ঢাকা ০১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা Logo বাজেটকে স্বাগত জানিয়ে কবি নজরুল কলেজ ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল Logo শার্শায় চাঁদা না দেওয়ায় বিএনপি কর্মীকে হাতুড়িপেটা Logo কৃত্রিম হাত ও প্রতিরক্ষা মিসাইল উদ্ভাবনের স্বীকৃতি পাচ্ছেন ববি শিক্ষার্থী সুজন চন্দ্র পাল Logo পদত্যাগ করলেন রাবি ছাত্র উপদেষ্টা অধ্যাপক আমিরুল Logo প্রধানমন্ত্রীর সফর শেষে তুলে নেওয়া হলো সড়কের ইট Logo যোহরের নামাজের মধ্য দিয়ে কবি নজরুল কলেজের নতুন মসজিদের যাত্রা শুরু Logo ব্রাজিলের জার্সি গায়ে মসজিদের জুতা চুরি, চুল কেটে দিল জনতা Logo যুবদলের কেন্দ্রীয় আইন সম্পাদক হলেন এড. মুর্তজা আল কামাল Logo লাইকা-পাওয়ারড ট্রিপল ক্যামেরার ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘শাওমি ১৭টি’

বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জব্দ করা ভারতীয় পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে বন্দরের কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমির মাহামুদ আরেফিন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নিরাপদ শেড থেকে পণ্য গায়েবের এই ঘটনায় বন্দর ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ গত ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি পণ্যের চালান আমদানি করে, যার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। চালানটি বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়েছিল। আমদানি নথিতে ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ১০৮ কার্টনে ঘোষণাবহির্ভূত দামি ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার এবং বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে ১৪ মার্চ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যগুলো জব্দ করে শেডটি সিলগালা করে দেয়।

গত ২ জুন কাস্টমস কর্মকর্তারা জব্দ পণ্যগুলো পুনরায় পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন, দামি ভারতীয় পণ্যগুলো সরিয়ে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখা হয়েছে। এই জালিয়াতিতে বন্দরের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহ করছে কাস্টমস। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান দাবি করেছেন, এই চালানটি খালাসের জন্য তাঁদের প্রতিষ্ঠান কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। রাজু নামের এক ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং কাস্টমসকে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানানো হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান জানান, ভারতীয় পণ্যের বদলে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো দেশের বড় দুটি শিল্পগ্রুপের নাম মুদ্রিত কার্টনে রাখা ছিল। এ ছাড়া দেশীয় সংবাদপত্র ও কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই শেডে নেওয়া হয়েছিল।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, ১৮ জনের নামে মামলা দায়েরের পর পুলিশ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

বেনাপোল বন্দরে ৬ কোটি টাকার পণ্য আত্মসাৎ, ১৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত ১০:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

বেনাপোল স্থলবন্দরের ৩৭ নম্বর শেড থেকে প্রায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের জব্দ করা ভারতীয় পণ্য আত্মসাতের অভিযোগে বন্দরের কর্মকর্তাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করেছে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। মামলায় ১১ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

গত বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় বেনাপোল কাস্টমস হাউসের সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা আমির মাহামুদ আরেফিন বাদী হয়ে বেনাপোল পোর্ট থানায় মামলাটি দায়ের করেন। নিরাপদ শেড থেকে পণ্য গায়েবের এই ঘটনায় বন্দর ব্যবহারকারী বাণিজ্যিক সংগঠনের নেতাদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, যশোরের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘সাফা ইমপেক্স’ গত ১২ মার্চ ভারত থেকে একটি পণ্যের চালান আমদানি করে, যার সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট ছিল বেনাপোলের মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজ। চালানটি বন্দরের ৩৭ নম্বর শেডে রাখা হয়েছিল। আমদানি নথিতে ‘বেকিং পাউডার’ ঘোষণা দেওয়া হলেও কাস্টমসের কায়িক পরীক্ষায় ১০৮ কার্টনে ঘোষণাবহির্ভূত দামি ভারতীয় শাড়ি, থ্রি-পিস, বেবিওয়্যার এবং বিভিন্ন প্রসাধনী পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে ২ কোটি ৩২ লাখ ৬৪ হাজার ৫১৫ টাকার রাজস্ব ফাঁকির চেষ্টা করা হচ্ছিল। পরে ১৪ মার্চ কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পণ্যগুলো জব্দ করে শেডটি সিলগালা করে দেয়।

গত ২ জুন কাস্টমস কর্মকর্তারা জব্দ পণ্যগুলো পুনরায় পরিদর্শন করতে গিয়ে দেখেন, দামি ভারতীয় পণ্যগুলো সরিয়ে সেখানে নিম্নমানের দেশীয় পণ্য রাখা হয়েছে। এই জালিয়াতিতে বন্দরের অভ্যন্তরীণ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সরাসরি জড়িত থাকার সন্দেহ করছে কাস্টমস। ইতোমধ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষকে প্রায় ২ কোটি ৩৩ লাখ টাকার রাজস্ব পরিশোধের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এর প্রেক্ষিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং সংশ্লিষ্ট শেড ইনচার্জকে প্রত্যাহার করে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে অভিযুক্ত সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স হুদা এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী আনিসুর রহমান দাবি করেছেন, এই চালানটি খালাসের জন্য তাঁদের প্রতিষ্ঠান কোনো বিল অব এন্ট্রি দাখিল করেনি। রাজু নামের এক ব্যক্তি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে এই অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে এবং কাস্টমসকে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানানো হয়েছে।

বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনার মোহাম্মদ ফাইজুর রহমান জানান, ভারতীয় পণ্যের বদলে যে দেশীয় পণ্য পাওয়া গেছে, সেগুলো দেশের বড় দুটি শিল্পগ্রুপের নাম মুদ্রিত কার্টনে রাখা ছিল। এ ছাড়া দেশীয় সংবাদপত্র ও কুরিয়ার সার্ভিসের স্টিকারযুক্ত পিপি বস্তাও পাওয়া গেছে, যা প্রমাণ করে পণ্যগুলো দেশের ভেতর থেকেই শেডে নেওয়া হয়েছিল।

বেনাপোল পোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফ হোসেন জানান, ১৮ জনের নামে মামলা দায়েরের পর পুলিশ গুরুত্বের সাথে বিষয়টি তদন্ত করছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই আসামিদের নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না, তবে দ্রুত জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।