বাংলাদেশে বসবাসরত সব নাগরিককে সমান অধিকার ও মর্যাদার অংশীদার হিসেবে দেখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। সম্প্রতি সরকারের নীতিগত অবস্থান স্পষ্ট করে জানানো হয়েছে যে, দেশের ভেতরে বসবাসকারী কোনো নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়কে আলাদাভাবে সংখ্যালঘু হিসেবে চিহ্নিত করার কোনো প্রয়োজন নেই। রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মধ্যে সবাই সমান সাংবিধানিক অধিকার ভোগ করবেন এবং তাদের পরিচয় কেবল দেশের নাগরিক হিসেবেই বিবেচিত হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে উল্লেখ করেন যে, সংখ্যা দিয়ে মানুষের নাগরিক অধিকার বা মর্যাদা মাপা যায় না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে প্রত্যেকেই সমান সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার যোগ্য। অতীতে বিভিন্ন সময় এই ধরনের বিভাজনমূলক পরিভাষা ব্যবহারের কারণে সমাজে নানা ধরনের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল, যা থেকে এখন বেরিয়ে আসার সময় এসেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের নিরাপত্তা এবং মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে প্রশাসন সর্বদাই সচেষ্ট রয়েছে। ধর্ম, বর্ণ কিংবা জাতিগত পরিচয়ের ঊর্ধ্বে গিয়ে আইনের চোখে সবাই সমান—এই নীতি বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসন বদ্ধপরিকর। কোনো বিশেষ গোষ্ঠীকে অরক্ষিত বা প্রান্তিক মনে করার অবকাশ নেই, কারণ রাষ্ট্র সবার জন্য সমানভাবে কাজ করছে।
সামাজিক সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং দেশের সকল মানুষের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি ঐক্য প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এই ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা আশা প্রকাশ করেছেন যে, নাগরিক পরিচয়ের এই ধারণা বাস্তবায়িত হলে সমাজে বৈষম্য কমবে এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়ে তোলা আরও সহজতর হবে।


































