বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে সম্প্রতি এক বিশেষ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যায় জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ ‘লেটোগান ও কবিগান’ নিয়ে এক মনোজ্ঞ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। জাতীয় সংগীত ও নৃত্যকলা কেন্দ্র মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে নজরুলের কৈশোরের সৃজনশীলতা, লোকজ সংস্কৃতির সঙ্গে তার গভীর সংযোগ এবং বিদ্রোহী সত্তার উন্মেষ নিয়ে আলোচনা ও পরিবেশনা তুলে ধরা হয়। অনুষ্ঠানের সূচনা হয় ড. কমল খালিদের একটি গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ পাঠের মাধ্যমে, যেখানে কবির সাহিত্য ও সংগীত সাধনার উৎসমূলে লোক ঐতিহ্যের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেন, নজরুলের দ্রুত গান ও কবিতা রচনার যে অসামান্য ক্ষমতা, তার ভিত্তি গড়ে উঠেছিল শৈশবে লেটোদলের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা থেকেই। লেটোগানের তৎকালীন প্রতিযোগী ও বিশ্লেষণধর্মী ধারা কবির বৌদ্ধিক বিকাশে বড় ভূমিকা রেখেছিল। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসুমা রহমান তানি।
সাংস্কৃতিক আয়োজনের দ্বিতীয় পর্বে ছিল নজরুলের লেটোগান ‘অন্ধরাজা’ এবং ‘কবির লড়াই’-এর শৈল্পিক উপস্থাপনা। ড. কমল খালিদ ও জীবন চৌধুরীর পরিচালনায় বিভিন্ন লেটোদল ও কবিয়ালরা মঞ্চে নজরুলের লোকজ গানগুলো পরিবেশন করেন। শিল্পীদের সম্মিলিত সংগীত ও বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনায় কবি নজরুলের সৃষ্টিশীল জীবনের সেই চিরচেনা রূপটি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায় দর্শক সারিতে।




































