কুমিল্লার হোমনা থেকে সোনারগাঁয়ে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া স্বজনদের বোঝাই ট্রলার মেঘনা নদীতে ঝড়ের কবলে পড়ে ডুবে গেছে। সম্প্রতি বিকেলে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার কাছাকাছি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। আনন্দঘন একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের এই যাত্রা মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয় এবং নদীতে থাকা বিভিন্ন বিয়ের সামগ্রী ও গবাদিপশুসহ ট্রলারটি আকস্মিক ঝড়ে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার শিকার হওয়া ওই ট্রলারে মোট তেরোজন যাত্রী ছাড়াও বিয়ের বাজার এবং দুটি গরু ও একটি খাসি তোলা হয়েছিল। হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হয়ে প্রবল ঝড়ের সৃষ্টি হলে ট্রলারটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ডুবে যায়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয় একটি কারখানার ট্রলার এগিয়ে এসে সাহসিকতার সাথে নয়জন যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এই আকস্মিক দুর্যোগের কবলে পড়ে একই পরিবারের একাধিক সদস্য নিখোঁজ হন এবং মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো পরিবারটি।
এই করুণ দুর্ঘটনায় রায়েশা বেগম নামের পঞ্চান্ন বছর বয়সী এক নারী প্রাণ হারিয়েছেন, যাঁর মরদেহ উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। নিহত ওই নারী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কাইল্লাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী বলে জানা গেছে। অন্যদিকে, একই পরিবারের চার সদস্য এখনও নিখোঁজ রয়েছেন এবং তাঁদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে স্বজনদের মাঝে।
নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন হেলাল মিয়া, তাঁর পুত্র সজিব হোসেন, কন্যা সামিয়া আক্তার এবং সর্বকনিষ্ঠ শিশু সামিন হোসেন। দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ফায়ার সার্ভিস, নৌ পুলিশ ও স্থানীয় থানার যৌথ দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে সন্ধ্যার অন্ধকার নেমে আসায় উদ্ধারকাজে নিয়োজিত ডুবুরি দল সাময়িকভাবে তাদের কার্যক্রম স্থগিত রাখতে বাধ্য হয় এবং রাতে খোঁজ না মিললে পরবর্তী দিন সকাল থেকে পুনরায় তল্লাশি চালানো হবে বলে জানানো হয়েছে।



































