ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, দেশকে জোরপূর্বক বশ্যতা স্বীকার করানোর কোনো প্রচেষ্টা মেনে নেবে না ইরান। তিনি বলেন, ইরান তার অধিকার রক্ষা করে যাবে এবং সামরিক ও প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বজায় রাখবে।
প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার শপথগ্রহণের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে প্রচারিত একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে পেজেশকিয়ান বলেন, “যদি তারা আমাদের জোরপূর্বক বশ্যতা স্বীকার করাতে চায়, আমরা লড়াই করব। আমরা পিছু হটব না, মাথা নত করব না।”
তিনি আরও বলেন, “যখন আমরা আমাদের অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম, তখন কেন আমরা ইসরায়েলের কাঙ্ক্ষিত পথে চলব?”
পেজেশকিয়ান ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা শক্তি ত্যাগের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বলেন, এগুলো এমন বিষয়, যেখানে দেশ কোনো আপস করবে না।
তিনি বলেন, “আমাদের সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ও প্রতিরক্ষা শক্তি কেড়ে নেওয়া হলে এবং শত্রুদের সামনে মাথা নত করলে, তা কি আমাদের জন্য সঠিক হবে? আমরা এমন কাজ করব না।”
মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসনের সর্বশেষ পর্বে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়াকে আত্মরক্ষামূলক পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন পেজেশকিয়ান। তিনি দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর প্রশংসা করে বলেন, ইরানের অ্যারোস্পেস ফোর্স, সেনাবাহিনী, আইআরজিসি ও অন্যান্য সদস্যরা শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে।
তিনি বলেন, “আমরা আত্মরক্ষা করতে বাধ্য হয়েছিলাম। আল্লাহর কসম, আমাদের যোদ্ধারা—অ্যারোস্পেস ফোর্সেস, সেনাবাহিনী, আইআরজিসি এবং সব সেনাসদস্য—প্রচণ্ড প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল এবং বিশ্বকে বিস্মিত করেছে।”
পেজেশকিয়ান অভিযোগ করেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে ইরানের বিরুদ্ধে একত্রিত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, “ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোকে আমাদের বিরুদ্ধে একত্রিত করতে চাইছে। আমরা আমাদের পক্ষ থেকে তা ঘটতে না দেওয়ার জন্য কাজ করছি।”
তিনি আরও বলেন, উসকানিমূলক প্রচেষ্টা সত্ত্বেও ইরান মুসলিম ঐক্যে বিশ্বাস করে। শিয়া ও সুন্নি বিভাজনকে মুসলমানদের বিচ্ছিন্ন করার ভিত্তি হিসেবে দেখে না ইরান।
পেজেশকিয়ানের ভাষায়, “মুসলমানরা একে অপরের ভাই।” তিনি বলেন, এটি কোনো স্লোগান নয়, বরং তার আন্তরিক বিশ্বাস।






























