ঢাকা ০৬:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী Logo এলপিজি অপারেটরদের ‘মাফিয়া’ বলা নিয়ে বিইআরসির গণশুনানিতে বিতণ্ডা Logo ১২ ছক্কায় ওমারজাইয়ের রেকর্ড ইনিংস, রাজার সেঞ্চুরির রেকর্ড Logo জাপান সফরে প্রাপ্তির হিসাব-নিকাশ: ‘বিগ-বি’র নতুন সমীকরণে বাংলাদেশ Logo বছরে এক লাখ কর্মী নেওয়ার সম্মতি দেয়নি জাপান, জানাল টোকিও Logo ইংলিসের অনন্য কীর্তির পর শেষ বেলার উইকেটে এগিয়ে অস্ট্রেলিয়া Logo ইউসিবির ওয়েবভিত্তিক সাসটেইনেবিলিটি রিপোর্ট প্রকাশ Logo সিঙ্গাপুরে ২৪০ শ্রমিকের বেতন বকেয়া, ওয়ার্ক পারমিট বাতিল, অধিকাংশই বাংলাদেশি Logo ‘২০০’ ছুঁয়ে রাশিদ খানের অনন্য কীর্তি Logo সরকারি বাসা থেকে শনিবারের মধ্যে ভাড়াটিয়া অপসারণের নির্দেশ

প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে: শফিকুর রহমান

গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন, যেকোনো সময় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে এবং শেষ পর্যন্ত জনগণেরই এই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে।

সমাবেশে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় বসে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের শিশু সরকার হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে, অথচ দেশের জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পদে বহাল রয়েছেন, যা স্পষ্টতই ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে প্রশাসকদের বসানোর নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তার ব্যত্যয় ঘটছে।

বিএনপিকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যে রাজনৈতিক শক্তি নির্দিষ্ট একটি পথ ধরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বিদায় নিয়েছে, বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটতে চাইছে কি না তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিরোধী দল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে কঠোর ও পালটা পদক্ষেপ নিতে তারা দ্বিধাবোধ করবেন না। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, তাদের এই আন্দোলন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।

লংমার্চের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা জানান, তারা মূলত সংসদের ভেতরেই সব রাজনৈতিক বিষয়ের সুরাহা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করেছে রাজপথে নেমে আসতে। সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে নিহতদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে তিনি ২০২৪ সালের সব হত্যাকাণ্ড এবং গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জোরালো দাবি জানান। জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।

জনপ্রিয়

জাপান থেকে দেশে ফিরেছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রস্তুত থাকুন, বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক আসবে: শফিকুর রহমান

প্রকাশিত ০৯:৪৫:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণভোটের রায় পুরোপুরি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। সম্প্রতি চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কঠোর হুঁশিয়ারি দেন। তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আপনারা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকুন, যেকোনো সময় বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে এবং শেষ পর্যন্ত জনগণেরই এই লড়াইয়ে চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হবে।

সমাবেশে সরকারের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, ক্ষমতায় বসে বর্তমান প্রশাসন নিজেদের শিশু সরকার হিসেবে জাহির করার চেষ্টা করছে, অথচ দেশের জনগণ কোনো শিশুকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় বসায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন যে, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের বর্তমান মেয়র মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও পদে বহাল রয়েছেন, যা স্পষ্টতই ফ্যাসিবাদী আচরণের বহিঃপ্রকাশ। নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের বদলে প্রশাসকদের বসানোর নীতির তীব্র সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিএনপি অতীতে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন তার ব্যত্যয় ঘটছে।

বিএনপিকে সতর্ক করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে যে রাজনৈতিক শক্তি নির্দিষ্ট একটি পথ ধরে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বিদায় নিয়েছে, বর্তমান সরকারও সেই একই পথে হাঁটতে চাইছে কি না তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বিরোধী দল হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের স্বার্থে প্রয়োজনে কঠোর ও পালটা পদক্ষেপ নিতে তারা দ্বিধাবোধ করবেন না। তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, তাদের এই আন্দোলন কোনো বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থে নয়, বরং এটি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের লড়াই।

লংমার্চের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতা জানান, তারা মূলত সংসদের ভেতরেই সব রাজনৈতিক বিষয়ের সুরাহা করতে চেয়েছিলেন, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করেছে রাজপথে নেমে আসতে। সাম্প্রতিক আন্দোলনগুলোতে নিহতদের প্রতি দায়বদ্ধতার কথা স্মরণ করে তিনি ২০২৪ সালের সব হত্যাকাণ্ড এবং গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ তৈরির সঙ্গে জড়িতদের বিচারের জোরালো দাবি জানান। জনগণের ভোটাধিকার ও গণভোটের রায় আদায় না হওয়া পর্যন্ত এই সংগ্রাম চলবে বলে তিনি অঙ্গীকার করেন।