ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির Logo প্রজনন স্বাস্থ্যে নতুন প্রযুক্তির সূচনায় হাত মেলাল গুগল ও ফ্লো Logo ফারজানা রুপার পক্ষে লড়তে চান ২ ব্রিটিশ আইনজীবী Logo অস্ট্রেলিয়ায় ইতিহাস গড়ে র‌্যাঙ্কিংয়ে সোবহানা-নিগারের লাফ Logo ওয়েলসে মিলল রোমান দুর্গ: সত্যি ছিল সম্রাটের ঘাঁটির উপাখ্যান Logo বিরোধী দল না এলেও সংবিধান সংশোধন করতে হবে: সালাহউদ্দিন Logo হেনস্তার ঘটনার পর এখন কেমন আছেন ড. ইউনূস, জানালেন সফরসঙ্গী Logo ঢাকা-কুমিল্লা ‘এলিভেটেড কর্ডলাইন’ হচ্ছে, সময় কমবে ২ ঘণ্টা: উপদেষ্টা জাহেদ Logo ৩০ ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ ভবন থেকে বের করে আনা হলো চুয়েট উপাচার্যকে Logo রূপকথার ডাইনিরা কেন ঝাড়ুতে চড়ে উড়ে বেড়ায়?

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির অবস্থান ও কৌশলগত ভাবমূর্তি রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে গেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কে সম্ভাব্য সংকট নিয়ে যেসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, নেতানিয়াহু তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় ঐকমত্য ক্ষুণ্ণ করার ক্ষেত্রেও বর্তমান ইসরাইলি সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে পত্রিকাটি মনে করে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মার্কিন রাজনীতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে নেতানিয়াহুর অতিমাত্রায় ও প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব ডেমোক্র্যাট শিবিরের কাছে ইসরাইলকে কোণঠাসা করে তুলেছে। তবে এই অবনতি কেবল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বলে জানিয়েছে হারেৎজ। বিগত দুই বছরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিগুলো রিপাবলিকান মহলের মধ্যেও ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে।

বর্তমান ইসরাইলি প্রশাসনের বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা। এছাড়া সম্প্রতি ইরান সংঘাতের জেরে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক চাপ ইসরাইলের ঐতিহ্যগত মিত্রদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এমনকি ইসরাইলের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও এখন দেশটির নজিরবিহীন সমালোচনা করতে শুরু করেছেন।

মার্কিন জনমত জরিপের সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর কোনো ধরনের জোরালো বা আড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য এই রূঢ় ও কঠিন বাস্তবতাকে ঢাকতে পারবে না। মার্কিন জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরাইলের মর্যাদা কতটা নিচে নেমে গেছে এবং এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ভবিষ্যতে দুই দেশের মিত্রতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা প্রতিটি ইসরাইলি নাগরিকের উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে সম্পাদকীয়তে সতর্ক করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

ড. ইউনূসকে হেনস্তা: তীব্র ক্ষোভ জানিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের ভাবমূর্তি ‘নজিরবিহীন তলানিতে’ নামিয়েছেন নেতানিয়াহু

প্রকাশিত ০৬:০০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কর্মকাণ্ডের ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে দেশটির অবস্থান ও কৌশলগত ভাবমূর্তি রেকর্ড পরিমাণে নিচে নেমে গেছে। দেশটির প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ প্রকাশিত এক সম্পাদকীয়তে এমন মন্তব্য করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কে সম্ভাব্য সংকট নিয়ে যেসব সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছিল, নেতানিয়াহু তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। মার্কিন রাজনীতিতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা দ্বিপক্ষীয় ঐকমত্য ক্ষুণ্ণ করার ক্ষেত্রেও বর্তমান ইসরাইলি সরকারের ভূমিকা রয়েছে বলে পত্রিকাটি মনে করে।

সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, মার্কিন রাজনীতিতে সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রিপাবলিকান পার্টির পক্ষে নেতানিয়াহুর অতিমাত্রায় ও প্রকাশ্য পক্ষপাতিত্ব ডেমোক্র্যাট শিবিরের কাছে ইসরাইলকে কোণঠাসা করে তুলেছে। তবে এই অবনতি কেবল ডেমোক্র্যাটদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি বলে জানিয়েছে হারেৎজ। বিগত দুই বছরে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ছাড়াও ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের নেতৃত্বাধীন সরকারের নীতিগুলো রিপাবলিকান মহলের মধ্যেও ইসরাইল সম্পর্কে বিরূপ ধারণার জন্ম দিয়েছে।

বর্তমান ইসরাইলি প্রশাসনের বেশ কিছু বিতর্কিত নীতি ও পদক্ষেপ দুই দেশের সম্পর্কে মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে উগ্র বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বৃদ্ধি এবং গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে বসবাসকারী খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর বিভিন্ন ধরনের হামলা। এছাড়া সম্প্রতি ইরান সংঘাতের জেরে জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সৃষ্ট ভূরাজনৈতিক চাপ ইসরাইলের ঐতিহ্যগত মিত্রদেরও নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। এমনকি ইসরাইলের সবচেয়ে কট্টর সমর্থক হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরাও এখন দেশটির নজিরবিহীন সমালোচনা করতে শুরু করেছেন।

মার্কিন জনমত জরিপের সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরে সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের মাঝে ইসরাইলবিরোধী মনোভাব তীব্র আকার ধারণ করেছে। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর কোনো ধরনের জোরালো বা আড়ম্বরপূর্ণ বক্তব্য এই রূঢ় ও কঠিন বাস্তবতাকে ঢাকতে পারবে না। মার্কিন জনগণের দৃষ্টিভঙ্গিতে ইসরাইলের মর্যাদা কতটা নিচে নেমে গেছে এবং এর সুদূরপ্রসারী পরিণতি ভবিষ্যতে দুই দেশের মিত্রতায় কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা প্রতিটি ইসরাইলি নাগরিকের উপলব্ধি করা প্রয়োজন বলে সম্পাদকীয়তে সতর্ক করা হয়েছে।