খুলনার ত্রাস হিসেবে পরিচিত শীর্ষ অপরাধী এরশাদ শিকদারের দীর্ঘদিনের এক সহযোগীকে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক পর আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী। পরিচয় পরিবর্তন করে দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে দেশের বাইরে বিভিন্ন স্থানে আত্মগোপনে ছিলেন এই পলাতক আসামি। সম্প্রতি দেশের মাটিতে ফিরে আসার পর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাকে পাকড়াও করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অতীতে চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের দায়ে কঠোর সাজার রায় ঘোষণা করা হয়েছিল।
অভিযান সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিশেষায়িত দুটি দলের যৌথ উদ্যোগে খুলনা মহানগরীর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় এই সফল অভিযান পরিচালিত হয়। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে লুকিয়ে থাকা জয়নাল সরদার নামের ওই ব্যক্তিকে আটকের পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য স্থানীয় থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। মূলত বরিশাল জেলার গৌরনদী থানার বাসিন্দা এই ব্যক্তি অপরাধজগতে এরশাদ শিকদারের অত্যন্ত আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং তার বিরুদ্ধেই দীর্ঘদিন ধরে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ঝুলছিল।
তদন্ত নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ১৯৯০-এর দশকের শেষের দিকে খুলনার রূপসা থানায় একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত অভিযুক্ত জয়নালকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করে। এছাড়া মৃতদেহ গুম করার অত্যন্ত গুরুতর অপরাধে তাকে আলাদাভাবে আরও কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়, যা অনাদায়ে অতিরিক্ত শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, কুখ্যাত অপরাধী চক্রের সহযোগীরা যত দিনই পালিয়ে থাকুক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। দীর্ঘ ২৭ বছর ধরে ভিনদেশে পালিয়ে থেকেও শেষ রক্ষা হয়নি এই আসামির। আদালতের চূড়ান্ত রায়ের পর তাকে যথাযথ প্রক্রিয়ায় কারাগারে পাঠানোর বন্দোবস্ত করা হয়েছে এবং তার সহযোগীদের বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।




































