বিভিন্ন রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তিনটি ভিন্ন ভিন্ন সরকারের সময় রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব পালন শেষে অবশেষে পদত্যাগ করলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মোঃ সাহাবুদ্দিন। তীব্র শারীরিক অসুস্থতাকে কারণ দেখিয়ে সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের নিকট পদত্যাগপত্র দাখিল করেছেন। এর মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম এক ঘটনাবহুল রাষ্ট্রপতির মেয়াদের অবসান ঘটল।
২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মোঃ সাহাবুদ্দিন। তবে তাঁর কার্যকাল ছিল নানা ঐতিহাসিক ও রাজনৈতিক চড়াই-উৎরাইয়ে পূর্ণ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের মুখে তৎকালীন শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। সেই চরম সাংবিধানিক ও শাসনতান্ত্রিক সংকটকালে রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে তিনি সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের মতামত গ্রহণ করেন এবং তার ভিত্তিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করেন।
এরপর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে দেশে নতুন রাজনৈতিক ধারা সূচনা হয়। রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে পরামর্শক্রমে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার পর নবনির্বাচিত সরকারের আমলেও তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে বহাল ছিলেন। এভাবে আওয়ামী লীগ সরকার, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের আমলে—তিনটি ভিন্ন ভিন্ন মেয়াদে রাষ্ট্রপ্রধানের দায়িত্ব সামলান তিনি।
তবে দীর্ঘদিন ধরে তিনি বিভিন্ন জটিল শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। স্পিকারের কাছে পাঠানো পদত্যাগপত্রে তিনি জানান, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতার পাশাপাশি সম্প্রতি তাঁর ‘Autonomic Neuropathy’ নামক একটি জটিল রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝেমধ্যে ক্ষণিক সচেতনতা হারিয়ে ফেলেন।
শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা সম্ভব হচ্ছে না জানিয়ে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার জন্য তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র হস্তান্তরের পর তা গৃহীত হয়েছে। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুসারে জাতীয় সংসদের স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।































