঝালে আমরা সিদ্ধান্ত বদলে স্বাভাবিকভাবে দাফন সম্পন্ন করি।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানায়নি। তারপরও প্রকৃত ঘটনা জানতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”