ঢাকা ১০:৪০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু Logo সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলতে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের প্রস্তাব Logo নিখোঁজের ছয় দিন পর নারীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার, সাবেক স্বামী আটক Logo ইবিতে প্রেমিক যুগল আটক, আজ বিয়ে Logo ২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন Logo ইউটিউব দেখে বিদেশি ফল চাষের শুরু, প্রথম বছরেই লাভ ১০ লাখ টাকা Logo এক সিনেমার পরেই অভিনয় ছাড়েন শাহরুখের নায়িকা, স্বামী ৪৮ হাজার কোটি রুপির মালিক Logo কেন কিছু মানুষ বিশ্বাস করেন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই খ্রিস্টবিরোধী, যা মানুষকে শয়তানের উপাসনায় প্ররোচিত করছে Logo পিকলবল খেলে ১৩ বছরের কিশোরীর বিশ্বভ্রমণ Logo সেরা হয়ে ১২ কোটি টাকা পেলেন, ১৬ বছর বয়সী কে এই নেনে

২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অমল কৃষ্ণ সুতার এক ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করে গোটা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি জঙ্গল, খাল ও বিলের বিভিন্ন লতাপাতা, কচুরিপানাসহ নানা উদ্ভিদ কাঁচা খেয়ে জীবনধারণ করছেন। বর্তমানে ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির চেহারায় বয়সের ছাপ থাকলেও তিনি এখনো বেশ কর্মক্ষম ও সতেজ রয়েছেন। তার এই অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে বিস্মিত করলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে নিজের জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অমল কৃষ্ণের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের নেপথ্যে রয়েছে চরম আর্থিক সংকট ও অভাবের বঞ্চনা। জীবনের শুরুর দিকটা এমন ছিল না, তিনি ১৯৮১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছিলেন। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে উদ্ভিদ নিয়ে তার মনে ছোটবেলা থেকেই এক ধরনের কৌতূহল কাজ করত। পরবর্তী সময়ে তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়ে তিনি প্রকৃতি থেকে উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সেটিই তার প্রধান খাদ্যাভ্যাসে পরিণত হয়।

প্রকৃতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল এই মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কোনো নির্দিষ্ট মেনু বা সময় বাঁধা নেই। ক্ষুধা নিবারণের জন্য তিনি যখন যেখানে পান, লতাপাতা ও জলজ উদ্ভিদ চিবিয়ে খেয়ে নেন। নিজের কোনো স্থায়ী বসতি বা ঘরবাড়ি না থাকায় তিনি কখনো পরিচিতজনদের বাড়িতে আবার কখনো অন্যের আশ্রয়ে রাত কাটান। তবে বিষাক্ত কোনো উদ্ভিদ বা বস্তু তিনি কখনো মুখে তোলেন না বলে নিজেই জানিয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসকরা অমল কৃষ্ণ সুতারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার শরীরে বড় কোনো জটিল রোগের অস্তিত্ব পাননি। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত লতাপাতা খেয়েও তিনি কীভাবে সুস্থ আছেন, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে তার এই খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল হওয়ায় অন্য কাউকে এটি অন্ধভাবে অনুসরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় বাবা-ছেলের মৃত্যু

২৬ বছর ধরে লতাপাতা খেয়ে জীবনযাপন

প্রকাশিত ০৯:৩০:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার অমল কৃষ্ণ সুতার এক ব্যতিক্রমী জীবনযাপন করে গোটা এলাকায় আলোচনার সৃষ্টি করেছেন। দীর্ঘ প্রায় ২৬ বছর ধরে তিনি জঙ্গল, খাল ও বিলের বিভিন্ন লতাপাতা, কচুরিপানাসহ নানা উদ্ভিদ কাঁচা খেয়ে জীবনধারণ করছেন। বর্তমানে ৬৬ বছর বয়সী এই ব্যক্তির চেহারায় বয়সের ছাপ থাকলেও তিনি এখনো বেশ কর্মক্ষম ও সতেজ রয়েছেন। তার এই অদ্ভুত খাদ্যাভ্যাসের বিষয়টি স্থানীয় লোকজনকে বিস্মিত করলেও তিনি সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে নিজের জীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

অমল কৃষ্ণের এই অস্বাভাবিক জীবনযাপনের নেপথ্যে রয়েছে চরম আর্থিক সংকট ও অভাবের বঞ্চনা। জীবনের শুরুর দিকটা এমন ছিল না, তিনি ১৯৮১ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ইন্টারমিডিয়েট পাস করেছিলেন। বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করার সুবাদে উদ্ভিদ নিয়ে তার মনে ছোটবেলা থেকেই এক ধরনের কৌতূহল কাজ করত। পরবর্তী সময়ে তীব্র খাদ্যসংকটের মুখে পড়ে তিনি প্রকৃতি থেকে উদ্ভিদ খেয়ে বেঁচে থাকার চেষ্টা শুরু করেন এবং একপর্যায়ে সেটিই তার প্রধান খাদ্যাভ্যাসে পরিণত হয়।

প্রকৃতির ওপর পুরোপুরি নির্ভরশীল এই মানুষের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কোনো নির্দিষ্ট মেনু বা সময় বাঁধা নেই। ক্ষুধা নিবারণের জন্য তিনি যখন যেখানে পান, লতাপাতা ও জলজ উদ্ভিদ চিবিয়ে খেয়ে নেন। নিজের কোনো স্থায়ী বসতি বা ঘরবাড়ি না থাকায় তিনি কখনো পরিচিতজনদের বাড়িতে আবার কখনো অন্যের আশ্রয়ে রাত কাটান। তবে বিষাক্ত কোনো উদ্ভিদ বা বস্তু তিনি কখনো মুখে তোলেন না বলে নিজেই জানিয়েছেন।

স্থানীয় চিকিৎসকরা অমল কৃষ্ণ সুতারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে তার শরীরে বড় কোনো জটিল রোগের অস্তিত্ব পাননি। নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত লতাপাতা খেয়েও তিনি কীভাবে সুস্থ আছেন, তা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য একটি গবেষণার বিষয় হতে পারে। তবে তার এই খাদ্যাভ্যাস সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত ও দীর্ঘদিনের অভ্যাসের ফল হওয়ায় অন্য কাউকে এটি অন্ধভাবে অনুসরণ না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।