ঢাকা ০৩:০৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo দর্শক সারিতে বসে জাসাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী Logo প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে: শফিকুর রহমান Logo ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি-এনসিপির নেতাকর্মীসহ আহত ৭ Logo ৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হলে এক দফার আন্দোলনে যাবো Logo রুমের জানালা খোলা রেখে টিভি দেখছিলেন গৃহবধূ, হঠাৎ শরীরে এসে লাগে গুলি Logo সাভারে মাদরাসায় ৬ মাস ধরে যৌন নির্যাতন চলে ৭ বছরের শিশুর ওপর Logo ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে তামীরুল মিল্লাত ছাত্রী শিশুশিল্পী তাহিরার মৃত্যু Logo দক্ষিণখানে দেশীয় অস্ত্র ও মাদকসহ কিশোর গ্যাংয়ের ৭ সদস্য গ্রেফতার Logo শিক্ষক রনজিলা নিহত: রিমান্ড শেষে ৩ আসামি কারাগারে Logo শাপলা চত্বর থেকে লালদীঘি, শেষ হলো ১১-দলীয় ঐক্যের লংমার্চ

ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি-এনসিপির নেতাকর্মীসহ আহত ৭

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি মার্কেটের চলাচলের রাস্তায় দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদার পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এই আকস্মিক সংঘর্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন, যা এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, শপিং কমপ্লেক্সের ফুটপাত বা চলাচলের রাস্তায় অবৈধভাবে দোকানপাট বসানো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ইজারাদার পক্ষের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে ইজারাদার পক্ষের লোকজন ওই নির্দিষ্ট স্থানে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাতে তীব্র বাধা দেন। এর জেরে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে বিকেলে চরম উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর চড়াও হন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আঘাত পান।

অন্যদিকে, এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার ওপর হামলার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। সংঘর্ষের রেশ ধরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এনসিপির আনোয়ারা উপজেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলওয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দেলওয়ারের দাবি অনুযায়ী, তিনি মূল সংঘর্ষের স্থান থেকে কিছুটা দূরে আবুল হোসেন মার্কেট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী তাকে একা পেয়ে হঠাৎ আক্রমণ চালান, যার ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। এনসিপির দক্ষিণ জেলা সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দলের ওই নেতা একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও বাজারের ইজারাদার জাকির আহমেদ। তিনি দাবি করেন, বাজারের খালি জায়গায় তাদের দলের কর্মীরা দোকান নির্মাণ করতে গেলে ব্যবসায়ীরা তা ভেঙে ফেলেন এবং পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে এবং একে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘর্ষ বলা চলে না। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এই বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জনপ্রিয়

দর্শক সারিতে বসে জাসাসের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করলেন প্রধানমন্ত্রী

ফুটপাতে দোকান বসানো নিয়ে সংঘর্ষ, বিএনপি-এনসিপির নেতাকর্মীসহ আহত ৭

প্রকাশিত ০২:৩০:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার চাতরী চৌমুহনী বাজার এলাকায় একটি মার্কেটের চলাচলের রাস্তায় দোকান বসানোকে কেন্দ্র করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদার পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেলে এ আলী শপিং কমপ্লেক্সের সামনে এই উত্তেজনার সৃষ্টি হয়, যা পরবর্তীতে হাতাহাতি ও মারামারিতে রূপ নেয়। এই আকস্মিক সংঘর্ষে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) এক নেতাসহ অন্তত সাতজন আহত হয়েছেন, যা এলাকায় যথেষ্ট চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। আহতদের মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাদের দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে পাঠানো হয়। বাকিদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সূত্রে জানা যায়, শপিং কমপ্লেক্সের ফুটপাত বা চলাচলের রাস্তায় অবৈধভাবে দোকানপাট বসানো নিয়ে গত কয়েকদিন ধরেই ইজারাদার পক্ষের সঙ্গে ব্যবসায়ীদের বিরোধ চলছিল। ঘটনার দিন দুপুরে ইজারাদার পক্ষের লোকজন ওই নির্দিষ্ট স্থানে দোকান নির্মাণের চেষ্টা করলে সাধারণ ব্যবসায়ীরা তাতে তীব্র বাধা দেন। এর জেরে দুপক্ষের মধ্যে প্রথমে বাকবিতণ্ডা এবং পরবর্তীতে বিকেলে চরম উত্তেজনা থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, স্থানীয় কিছু রাজনৈতিক নেতার অনুসারীরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিতভাবে তাদের ওপর চড়াও হন। এতে সাধারণ ব্যবসায়ীসহ বেশ কয়েকজন গুরুতর আঘাত পান।

অন্যদিকে, এই হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে, বিশেষ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির এক নেতার ওপর হামলার বিষয়টি বেশ গুরুত্ব পেয়েছে। সংঘর্ষের রেশ ধরে ঘটনার দিন সন্ধ্যায় এনসিপির আনোয়ারা উপজেলা কমিটির সদস্য ও সাবেক যুগ্ম সমন্বয়কারী দেলওয়ার হোসেনের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী দেলওয়ারের দাবি অনুযায়ী, তিনি মূল সংঘর্ষের স্থান থেকে কিছুটা দূরে আবুল হোসেন মার্কেট এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সময় বিএনপির কতিপয় নেতাকর্মী তাকে একা পেয়ে হঠাৎ আক্রমণ চালান, যার ফলে তিনি গুরুতর জখম হন। এনসিপির দক্ষিণ জেলা সদস্যসচিব জোবাইরুল আলম মানিক এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, দলের ওই নেতা একটি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য ও বাজারের ইজারাদার জাকির আহমেদ। তিনি দাবি করেন, বাজারের খালি জায়গায় তাদের দলের কর্মীরা দোকান নির্মাণ করতে গেলে ব্যবসায়ীরা তা ভেঙে ফেলেন এবং পরবর্তীতে ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি সম্পূর্ণ ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে ঘটেছে বলেই মনে হচ্ছে এবং একে সরাসরি রাজনৈতিক সংঘর্ষ বলা চলে না। আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বর্তমানে পরিবেশ শান্ত রয়েছে। এই বিষয়ে এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দায়ের করেনি, তবে অভিযোগ পেলে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।