যশোরের শার্শা উপজেলার গোগা ইউনিয়নের পাঁচভুলাট গ্রামে চাঁদা না পেয়ে কাজী বশির উদ্দীন (৪০) নামে এক বিএনপি কর্মীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতুড়িপেটা করেছে সন্ত্রাসীরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
আহত বশির উদ্দীন পাঁচভুলাট গ্রামের কাজী শামজুজ্জোহার ছেলে এবং দৈনিক ইত্তেফাকের বেনাপোল প্রতিনিধি কাজী শাহজাহান সবুজের ভাই। তিনি পেশায় একজন পল্লী চিকিৎসক এবং আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গোগা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী।
আহত বশির উদ্দীন জানান, গত বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় তিনি পাঁচভুলাট গ্রামে তাঁর ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে বসেছিলেন। এ সময় আনারুল, রাজুবদ্দী, সুজন ও রিপনসহ ৮-১০ জনের একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী এসে তাঁর ওষুধের দোকানে অতর্কিত হামলা চালায়। তারা হাতুড়ি দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারপিট করতে থাকে। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে দোকান সংলগ্ন বাড়ির ভেতরে নিয়ে গেলে দুর্বৃত্তরা বাড়ি ঘেরাও করে সবাইকে জিম্মি করে রাখে এবং ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।
এই পরিস্থিতিতে স্থানীয় লোকজন জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে বিষয়টি জানালে শার্শা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজী বশির উদ্দীনকে উদ্ধার করে। পুলিশ প্রথমে তাঁকে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (নাভারন) নিয়ে যায়, তবে অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের চিকিৎসক ডা. তন্ময় জানান, পিটুনির কারণে বশির উদ্দীনের ডান হাত ভেঙে গেছে এবং সারা শরীরে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এছাড়া তাঁর বাম পায়ে হাতুড়ির আঘাত এবং ডান পায়ে কেটে যাওয়ায় সেলাই দেওয়া হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনার পর থেকে এলাকার সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তা শঙ্কা বিরাজ করছে। হামলার বিষয়ে জানতে অভিযুক্ত আনারুল ও রাজুবদ্দীর স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কারও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজী বশিরকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এই বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
























