দেশের জ্বালানি খাতের নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরতা কমাতে ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত প্রধান তেল শোধনাগারটির উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানের তুলনায় তিনগুণ বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে প্রতিষ্ঠানটি থেকে বছরে প্রায় ৪৫ লাখ মেট্রিক টন তেল শোধন করা সম্ভব হবে, যা পূর্বে ছিল মাত্র ১৫ লাখ মেট্রিক টন। সরকারের এই দূরদর্শী পদক্ষেপে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদী স্থিতিশীলতা আসবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।
এই বিশাল প্রকল্পের অর্থায়নের জন্য সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (আইডিবি) মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ‘মডার্নাইজেশন অ্যান্ড এক্সপ্যান্ডিং ইস্টার্ন রিফাইনারি ইন বাংলাদেশ’ শীর্ষক এই প্রকল্প বাস্তবায়নে আইডিবি ১ হাজার ৪ দশমিক ২৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থায়ন করবে, যার বাংলাদেশি মুদ্রার পরিমাণ প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে একক কোনো প্রকল্পে এটিই আইডিবির এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ আর্থিক বিনিয়োগ। সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং আইডিবির পক্ষে কান্ট্রি প্রোগ্রামসের ডিরেক্টর জেনারেল আনাসে আইসামি নিজ নিজ নথিপত্র বিনিময় করেন। এছাড়া ঐতিহাসিক এই মুহূর্তের সাক্ষী হতে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক গ্রুপের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ আল জাসের। এই বড় অংকের অর্থায়ন চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও আইডিবির দীর্ঘদিনের উন্নয়ন অংশীদারত্ব এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
প্রকল্পটির কাজ শেষ হলে দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ইউরো-৫ মানসম্পন্ন পেট্রোলিয়াম পণ্য উৎপাদনের পথ উন্মুক্ত হবে। পরিশোধিত জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রার অপচয় রোধ হবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর আইডিবি গ্রুপের চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন, যেখানে বাংলাদেশের উন্নয়নে সংস্থাটির সহায়তা অব্যাহত রাখার দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। প্রধানমন্ত্রীও এই বৈঠকে সহজ শর্তে ঋণ ও অর্থায়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।





































