ঢাকা ০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo এমবাপ্পের গোলে তুরস্কের বিপক্ষে জয়, শুরু হলো ফ্রান্সে জিদান-যুগ Logo সরকারি মেডিকেল কলেজ: হাসপাতাল নেই ১২টিতে, ব্যবহারিক শিক্ষায় বাধা Logo নায়কের স্ত্রী পছন্দ করতেন না, সিনেমা থেকে বাদ পড়ার অদ্ভুত কারণ জানালেন তাপসী Logo ইসলামাবাদ সমঝোতায় ফিরতে যুক্তরাষ্ট্রকে শি জিনপিংয়ের আহ্বান, ইরানের প্রশংসা Logo সন্ত্রাসী দেশ আমাকে এই প্রশ্ন করছে—পাকিস্তানি সাংবাদিককে পাল্টা প্রশ্ন জয়শঙ্করের Logo প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ইন্টারন্যাশনাল পিস ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্টের মধ্যাহ্নভোজ বৈঠক Logo নেতিবাচক মন্তব্য থেকে সন্তানকে দূরে রাখতে চান জনপ্রিয় ব্যতিক্রমী দম্পতি Logo ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল, ইসলামাবাদে লকডাউন Logo ট্রাম্প-সি বৈঠকে অর্জন কম, ততেও কেন খুশি চীন Logo সৌদি মিত্ররা একজোট, হামলা চালিয়ে যাচ্ছে হুতি বিদ্রোহীরা

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল, ইসলামাবাদে লকডাউন

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা এই নেতার সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ এবং তার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে দলটি। পিটিআইয়ের এই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার সমর্থক দলবেঁধে ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন। সরকারের তরফ থেকে নানা বাধা ও ধরপাকড় উপেক্ষা করেই রাজপথে নেমেছেন তারা, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রতিহত করতে ইসলামাবাদজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। রাজধানী শহরে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে এক হাজারের বেশি কনটেইনার ও কাঁটাতারের প্রতিবন্ধক বসানো হয়েছে। এছাড়া পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও এই আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন।

সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে পিটিআই নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতির উন্নতি এবং তার মামলার ন্যায়সংগত শুনানি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থামাবে না। মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন যে সরকার আতঙ্কিত হয়ে রাজধানী অবরুদ্ধ করেছে এবং তাদের মন্ত্রীদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমর্থকদের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে ফয়সাল করিম কুন্দি দাবি করেছেন যে পিটিআইয়ের এই মার্চ দেশে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছু নয়।

এই ব্যাপক লকডাউন ও নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ইসলামাবাদের সাধারণ বাসিন্দারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং প্রধান সড়কগুলো বন্ধ থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে আছে, তা এই আন্দোলনের ফলে বড় কোনো বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। নানা দমন-পীড়ন সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি এবং তার মুক্তির এই আন্দোলন দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জনপ্রিয়

এমবাপ্পের গোলে তুরস্কের বিপক্ষে জয়, শুরু হলো ফ্রান্সে জিদান-যুগ

ইমরানের মুক্তির দাবিতে রাজধানীমুখী মিছিল, ইসলামাবাদে লকডাউন

প্রকাশিত ০১:১৫:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের কারাবন্দি অবস্থার প্রতিবাদ ও তার মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ২০২৩ সাল থেকে কারাগারে থাকা এই নেতার সঙ্গে প্রশাসনের আচরণ এবং তার বিচারিক প্রক্রিয়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে দলটি। পিটিআইয়ের এই পূর্বঘোষিত কর্মসূচি সফল করতে খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার সমর্থক দলবেঁধে ইসলামাবাদের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন। সরকারের তরফ থেকে নানা বাধা ও ধরপাকড় উপেক্ষা করেই রাজপথে নেমেছেন তারা, যা বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

বিক্ষোভ কর্মসূচি প্রতিহত করতে ইসলামাবাদজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। রাজধানী শহরে জনসমাবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারির পাশাপাশি প্রায় ২২ হাজার পুলিশ ও অন্যান্য আইন শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। নিরাপত্তার অজুহাতে খাইবার পাখতুনখোয়ার সঙ্গে সংযোগকারী প্রধান মহাসড়কগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে এবং বিভিন্ন পয়েন্টে এক হাজারের বেশি কনটেইনার ও কাঁটাতারের প্রতিবন্ধক বসানো হয়েছে। এছাড়া পিটিআইয়ের বেশ কয়েকজন শীর্ষ নেতা ও মন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে এবং খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিও এই আইনি পদক্ষেপের মুখে পড়েছেন।

সরকারের এমন কঠোর অবস্থানের তীব্র সমালোচনা করে পিটিআই নেতৃত্ব জানিয়েছে, ইমরান খানের কারাবাসের পরিস্থিতির উন্নতি এবং তার মামলার ন্যায়সংগত শুনানি নিশ্চিত না করা পর্যন্ত তারা আন্দোলন থামাবে না। মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি অভিযোগ করেছেন যে সরকার আতঙ্কিত হয়ে রাজধানী অবরুদ্ধ করেছে এবং তাদের মন্ত্রীদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাচ্ছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে বিপুল পরিমাণ নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমর্থকদের সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে ফয়সাল করিম কুন্দি দাবি করেছেন যে পিটিআইয়ের এই মার্চ দেশে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা তৈরির পাঁয়তারা ছাড়া আর কিছু নয়।

এই ব্যাপক লকডাউন ও নিরাপত্তার কড়াকড়ির কারণে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন ইসলামাবাদের সাধারণ বাসিন্দারা। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এবং প্রধান সড়কগুলো বন্ধ থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের অনেকেই মনে করছেন, দেশের চলমান অর্থনৈতিক সংকট ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কারণে সাধারণ মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ জমে আছে, তা এই আন্দোলনের ফলে বড় কোনো বিস্ফোরণে রূপ নিতে পারে। নানা দমন-পীড়ন সত্ত্বেও পাকিস্তানের রাজনীতিতে ইমরান খানের জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েনি এবং তার মুক্তির এই আন্দোলন দেশটির বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণকে পুরোপুরি বদলে দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।