ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা Logo বেনাপোলে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকদের মানববন্ধন: এস আলমের সম্পত্তি ক্রোকের দাবি Logo কর্মচারীর বিয়েতে সৌদি থেকে উড়ে এলেন কফিল Logo বিশ্বকাপ জিতলে দাড়ি-গোঁফ রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেন ইয়ামাল Logo বাজিতপুরে বজ্রপাতে পুরোহিতের মৃত্যু Logo ধনবাড়ীতে রহস্যজনক অগ্নিকাণ্ড ও পুকুরে বিষ প্রয়োগে মাছ নিধন Logo শাওমি নিয়ে এলো ৯.৭ ইঞ্চির নতুন রেডমি প্যাড ২ Logo নীলফামারীর ডিমলায় পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল দুই বোনের Logo ইনফিনিক্সের ‘ফুটবল ফিয়েস্তা’য় নিশ্চিত ক্যাশব্যাক ও মেগা পুরস্কার Logo বিশ্বকাপ ট্রফির সঙ্গে চ্যাম্পিয়ন দল কত টাকা পাবে

কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ওসিয়ত অনুযায়ী ঢাকঢোল বাজিয়ে শতবর্ষী এক বৃদ্ধকে শেষ বিদায় ও দাফনের চেষ্টা করেছে তাঁর পরিবার।

রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাহেতেরটেকী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়িতে লাশের গোসল চলার সময় উঠানে ঢাকঢোল বাজিয়ে নাচানাচির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিবারটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে স্বাভাবিক নিয়মে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক বার্ধক্যজনিত কারণে ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি শামসুদ্দিন (১০০) মারা যান। তিনি ও তাঁর পরিবার নেত্রকোনার প্রয়াত পীর গাজী আকবর আলী রিজভীর মুরিদ এবং রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় আলেম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী, মাওলানা মোবারক হোসাইন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. সোহান এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন এবং মরহুমের পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

কাহেতেরটেকী গ্রামের মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি জানার পর এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করি। একপর্যায়ে তাঁরা বিষয়টি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানাজা ও দাফন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে রাজি হন।”

মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিন বলেন, “আমাদের পিতা রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা ও ওসিয়ত ছিল, মৃত্যুর পর যেন ঢাকঢোল বাজিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। শুধু পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্যই আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে আলেম সমাজ কোরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের বোঝালে আমরা সিদ্ধান্ত বদলে স্বাভাবিকভাবে দাফন সম্পন্ন করি।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানায়নি। তারপরও প্রকৃত ঘটনা জানতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”

জনপ্রিয়

কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা

কটিয়াদীতে ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের চেষ্টা, আলেমদের হস্তক্ষেপে স্বাভাবিক জানাজা

প্রকাশিত ১১:৫৫:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৮ জুন ২০২৬

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে ওসিয়ত অনুযায়ী ঢাকঢোল বাজিয়ে শতবর্ষী এক বৃদ্ধকে শেষ বিদায় ও দাফনের চেষ্টা করেছে তাঁর পরিবার।

রোববার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব কাহেতেরটেকী মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। বাড়িতে লাশের গোসল চলার সময় উঠানে ঢাকঢোল বাজিয়ে নাচানাচির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

পরে স্থানীয় আলেম সমাজ ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিবারটি সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে স্বাভাবিক নিয়মে জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শারীরিক বার্ধক্যজনিত কারণে ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তি শামসুদ্দিন (১০০) মারা যান। তিনি ও তাঁর পরিবার নেত্রকোনার প্রয়াত পীর গাজী আকবর আলী রিজভীর মুরিদ এবং রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। পিতার মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা ঢাকঢোল বাজিয়ে দাফনের প্রস্তুতি নিতে শুরু করলে এলাকার সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় আলেম মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী, মাওলানা মোবারক হোসাইন, মো. জহিরুল ইসলাম, মো. সোহান এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উত্তেজিত জনতাকে শান্ত করেন এবং মরহুমের পরিবারের সঙ্গে আলোচনায় বসেন।

কাহেতেরটেকী গ্রামের মাওলানা তোফাজ্জল হক রাশেদী বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি জানার পর এলাকার লোকজনকে সঙ্গে নিয়ে মরহুমের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিনের সঙ্গে কোরআন-হাদিসের আলোকে আলোচনা করি। একপর্যায়ে তাঁরা বিষয়টি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং পূর্বের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে জানাজা ও দাফন স্বাভাবিকভাবে সম্পন্ন করতে রাজি হন।”

মরহুম শামসুদ্দিনের ছেলে খায়রুল ইসলাম ও নাজিমুদ্দিন বলেন, “আমাদের পিতা রেজভীয়া সুন্নি তরিকার অনুসারী ছিলেন। তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা ও ওসিয়ত ছিল, মৃত্যুর পর যেন ঢাকঢোল বাজিয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানানো হয়। শুধু পিতার শেষ ইচ্ছা পূরণের জন্যই আমরা এমন উদ্যোগ নিয়েছিলাম। পরে আলেম সমাজ কোরআন-হাদিসের আলোকে আমাদের বোঝালে আমরা সিদ্ধান্ত বদলে স্বাভাবিকভাবে দাফন সম্পন্ন করি।”

কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “লোকমুখে ঘটনাটি শুনেছি, তবে এ বিষয়ে কেউ থানায় লিখিত বা মৌখিকভাবে কিছু জানায়নি। তারপরও প্রকৃত ঘটনা জানতে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে।”