দীর্ঘ ১৭ বছরের দমনপীড়ন, অব্যবস্থাপনা এবং ব্যাপক দুর্নীতির কারণে দেশের প্রায় প্রতিটি খাতই ধ্বংসের চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে মন্তব্য করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। সাম্প্রতিক সময়ে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সার্ভিস ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন। মন্ত্রী বলেন যে, বিগত বছরগুলোতে চলা বিভিন্ন অনিয়ম ও অন্যায়ের প্রভাব কেবল স্বাস্থ্যখাত নয়, বরং রাষ্ট্রীয় জীবনের সর্বস্তরে গভীর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
স্বাস্থ্যখাতের বর্তমান সংকটের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী জানান যে, বর্তমান সরকার এই অবস্থার উত্তরণে অত্যন্ত আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে এবং প্রধানমন্ত্রী স্বাস্থ্যখাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। দেশজুড়ে জনবল সংকটের বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি জানান যে, শূন্য পদগুলোতে দ্রুত জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের যাবতীয় চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। তিনি হাসপাতালের সার্বিক সেবার মান উন্নত করে সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে সকলের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন।
এর আগে গৃহীত বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও সেগুলোর বাস্তবায়ন অগ্রগতি পর্যালোচনা করতেই তিনি মূলত রংপুর সফর করছেন বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। তিনি জানান যে, অ্যানেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের অভাবে পূর্বে যে আইসিইউ বেডগুলো চালু করা সম্ভব হয়নি, ইতোমধ্যে সেগুলোতে প্রয়োজনীয় পদায়ন সম্পন্ন হয়েছে এবং আগামী এক মাসের মধ্যে নতুন আইসিইউ বেডগুলো সম্পূর্ণরূপে চালু করা যাবে। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান ছাড়াও তিনি বাংলাদেশ কর্ম কমিশন সচিবালয়ের রংপুর আঞ্চলিক কার্যালয়ের উদ্বোধন করেন এবং পরবর্তীতে হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির মাসিক সভায় অংশগ্রহণ করেন।
রংপুরে সংঘটিত একটি পরিবারের চার সদস্যের লোমহর্ষক হত্যাকাণ্ড প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান যে, সরকার এই নৃশংস ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছে এবং কোনোভাবেই এটি মেনে নেওয়া যায় না। তদন্তকাজে কিছুটা সময় লাগার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন যে, ঘটনার নেপথ্য রহস্য উদঘাটন এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গভীরভাবে কাজ করছে। খুব শীঘ্রই একটি সুষ্ঠু তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হবে এবং দ্রুত বিচারকার্য সম্পন্ন করে অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
































