জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান সরকারের বিরুদ্ধে জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড এবং প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের তীব্র অভিযোগ তুলেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা হচ্ছে এবং প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা বারবার লঙ্ঘন করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এই ধরনের রাজনৈতিক ভাঁওতাবাজি কোনোভাবেই ক্ষমা করবে না বলে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। জনগণের মৌলিক অধিকার ও নায্য দাবি পুরোপুরি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তাদের এই রাজনৈতিক আন্দোলন রাজপথেই অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখী জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সম্প্রতি কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতে স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে সাধারণ মানুষ ও কর্মীরা রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছেন, অথচ তাদের সেই কাঙ্ক্ষিত দাবিগুলো আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে। সেই অসমাপ্ত দাবিগুলো বাস্তবায়ন করাই তাদের বর্তমান রাজপথের সংগ্রামের মূল লক্ষ্য এবং দাবি আদায় না করে তারা ঘরে ফিরে যাবেন না।
পথসভায় অন্যান্য শীর্ষ রাজনৈতিক নেতারাও সরকারের তীব্র সমালোচনা করে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দাবি উত্থাপন করেন। জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধীদলীয় উপনেতা ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের লংমার্চের ঘোষিত ছয় দফা দাবি অবিলম্বে বাস্তবায়নের জোর দাবি জানান। জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন যে, দেশের মানুষের তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের মতো জরুরি সেবা ও মৌলিক অধিকারগুলো সুনিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে, দেশের বিপুল সংখ্যক মানুষের মতামত ও রায় উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই এবং এই রায় বাস্তবায়ন না হলে সরকারকে ব্যর্থ বলে গণ্য করা হবে। খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক দেশের সার্বিক ভাগ্য পরিবর্তন ও সঠিক গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য নেতাকর্মীদের আরও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলেন।
উল্লেখ্য, ১১ দলীয় ঐক্যজোটের এই লংমার্চ কর্মসূচিটি রাজধানী থেকে শুরু হয়ে নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পথসভায় অংশগ্রহণের পর কুমিল্লায় এসে পৌঁছায়। কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদের সভাপতিত্বে এবং মহানগরী সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত এই পথসভায় জোটের বিভিন্ন শরিক দলের শীর্ষস্থানীয় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। কুমিল্লার পথসভা শেষে লংমার্চটি তাদের নির্ধারিত পরবর্তী গন্তব্য চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।




































