ঢাকা ১২:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিলেন নৈশপ্রহরী Logo পিছিয়ে পড়েও জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু দক্ষিণ কোরিয়ার Logo ব্রাজিলের জার্সি পরে দানবাক্স চুরির সময় তরুণ আটক Logo কবর খুঁড়ে মিলল প্রাচীন ‘পাথর’, আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামে উত্তেজনা Logo বিশ্বকাপের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাতালেন শাকিরা Logo বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল Logo শার্শায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি কর্মীকে হাতুড়িপেটা Logo কৃত্রিম হাত ও প্রতিরক্ষা মিসাইল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পাচ্ছেন ববি শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল Logo পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল

কবর খুঁড়ে মিলল প্রাচীন ‘পাথর’, আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামে উত্তেজনা

কবর খুঁড়ে মিলল প্রাচীন ‘পাথর’, আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামে উত্তেজনা

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কালুকান্দর গ্রামে কবর খনন করতে গিয়ে অলৌকিক চিহ্নযুক্ত পাঁচটি প্রাচীন পাথর সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অলৌকিকতার গল্প সাজিয়ে গোপন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে কালুকান্দর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মণ্ডল মারা গেলে গ্রামের গোরস্থানে তার কবর খননের দায়িত্ব পান বাহার আলী, শরিফুল ইসলাম ও শফিউদ্দিন। কবর খননের সময় কোমরসমান গভীরতায় কালো, সাদা, ধূসর ও বাদামি রঙের পাঁচটি পাথর সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বস্তুগুলোর নিচের অংশে ‘আল্লাহু’ লেখা ছিল।

গ্রামবাসীরা সাময়িকভাবে বস্তুগুলো বাহার আলীর কাছে সংরক্ষণের জন্য রাখেন। দাফনের চার দিন পর নিহতের বড় ছেলে ইউনুস আলী পরিবারের সদস্যদের দেখানোর কথা বলে পাথরগুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন বাহার আলী সেগুলো ফেরত চাইলে ইউনুস আলী জানান, স্থানীয় বুজুর্গ ও মুরব্বিদের পরামর্শে ফজরের নামাজের পর তিনি পাথরগুলো তার বাবার কবরে পুনরায় রেখে এসেছেন।

তবে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, কাউকে না জানিয়ে ভোরবেলায় একাই কবরে পাথরগুলো রেখে আসার দাবি রহস্যজনক। মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন পাচার বা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এমন নাটক সাজানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তিন দফা সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও ইউনুস আলী মাত্র একবার উপস্থিত হন। বাকি দুই বৈঠকে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। পরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা দাবি করেন, মুরব্বিদের পরামর্শ অনুযায়ী পাথরগুলো কবরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তার স্বামীর কবর পুনরায় খনন না করার জন্য গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ইউনুস আলীর অনুপস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের অসংলগ্ন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুর করিম আরজু বলেন, “পোরশা অঞ্চলের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। মাটির নিচে হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শন থাকার সম্ভাবনা অস্বাভাবিক নয়। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো কোনো প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হতে পারে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পেলে সরকারি উদ্যোগে এলাকায় খননকাজ পরিচালনা করে সম্ভাব্য পুরাকীর্তি উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কালুকান্দর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।

জনপ্রিয়

কুড়িয়ে পাওয়া ২০ লাখ টাকা মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিলেন নৈশপ্রহরী

কবর খুঁড়ে মিলল প্রাচীন ‘পাথর’, আত্মসাতের অভিযোগে গ্রামে উত্তেজনা

প্রকাশিত ০৯:২৪:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

নওগাঁর পোরশা উপজেলার ঘাটনগর ইউনিয়নের কালুকান্দর গ্রামে কবর খনন করতে গিয়ে অলৌকিক চিহ্নযুক্ত পাঁচটি প্রাচীন পাথর সদৃশ বস্তু উদ্ধারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল্যবান প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো আত্মসাতের উদ্দেশ্যে অলৌকিকতার গল্প সাজিয়ে গোপন করা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ছয় মাস আগে কালুকান্দর গ্রামের বাসিন্দা মোস্তফা মণ্ডল মারা গেলে গ্রামের গোরস্থানে তার কবর খননের দায়িত্ব পান বাহার আলী, শরিফুল ইসলাম ও শফিউদ্দিন। কবর খননের সময় কোমরসমান গভীরতায় কালো, সাদা, ধূসর ও বাদামি রঙের পাঁচটি পাথর সদৃশ বস্তু পাওয়া যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বস্তুগুলোর নিচের অংশে ‘আল্লাহু’ লেখা ছিল।

গ্রামবাসীরা সাময়িকভাবে বস্তুগুলো বাহার আলীর কাছে সংরক্ষণের জন্য রাখেন। দাফনের চার দিন পর নিহতের বড় ছেলে ইউনুস আলী পরিবারের সদস্যদের দেখানোর কথা বলে পাথরগুলো নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। পরদিন বাহার আলী সেগুলো ফেরত চাইলে ইউনুস আলী জানান, স্থানীয় বুজুর্গ ও মুরব্বিদের পরামর্শে ফজরের নামাজের পর তিনি পাথরগুলো তার বাবার কবরে পুনরায় রেখে এসেছেন।

তবে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, কাউকে না জানিয়ে ভোরবেলায় একাই কবরে পাথরগুলো রেখে আসার দাবি রহস্যজনক। মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শন পাচার বা আত্মসাতের উদ্দেশ্যেই এমন নাটক সাজানো হয়েছে বলে তাদের সন্দেহ।

এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে তিন দফা সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হলেও ইউনুস আলী মাত্র একবার উপস্থিত হন। বাকি দুই বৈঠকে তিনি বিভিন্ন অজুহাতে অনুপস্থিত থাকেন। পরে ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী তার বাড়িতে গেলে তাকে পাওয়া যায়নি। তবে তার মা দাবি করেন, মুরব্বিদের পরামর্শ অনুযায়ী পাথরগুলো কবরে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং তিনি তার স্বামীর কবর পুনরায় খনন না করার জন্য গ্রামবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।

ইউনুস আলীর অনুপস্থিতি এবং পরিবারের সদস্যদের অসংলগ্ন বক্তব্যে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ আরও বাড়ছে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সরকারি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার ও জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান ফজলুর করিম আরজু বলেন, “পোরশা অঞ্চলের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। মাটির নিচে হাজার বছরের পুরোনো নিদর্শন থাকার সম্ভাবনা অস্বাভাবিক নয়। উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলো কোনো প্রাচীন সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হতে পারে। প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা পেলে সরকারি উদ্যোগে এলাকায় খননকাজ পরিচালনা করে সম্ভাব্য পুরাকীর্তি উদ্ধারের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে বর্তমানে কালুকান্দর গ্রামে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সচেতন মহল দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে সম্ভাব্য রাষ্ট্রীয় সম্পদ উদ্ধার এবং ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করেছেন।