ঢাকা ০১:২৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সড়কের দুপাশে সবুজ বিপ্লব কলেজশিক্ষকের Logo ভক্তদের হৃদয় ভেঙে আলাদা হয়ে গেলেন এই জনপ্রিয় কিউট কাপল Logo প্রীতম–শেহতাজের বিবাহবিচ্ছেদ, কারণ জানালেন দুজন Logo জয়ের সেঞ্চুরি, রুয়েলের ৫ উইকেট Logo হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের অভিযান শুরু করেছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী Logo বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যখন পাকিস্তানের পাশে, তখন রাশিয়া ভারতের পাশে ছিল: জয়শঙ্কর Logo নোবিপ্রবির ৪র্থ জাতীয় বিজ্ঞান উৎসবের সমাপনী ও পুরষ্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত Logo সন্ত্রাসী কায়দায় রাবিতে সাংবাদিকদের উপর ছাত্রদলের হামলা Logo আয়নাবাজি: দক্ষিণ কোরিয়ায় থেকেই আদালতে আত্মসমর্পণ, পরে ধরা পড়ল জালিয়াতি Logo ভেঙে গেল প্রীতম-শাহতাজের সংসার, দিলেন বিচ্ছেদের ঘোষণা

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যখন পাকিস্তানের পাশে, তখন রাশিয়া ভারতের পাশে ছিল: জয়শঙ্কর

পশ্চিমা দেশগুলোর নানা ধরনের চাপ এবং সমালোচনা সত্ত্বেও মস্কোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখার সময় তিনি জানান, যখনই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা আঞ্চলিক অখণ্ডতা কোনো হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিশ্বমঞ্চে মস্কো তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং এই দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অভিজ্ঞতাই বর্তমান সময়ের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তৃতাকালে জয়শঙ্কর গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মস্কোর ধারাবাহিক সমর্থনের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এমন একটি সময়ও পার করতে হয়েছে যখন বিশ্ববাসীর বড় একটি অংশ পাকিস্তানের সামরিক একনায়কতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। অথচ সেই সংকটময় মুহূর্তেও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমানের রাশিয়া নয়াদিল্লির বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর বিপরীতে মস্কোর ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার দিকটিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউরোপ যেভাবে রাশিয়াকে দেখে, ভারতের পক্ষেও ঠিক একইভাবে সবকিছু মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্বার্থ রয়েছে এবং নয়াদিল্লি সেই অনুযায়ীই নিজেদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করবে। এর পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সমালোচনাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই শুরুতে পশ্চিমা দেশগুলোর পরোক্ষ উৎসাহে এই বাণিজ্য শুরু হয়েছিল।

সংসদের একটি বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বাণিজ্য প্রসারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এস জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ভারতীয় ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং প্রয়োজনে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির নীতি অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি ইউক্রেন সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়ে ভারত নিয়মিত মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শান্তির বার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান যুগ যুদ্ধের নয় এবং বিশ্বমঞ্চে আলোচনার মাধ্যমেই সব সংঘাতের অবসান ঘটাতে হবে।

জনপ্রিয়

সড়কের দুপাশে সবুজ বিপ্লব কলেজশিক্ষকের

বিশ্বের বেশির ভাগ দেশ যখন পাকিস্তানের পাশে, তখন রাশিয়া ভারতের পাশে ছিল: জয়শঙ্কর

প্রকাশিত ১২:০০:৪৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬

পশ্চিমা দেশগুলোর নানা ধরনের চাপ এবং সমালোচনা সত্ত্বেও মস্কোর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বজায় রাখার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। সম্প্রতি নয়াদিল্লিতে আয়োজিত মিউনিখ সিকিউরিটি কনফারেন্সে বক্তব্য রাখার সময় তিনি জানান, যখনই ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কিংবা আঞ্চলিক অখণ্ডতা কোনো হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিশ্বমঞ্চে মস্কো তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। ঐতিহাসিকভাবেই দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং এই দীর্ঘদিনের পারস্পরিক অভিজ্ঞতাই বর্তমান সময়ের কূটনৈতিক সিদ্ধান্তগুলোকে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বক্তৃতাকালে জয়শঙ্কর গত শতকের পঞ্চাশের দশক থেকে শুরু করে বর্তমান সময় পর্যন্ত মস্কোর ধারাবাহিক সমর্থনের কথা বিশেষভাবে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতে এমন একটি সময়ও পার করতে হয়েছে যখন বিশ্ববাসীর বড় একটি অংশ পাকিস্তানের সামরিক একনায়কতন্ত্রের পক্ষে অবস্থান নিয়েছিল। অথচ সেই সংকটময় মুহূর্তেও তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন ও বর্তমানের রাশিয়া নয়াদিল্লির বন্ধু হিসেবে পাশে দাঁড়িয়েছিল। বিশ্লেষকদের মতে, তাঁর এই মন্তব্যের মাধ্যমে মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের সপ্তম নৌবহর পাঠানোর বিপরীতে মস্কোর ঐতিহাসিক কূটনৈতিক ও সামরিক সহযোগিতার দিকটিই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কাছ থেকে ভারতের জ্বালানি তেল আমদানি নিয়ে পশ্চিমা দেশগুলোর সমালোচনার কঠোর জবাব দিয়েছেন ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন যে, ইউরোপ যেভাবে রাশিয়াকে দেখে, ভারতের পক্ষেও ঠিক একইভাবে সবকিছু মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভূরাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও স্বার্থ রয়েছে এবং নয়াদিল্লি সেই অনুযায়ীই নিজেদের পররাষ্ট্র নীতি নির্ধারণ করবে। এর পাশাপাশি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও এই সমালোচনাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে জানিয়েছে যে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতেই শুরুতে পশ্চিমা দেশগুলোর পরোক্ষ উৎসাহে এই বাণিজ্য শুরু হয়েছিল।

সংসদের একটি বিশেষ কমিটির সঙ্গে বৈঠকে জ্বালানি নিরাপত্তা ও পারস্পরিক বাণিজ্য প্রসারের কৌশল নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন এস জয়শঙ্কর। সেখানে তিনি স্পষ্ট করে বলেন যে, ভারতীয় ভোক্তাদের স্বার্থ সুরক্ষিত রাখাই সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার এবং প্রয়োজনে বহুমুখী উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির নীতি অব্যাহত রাখা হবে। পাশাপাশি ইউক্রেন সংকটের স্থায়ী সমাধানে কেবল কূটনৈতিক আলোচনার ওপর জোর দিয়ে ভারত নিয়মিত মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে বলে তিনি জানান। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর শান্তির বার্তার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান যুগ যুদ্ধের নয় এবং বিশ্বমঞ্চে আলোচনার মাধ্যমেই সব সংঘাতের অবসান ঘটাতে হবে।