অভাবের তাড়নায় নিজের বিয়ে ঠিক করায় পরিবারের বিরুদ্ধে একাই রুখে দাঁড়িয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার এক সাহসী ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার প্রবল আগ্রহ এবং বড় হয়ে পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন বুকে নিয়ে সে সোজা চলে যায় স্থানীয় থানায়। পুলিশ প্রশাসনের সহায়তায় সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। নিজের জীবনের এই ক্রান্তিলগ্নে সে কোনোভাবেই বাল্যবিবাহ মেনে নেবে না বলে দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ব্যক্ত করে।
কিশোরী শিক্ষার্থীর এমন সাহসী পদক্ষেপে হতবাক হয়ে যান উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে ওই শিক্ষার্থীর মা, স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে নিজের কার্যালয়ে ডেকে পাঠান। সেখানে উপস্থিত সবার সামনে মেয়েটি তার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার আকুতি জানায় এবং বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে প্রশাসন তার পরিবারকে বিস্তারিত বোঝাতে সক্ষম হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সাত বছর আগে গৃহকর্তা মারা যাওয়ার পর থেকেই চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে জীবনযাপন করছেন তার মা। অন্যের বাড়িতে কাজ করে এবং ধারদেনা করে এর আগে আরও তিন মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন তিনি, আর ছোট মেয়ের ক্ষেত্রেও পরিবারের তাগিদেই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। তবে মেয়ের অদম্য ইচ্ছা এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ভুল বুঝতে পেরে মা প্রতিশ্রুতি দেন যে, তিনি আর মেয়ের বিয়ে দেবেন না বরং তাকে পড়াশোনা করিয়ে পুলিশ বানানোর স্বপ্ন পূরণে সর্বাত্মক সহযোগিতা করবেন।
এদিকে স্থানীয় বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হযরত আলী জানিয়েছেন, দরিদ্র এই শিক্ষার্থীর বিদ্যালয়ের যাবতীয় টিউশন ফি ও অন্যান্য খরচ সম্পূর্ণ মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ওই কিশোরীর হাতে বই, ব্যাগ ও স্কুল পোশাক কেনার জন্য নগদ অর্থ সহায়তা তুলে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন ও বিদ্যালয়ের এমন যৌথ পদক্ষেপে নতুন জীবনের আশা ফিরে পেয়েছে মেধাবী এই শিক্ষার্থী, যা এলাকায় ব্যাপক প্রশংসার জন্ম দিয়েছে।


































