ঢাকা ০২:৩২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo জানাজা থেকে ফিরেই মারা গেলেন যুবক, এক মহল্লায় ২০ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু Logo রাজধানীর সূত্রাপুরে ঘরে পেট্রল ঢেলে আগুন, ছেলের পর বাবারও মৃত্যু Logo শিশুর আঙুল কেটে ফেলার অভিযোগে কনস্টেবল ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার Logo জামিন পেলেও নতুন মামলা, জেলগেটে ফের গ্রেফতার, আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন Logo নেতানিয়াহু জাতিসংঘের মঞ্চে উঠতেই ওয়াকআউট, বিক্ষোভ Logo সিজারের পরপরই নারীর মৃত্যু, চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অবহেলার অভিযোগ Logo ইসরাইলে পুলিশে পদত্যাগের হিড়িক, জনবলের ব্যাপক সংকট Logo গরুর মাংস দিয়ে যেভাবে স্টু বানাবেন, দেখুন রেসিপি Logo বিরামপুর সীমান্তে ৯ জনকে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা বিএসএফের, ৩ জনকে ফেরত পাঠাল বিজিবি Logo যাত্রাবাড়ীতে বিশেষ অভিযানে যুবলীগ নেতাসহ গ্রেপ্তার ১৬

জামিন পেলেও নতুন মামলা, জেলগেটে ফের গ্রেফতার, আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন

আইনজীবীদের দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার পর যখনই বন্দীরা একে একে আদালতের কাছ থেকে জামিন লাভ করছিলেন, তখনই তাদের সামনে নতুন বিপদের দেয়াল তুলে দেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ফটক থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পুনরায় অন্য কোনো নাশকতার মামলায় আটক করে ফেলছে। এই অভিনব ও পুনরাবৃত্ত প্রক্রিয়ার কারণে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বজনদের আনন্দ মুহূর্তেই উৎকণ্ঠা ও কান্নায় রূপ নিচ্ছে। অথচ দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী একজন বন্দীর জামিন পাওয়ার পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা থাকার কথা নয়।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের প্রধান প্রশ্ন হলো, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি কীভাবে নতুন কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন এবং পুলিশ তাকে কীভাবে ‘হাতে-নাতে’ গ্রেফতার দেখায়। এই প্রশ্নটি এখন দেশের বিচারিক ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা হয়রানি করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নতুন মামলাগুলোর জাল বিস্তার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। আদালতের নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে বারবার জেলগেট থেকে গ্রেফতারের এই প্রবণতা আইনের শাসনের মৌলিক নীতিগুলোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তবে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।

পরিস্থিতি যেভাবে জটিল আকার ধারণ করছে, তাতে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা দ্রুত এই স্বেচ্ছাচারী আচরণের অবসান দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায়, আদালতের দেওয়া জামিনের আদেশ অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং নাগরিকরা বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যাবেন।

জনপ্রিয়

জানাজা থেকে ফিরেই মারা গেলেন যুবক, এক মহল্লায় ২০ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু

জামিন পেলেও নতুন মামলা, জেলগেটে ফের গ্রেফতার, আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত ০১:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনজীবীদের দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার পর যখনই বন্দীরা একে একে আদালতের কাছ থেকে জামিন লাভ করছিলেন, তখনই তাদের সামনে নতুন বিপদের দেয়াল তুলে দেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ফটক থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পুনরায় অন্য কোনো নাশকতার মামলায় আটক করে ফেলছে। এই অভিনব ও পুনরাবৃত্ত প্রক্রিয়ার কারণে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বজনদের আনন্দ মুহূর্তেই উৎকণ্ঠা ও কান্নায় রূপ নিচ্ছে। অথচ দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী একজন বন্দীর জামিন পাওয়ার পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা থাকার কথা নয়।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের প্রধান প্রশ্ন হলো, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি কীভাবে নতুন কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন এবং পুলিশ তাকে কীভাবে ‘হাতে-নাতে’ গ্রেফতার দেখায়। এই প্রশ্নটি এখন দেশের বিচারিক ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা হয়রানি করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নতুন মামলাগুলোর জাল বিস্তার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। আদালতের নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে বারবার জেলগেট থেকে গ্রেফতারের এই প্রবণতা আইনের শাসনের মৌলিক নীতিগুলোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তবে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।

পরিস্থিতি যেভাবে জটিল আকার ধারণ করছে, তাতে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা দ্রুত এই স্বেচ্ছাচারী আচরণের অবসান দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায়, আদালতের দেওয়া জামিনের আদেশ অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং নাগরিকরা বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যাবেন।