ঢাকা ০৯:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান ২ ব্রিটিশ আইনজীবী Logo অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে সোবহানা-নিগারের লাফ Logo ওয়েলসে মিলল রোমান দুর্গ: সত্যি ছিল সম্রাটের ঘাঁটির উপাখ্যান Logo বিরোধী দল না এলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে: সালাহউদ্দিন Logo হেনস্তার ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. ইউনূস, জানালেন সফরসঙ্গী Logo ঢাকা-কুমিল্লা ‘এলিভেটেড কর্ডলাইন’ হচ্ছে, সময় কমবে ২ ঘণ্টা: উপদেষ্টা জাহেদ Logo ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ ভবন থেকে বের করে আনা হলো চুয়েট উপাচার্যকে Logo রূপকথার ডাইনিরা কেন ঝাড়ুতে চড়ে উড়ে বেড়ায়? Logo অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে অভিনেত্রী খালেদা আক্তার কল্পনা Logo ‘ফাব্বিং’: কথোপকথনের মাঝে ফোন ব্যবহারের ক্ষতিকর অভ্যাস

জামিন পেলেও নতুন মামলা, জেলগেটে ফের গ্রেফতার, আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন

আইনজীবীদের দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার পর যখনই বন্দীরা একে একে আদালতের কাছ থেকে জামিন লাভ করছিলেন, তখনই তাদের সামনে নতুন বিপদের দেয়াল তুলে দেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ফটক থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পুনরায় অন্য কোনো নাশকতার মামলায় আটক করে ফেলছে। এই অভিনব ও পুনরাবৃত্ত প্রক্রিয়ার কারণে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বজনদের আনন্দ মুহূর্তেই উৎকণ্ঠা ও কান্নায় রূপ নিচ্ছে। অথচ দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী একজন বন্দীর জামিন পাওয়ার পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা থাকার কথা নয়।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের প্রধান প্রশ্ন হলো, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি কীভাবে নতুন কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন এবং পুলিশ তাকে কীভাবে ‘হাতে-নাতে’ গ্রেফতার দেখায়। এই প্রশ্নটি এখন দেশের বিচারিক ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা হয়রানি করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নতুন মামলাগুলোর জাল বিস্তার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। আদালতের নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে বারবার জেলগেট থেকে গ্রেফতারের এই প্রবণতা আইনের শাসনের মৌলিক নীতিগুলোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তবে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।

পরিস্থিতি যেভাবে জটিল আকার ধারণ করছে, তাতে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা দ্রুত এই স্বেচ্ছাচারী আচরণের অবসান দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায়, আদালতের দেওয়া জামিনের আদেশ অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং নাগরিকরা বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যাবেন।

জনপ্রিয়

ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান ২ ব্রিটিশ আইনজীবী

জামিন পেলেও নতুন মামলা, জেলগেটে ফের গ্রেফতার, আইনের লঙ্ঘন নিয়ে প্রশ্ন

প্রকাশিত ০১:৩০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইনজীবীদের দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রচেষ্টার পর যখনই বন্দীরা একে একে আদালতের কাছ থেকে জামিন লাভ করছিলেন, তখনই তাদের সামনে নতুন বিপদের দেয়াল তুলে দেওয়া হচ্ছে। কারাগারের ফটক থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের পুনরায় অন্য কোনো নাশকতার মামলায় আটক করে ফেলছে। এই অভিনব ও পুনরাবৃত্ত প্রক্রিয়ার কারণে জামিনপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের স্বজনদের আনন্দ মুহূর্তেই উৎকণ্ঠা ও কান্নায় রূপ নিচ্ছে। অথচ দেশের প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী একজন বন্দীর জামিন পাওয়ার পর তার কারামুক্তিতে কোনো আইনি বাধা থাকার কথা নয়।

ভুক্তভোগী পরিবার এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে এই ধরনের ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। তাদের প্রধান প্রশ্ন হলো, কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় কোনো ব্যক্তি কীভাবে নতুন কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকতে পারেন এবং পুলিশ তাকে কীভাবে ‘হাতে-নাতে’ গ্রেফতার দেখায়। এই প্রশ্নটি এখন দেশের বিচারিক ব্যবস্থা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কার্যক্রমের স্বচ্ছতা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বা হয়রানি করার লক্ষ্যেই পরিকল্পিতভাবে এই নতুন মামলাগুলোর জাল বিস্তার করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট আইনজীবী ও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরনের ঘটনা বিচারব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে এবং সংবিধান প্রদত্ত মৌলিক অধিকারের পরিপন্থী। আদালতের নির্দেশকে পাশ কাটিয়ে বারবার জেলগেট থেকে গ্রেফতারের এই প্রবণতা আইনের শাসনের মৌলিক নীতিগুলোকেই সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলছে। উচ্চ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও যদি এ ধরনের কর্মকাণ্ড চলতে থাকে, তবে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়া থেকে বঞ্চিত হবে।

পরিস্থিতি যেভাবে জটিল আকার ধারণ করছে, তাতে সুশীল সমাজ ও মানবাধিকার কর্মীরা দ্রুত এই স্বেচ্ছাচারী আচরণের অবসান দাবি করেছেন। তারা মনে করেন, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এই ধরনের কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি। অন্যথায়, আদালতের দেওয়া জামিনের আদেশ অর্থহীন হয়ে পড়বে এবং নাগরিকরা বিচার পাওয়ার অধিকার থেকে ক্রমান্বয়ে দূরে সরে যাবেন।