ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo মার্কিন পুঁজিবাজার, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এআই বটের অনধিকার প্রবেশ Logo চুরির অভিযোগে খুঁটিতে বাঁধা অনাহারী বাবা, রুটি-চা নিয়ে ছুটে এল শিশুকন্যা Logo নারায়ণগঞ্জে ট্রলারডুবিতে নিখোঁজ তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার Logo জাতিসংঘে কল্যাণমুখী গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গড়ার যে প্রতিশ্রুতি দিলেন তারেক রহমান Logo ‘২০২৭ বিশ্বকাপই শেষ’—জানালেন কোহলি Logo বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে ২২০ পদে চাকরি Logo নারায়ণগঞ্জে দিনদুপুরে স্বর্ণের দোকানে ডাকাতি Logo মেঘনায় ট্রলারডুবি, কুমিল্লায় এক পরিবারের তিন জনকে পাশাপাশি দাফন Logo রাজধানীর ধানমন্ডিতে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল, ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪ Logo ধানমন্ডিতে নিষিদ্ধ আ.লীগের ঝটিকা মিছিল থেকে ককটেল বিস্ফোরণ, আটক ৪

শিশুর আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

নাটোর শহরে দুই শিশুর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ এক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। শিশুদের বিরোধের জেরে আট বছরের এক শিশুর ডান হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রীকে পুলিশ আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সাকিল আহমেদ নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হিসাব সহকারী বা কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এই অপরাধে জড়িত ছিলেন তাঁর স্ত্রী নাছরিন আকতার। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশু বায়জিদ বিন মাহমুদ স্থানীয় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের সন্তান। শিশুদের মধ্যে চলা একটি সাধারণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই পুলিশ দম্পতি এই চরম পদক্ষেপ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত কয়েকদিন আগে দুই শিশুর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি বা বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা শিশু বায়জিদের ওপর চড়াও হন এবং তাঁর ডান হাতের আঙুল কেটে দেন। এই পৈশাচিক হামলায় শিশুটির হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং সে মারাত্মকভাবে জখম হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে শিশুটির চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সাকিল আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান গণমাধ্যমকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পরপরই রাতেই অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সুনির্দিষ্ট ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়ে এমন অপরাধ করায় বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

জনপ্রিয়

মার্কিন পুঁজিবাজার, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে এআই বটের অনধিকার প্রবেশ

শিশুর আঙুল কেটে দেওয়ার অভিযোগে পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত ০৩:৩২:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নাটোর শহরে দুই শিশুর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভয়াবহ এক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। শিশুদের বিরোধের জেরে আট বছরের এক শিশুর ডান হাতের আঙুল কেটে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনায় অভিযুক্ত এক পুলিশ সদস্য ও তাঁর স্ত্রীকে পুলিশ আটক করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শহরের চেয়ারম্যান রোড এলাকায় এই পৈশাচিক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত সাকিল আহমেদ নাটোর পুলিশ সুপার কার্যালয়ে হিসাব সহকারী বা কনস্টেবল পদে কর্মরত রয়েছেন। তাঁর সঙ্গে এই অপরাধে জড়িত ছিলেন তাঁর স্ত্রী নাছরিন আকতার। অন্যদিকে, ভুক্তভোগী শিশু বায়জিদ বিন মাহমুদ স্থানীয় একজন ব্যাংক কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান মিলনের সন্তান। শিশুদের মধ্যে চলা একটি সাধারণ বিরোধকে কেন্দ্র করে ওই পুলিশ দম্পতি এই চরম পদক্ষেপ নেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত কয়েকদিন আগে দুই শিশুর মধ্যে কোনো একটি বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি বা বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এর জেরে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা শিশু বায়জিদের ওপর চড়াও হন এবং তাঁর ডান হাতের আঙুল কেটে দেন। এই পৈশাচিক হামলায় শিশুটির হাত থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয় এবং সে মারাত্মকভাবে জখম হয়। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে সেখানে শিশুটির চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে।

এই নৃশংস ঘটনার পর পরই অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য সাকিল আহমেদ ও তাঁর স্ত্রী পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন এবং আত্মগোপনে চলে যান। বিষয়টি জানাজানি হলে এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুর বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে নাটোর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার পর নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং দ্রুত অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর রহমান গণমাধ্যমকে পুরো বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পরপরই রাতেই অভিযুক্তদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সুনির্দিষ্ট ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাঁদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য হয়ে এমন অপরাধ করায় বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।