চলতি মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বার্ষিক অধিবেশন শুরু হতে যাচ্ছে। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক সভার আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারতে কোনো আনুষ্ঠানিক সফর করার সম্ভাবনা নেই বলে স্পষ্ট করেছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। সম্প্রতি সিলেটে ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এই তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘে যোগদানের উদ্দেশ্যে আমেরিকা সফর শেষে দেশে ফেরার পরই কেবল নয়াদিল্লি সফরের সুনির্দিষ্ট সময় ও তারিখ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। নতুন বাংলাদেশের অদম্য অগ্রযাত্রার বার্তা বিশ্বমঞ্চে পৌঁছে দিতেই প্রধানমন্ত্রী এবারের জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশ নিতে যাচ্ছেন বলে জানান তিনি।
বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতির মূল ভিত্তি হলো ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ বা সবার আগে দেশের স্বার্থ—এমন মন্তব্য করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার গঠনের পর থেকেই বিশ্বমঞ্চের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট ভারসাম্য বজায় রাখা হচ্ছে। বেইজিং, ওয়াশিংটন, রিয়াদ কিংবা মস্কো—সব দেশের সঙ্গেই কৌশলগত এবং দ্বিপাক্ষিক স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। বিগত কয়েক মাসের কূটনৈতিক তত্পরতায় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের অবস্থান এবং কৌশলগত গুরুত্ব বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। তাছাড়া ভুটান, বাহরাইন ও শ্রীলঙ্কার মতো আঞ্চলিক দেশগুলোর সঙ্গেও কূটনৈতিক সহযোগিতা ও অংশীদারত্ব জোরদার করার কাজ চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
ভারতের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের মূল জাতীয় স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রেখেই ভারতের সঙ্গে একটি সম্মানজনক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ওপর ভিত্তি করেই এই সম্পর্ককে এগিয়ে নিতে হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। এই প্রেক্ষাপটে ভারতীয় হাইকমিশনারের সঙ্গে ইতিপূর্বে একাধিকবার তাঁর ফলপ্রসূ বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশের স্বার্থের বিষয়গুলো এখন ভারতও উপলব্ধি করতে শুরু করেছে। পাশাপাশি, আসন্ন জাতিসংঘ অধিবেশনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর একটি দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি গণমাধ্যমকে অবহিত করেন।
বিশ্ব রাজনীতিতে বাংলাদেশের সুদৃঢ় অবস্থানের কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে আমাদের সশস্ত্র বাহিনী বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার স্বাক্ষর রেখে চলেছে। অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নীতি এবং পররাষ্ট্রনীতিকে একে অপরের পরিপূরক হিসেবে গড়ে তোলার ওপরও তিনি বিশেষ জোর দেন। বিশেষ করে বিমান খাতের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে একটি অন্যতম প্রধান এভিয়েশন হাব বা বিমান চলাচলের প্রবেশদ্বারে পরিণত করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। সঠিক কৌশল ও ব্যবসায়িক যৌক্তিকতা না থাকায় অতীতে আকাশপথের সুবিধা হারিয়ে দেশ বড় অঙ্কের রাজস্ব হারিয়েছে উল্লেখ করে তিনি ভবিষ্যতে এই খাতে দেশের কৌশলগত ভৌগোলিক সুবিধা পূর্ণমাত্রায় ব্যবহারের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।































