বাংলাদেশ পুলিশের ঢাকা রেঞ্জের উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) রেজাউল করিম মল্লিক পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (অতিরিক্ত আইজিপি) হয়েছেন। রোববার (৭ জুন) সকালে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁকে পুলিশের এই সর্বোচ্চ স্তরের র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেওয়া হয়।
পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স সূত্রে জানা গেছে, ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির এবং অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন নবপদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাকে অতিরিক্ত আইজিপির র্যাংক ব্যাজ পরিয়ে দেন। এ সময় উপস্থিত পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে আন্তরিক অভিনন্দন ও ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। এই পদোন্নতির মাধ্যমে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশ পুলিশের নীতি-নির্ধারণী ও শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাতারে যুক্ত হলেন।
প্রশাসনিক ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, রেজাউল করিম মল্লিক ১৭তম বিসিএস (পুলিশ) ক্যাডারের একজন অত্যন্ত দক্ষ ও চৌকস কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯৮ সালে বাংলাদেশ পুলিশে যোগদান করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল পদে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ বা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-এর প্রধান হিসেবেও সফলভাবে দায়িত্ব সামলেছেন। উল্লেখ্য, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কারণে তাঁকে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে পদোন্নতি বঞ্চিত রাখা হয়েছিল। ২০২৪ সালে छात्र-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে পুলিশ রেফারেন্স অনুযায়ী পুলিশ সুপার (এসপি) থেকে ডিআইজি পদে পদোন্নতি দেয়।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে তাঁকে পুলিশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রশাসনিক উইং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। ঢাকা রেঞ্জের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি ঢাকা বিভাগের আওতাধীন বিভিন্ন জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, অপরাধ দমন এবং মাঠপর্যায়ে জনবান্ধব পুলিশিং কার্যক্রম জোরদারে অত্যন্ত সক্রিয় ও দূরদর্শী ভূমিকা পালন করেন।
পুলিশের এই শীর্ষ কর্মকর্তা আগামী ৩০ জুন চাকরি জীবন থেকে স্বাভাবিক অবসরে (এলপিআর) যাওয়ার কথা রয়েছে। অবসরে যাওয়ার ঠিক প্রাক্কালে সরকারের এই উচ্চতর পদোন্নতিকে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের সততা, পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার এক অনন্য রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট ও সহকর্মীরা।


























