জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে, বিশ্ব এখন চরম আবহাওয়ার এক ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়ে প্রবেশ করেছে। এল নিনোর প্রভাবে বিশ্বের জলবায়ু ও আবহাওয়ার ধরনে বড় ধরনের অস্থিতিশীলতা দেখা দিচ্ছে, যা ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, গত ৭০ বছরের মধ্যে এবারের এল নিনো সবচেয়ে শক্তিশালী রূপ নিতে পারে এবং মানবসৃষ্ট বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এটি নজিরবিহীন বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে।
এই প্রাকৃতিক ঘটনার ফলে পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্ন ভিন্ন পরিস্থিতির উদ্ভব হচ্ছে। কোথাও প্রচণ্ড খরা ও দাবানলের প্রকোপ বাড়ছে, আবার কোথাও অতিবৃষ্টির কারণে দেখা দিচ্ছে বন্যা ও ভূমিধস। উদাহরণস্বরূপ, প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও আমেরিকায় খরার ঝুঁকি বেড়েছে, যা বৈশ্বিক বাণিজ্যেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পানামা খালে পানির স্তর কমে যাওয়ায় জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়ায় দাবানল নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ার সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য, চীনের টাইফুন প্রবণতা এবং পূর্ব আফ্রিকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি নিয়েও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেবল এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক কারণ নয়, বরং অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও দুর্বল অবকাঠামোগত কাঠামোর কারণেই ক্ষয়ক্ষতি বেশি হচ্ছে। তাই কেবল আগাম সতর্কবার্তা নয়, বরং বিপর্যয় মোকাবিলায় দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও শক্তিশালী অবকাঠামো গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।


































