ভারতের পাঞ্জাবের জলন্ধর জেলার লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটিতে এক নারী শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। গত রোববার ভোরে শুরু হওয়া এই বিক্ষোভে শত শত শিক্ষার্থী অংশ নেন এবং ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় শিক্ষার্থীরা জলন্ধর-ফাগওয়ারা জাতীয় মহাসড়কের একটি অংশ অবরোধ করেন, যার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হয়। এই আন্দোলন চলাকালীন ক্যাম্পাসের ভেতরে বিভিন্ন স্থাপনায় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মতো অপ্রীতিকর ঘটনাও ঘটে।
বিক্ষোভরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, গত ২৪ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের জি-থ্রি নামের মেয়েদের হোস্টেলে এক ছাত্রী বহিরাগত এক ব্যক্তির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ওই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন প্লাম্বার বা নির্মাণকর্মী জড়িত ছিলেন বলে দাবি করেন তারা। শিক্ষার্থীরা আরও অভিযোগ করেন যে, বিষয়টি তৎক্ষণাৎ হোস্টেল ওয়ার্ডেনকে জানানো হলেও কর্তৃপক্ষ কোনো ধরনের কার্যকর ব্যবস্থা নেয়নি। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরে থাকা সামরিক প্রদর্শনীতে রাখা একটি যুদ্ধবিমান ও ট্যাংকের পিঠে চড়ে তীব্র স্লোগান দিতে থাকেন। এছাড়া জানালার কাচ ভাঙচুর এবং কয়েকটি দোকানেও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
এদিকে শিক্ষার্থীদের এই ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে নড়েচড়ে বসেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ বিভাগ। জলন্ধর রেঞ্জের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ নবীন সিংলা জানিয়েছেন, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়েছে এবং এর ভিত্তিতে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত ব্যক্তির পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা না যাওয়ায় প্রাথমিকভাবে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে। এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত নিশ্চিত করতে ফাগওয়ারার পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, ফোন কল রেকর্ড বিশ্লেষণ এবং ফরেনসিক পরীক্ষা চালানো হবে।
ধর্ষণের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মেয়েদের হোস্টেলের নিরাপত্তা জোরদার এবং হোস্টেলের পুরো স্টাফ নারী কর্মী দিয়ে পরিচালনার দাবি জানানো হয়েছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব দাবি পূরণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, লাভলি প্রফেশনাল ইউনিভার্সিটির রেজিস্ট্রার মনিকা গুলাটি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে ধর্ষণের সমস্ত অভিযোগকে সম্পূর্ণ গুজব ও ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের দাবি, সমাজবিরোধী কিছু চক্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ক্যাম্পাসের পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে এবং সবাইকে গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।


































