রাজধানীর বনানী এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের চাঞ্চল্যকর ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। গত ৫ সেপ্টেম্বর মহাখালী বাস টার্মিনাল এলাকায় পুলিশ ও র্যাবের একটি যৌথ দল অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। নিহত ওই ব্যক্তির নাম ইসমাইল হোসেন এবং তার বয়স ৫০ বছর। তিনি জামালপুর সদর উপজেলার জালাল উদ্দিনের সন্তান ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
প্রাথমিক অনুসন্ধানের তথ্যানুযায়ী, ইসমাইল হোসেন জমি বিক্রির ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থেকে গাজীপুরের দিকে রওনা হয়েছিলেন। যাত্রাপথে পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় এবং পরবর্তীতে কোনো এক সময়ে তার মরদেহটি বনানী এক্সপ্রেসওয়ের ওপরে ফেলে পালিয়ে যায় অপরাধীরা। আঙুলের ছাপ প্রযুক্তির সহায়তার মাধ্যমে পরবর্তীতে পুলিশ তার পরিচয় নিশ্চিত করতে সমর্থ হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে মাঠে নেমে র্যাব-১ এর আভিযানিক দল বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নেয়। এরপর বনানীর মহাখালী এলাকার একটি বিশেষ হাসপাতালের সামনে থেকে প্রথমে প্রধান সন্দেহভাজন বাসচালক সোহেল রানাকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে যৌথ অভিযানে বাসের সুপারভাইজার সাজু ও হেলপার মনিরকেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী হেফাজতে নিতে সক্ষম হয়।
অভিযানের অংশ হিসেবে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ‘রাজ ক্লাসিক’ নামের একটি বাসও জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব। গ্রেফতারকৃত তিন অভিযুক্তকে পরবর্তীতে বনানী থানা পুলিশের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের আসল কারণ এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত জানাতে পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনেরও আয়োজন করা হয়।




































