চায়ের দেশ শ্রীমঙ্গলে ঘুরতে এসে চরম আতঙ্কের মুখোমুখি হয়েছেন এক পর্যটক দম্পতি। ‘মেঘমালতী হোমস্টে’ (Meghmaloti Homestay) নামক একটি রিসোর্টে থাকার সময় তাদের ঘরের গোপন মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি এবং ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগ উঠেছে রিসোর্ট কর্মীদের বিরুদ্ধে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই জঘন্য কর্মকাণ্ড প্রকাশ পাওয়ার পর আইনি ব্যবস্থা বা স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেওয়ার বদলে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ তাদের ফেসবুক পেজ ডিঅ্যাক্টিভ করে দেয়। পরবর্তীতে পরিচয় গোপন করতে রিসোর্টটির নাম বদলে রাখা হয়েছে ‘বেলাশেষে’ (Belasheshe)।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন নগরী শ্রীমঙ্গলের ওই রিসোর্টটিতে উঠেছিলেন এক দম্পতি। সেখানে অবস্থানকালে রিসোর্টের কর্মীরা অত্যন্ত গোপনে তাদের বেডরুম ও ওয়াশরুমের অন্তর্বর্তী মুহূর্তের দৃশ্য ধারণ করে। পরবর্তীতে সেসব ভিডিও ও ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করে রিসোর্টটির অসাধু স্টাফরা।
ঘটনাটি অনলাইনে জানাজানি হতেই ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে। তবে অভিযোগ উঠেছে, মূল অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নিশ্চিতের আগেই রিসোর্টটি গোপনে নতুন পরিচয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা চালাচ্ছে। ‘মেঘমালতী হোমস্টে’ পেজ বন্ধ করে দ্রুত নাম পরিবর্তন করে ‘বেলাশেষে’ নামে আবার অনলাইনে বুকিং নেওয়া শুরু করেছে তারা। অপরাধ ঢাকতে এবং ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে কর্তৃপক্ষের এই ‘ছলনার আশ্রয়’ নেওয়াকে মারাত্মক হুমকি ও দায়িত্বজ্ঞানহীন হিসেবে দেখছেন সচেতন পর্যটকরা।
পর্যটন বিশেষজ্ঞদের মতে, দামী বা বিলাসবহুল রিসোর্ট মানেই যে শতভাগ নিরাপদ—এই ঘটনার পর সেই ভুল ধারণাও ভেঙে গেছে। কোটি টাকার ব্যবসা রক্ষার অজুহাতে মালিকপক্ষ যদি স্টাফদের অপরাধের দায় না নেয় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি কঠোর ব্যবস্থা না নেয়, তবে দেশের পর্যটন শিল্প বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে। ঘটনার প্রকৃত অপরাধী গ্রেফতার ও সঠিক বিচার না হওয়া পর্যন্ত ওই রিসোর্টের যাবতীয় কার্যক্রম স্থগিত রাখার জোর দাবি উঠেছে।
এদিকে, পরিবার কিংবা স্ত্রীকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন সমুদ্র ও পাহাড়ি এলাকায় ঘুরতে যাওয়া পর্যটকদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা। যেকোনো রিসোর্ট বা হোটেলের ঘরে ওঠার পর বেডরুম ও ওয়াশরুমে হিডেন বা গোপন ক্যামেরা আছে কি না, তা ভালোভাবে পরীক্ষা করে নেওয়ার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতে বলা হয়েছে।





























