জাতীয় ক্রিকেট লিগের প্রথম রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনে ব্যাট হাতে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছেন মাহমুদুল হাসান জয়। চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে রাজশাহীর বিপক্ষে ম্যাচে সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন এই ডানহাতি ব্যাটার। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে এটি তার ক্যারিয়ারের সপ্তম শতক। দিন শেষে তিনি ১০২ রানে অপরাজিত আছেন এবং তার সাথে ১৯০ রানের অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে ৮৬ রান নিয়ে ক্রিজে টিকে আছেন সাদিকুর রহমান। এর আগে রাজশাহী দল তাদের প্রথম ইনিংসে ৩৬৪ রান সংগ্রহ করে অলআউট হয়, যেখানে বাঁহাতি স্পিনার হাসান মুরাদ সফলভাবে ৪টি উইকেট শিকার করেন। দিনশেষে চট্টগ্রাম ম্যাচটিতে বেশ শক্ত অবস্থানে রয়েছে এবং উদ্বোধনী জুটির ব্যাটাররা প্রতিপক্ষের বোলারদের দারুণভাবে মোকাবিলা করেছেন।
এদিকে মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে রংপুরের বিপক্ষে বেশ বিপাকে পড়েছে ঢাকা দল। আগের দিনের সংগ্রহ নিয়ে ব্যাট করতে নামা রংপুর তাদের প্রথম ইনিংসে সবকটি উইকেট হারিয়ে ৩৪০ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন মোহাম্মদ রিজওয়ান, যা তার প্রথম শ্রেণির ক্যারিয়ারের প্রথম অর্ধশতক। এরপর বল হাতেও চমক দেখান এই অলরাউন্ডার এবং ঢাকার ইনিংসে ইতোমধ্যে দুটি উইকেট তুলে নেন। দিনের শেষ সেশনে ব্যাটিং করতে নেমে রংপুর বোলারদের তোপের মুখে পড়ে ঢাকা এবং মাত্র ১২০ রান তুলতেই তাদের ৬টি উইকেট হারিয়ে ম্যাচটিতে ব্যাকফুটে চলে যায়।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে নিজেদের আধিপত্য বজায় রেখেছে স্বাগতিক সিলেট দল। ময়মনসিংহের প্রথম ইনিংসের ৩১১ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে সিলেট দিন শেষে ৫ উইকেটে ২৩৬ রান সংগ্রহ করে। এর আগে ময়মনসিংহের ব্যাটারদের ইনিংসে লাগাম টানতে বড় ভূমিকা রাখেন সিলেটের বোলাররা, যেখানে পেসার তোফায়েল আহমেদ এবং দুই স্পিনার নাঈম আহমেদ ও নাবিল সামাদ প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট লাভ করেন। দলের পক্ষে ইনিংসের সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন অধিনায়ক ও ওপেনার জাকির হাসান এবং পাঁচে নেমে ৫৫ রান নিয়ে অপরাজিত থাকেন আসাদউল্লাহ আল গালিব।
অন্যদিকে খুলনায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে বরিশাল দল। খুলনা তাদের প্রথম ইনিংসে আগের দিনের সাথে রান যোগ করে শেষ পর্যন্ত ৪২৬ রানে অলআউট হয়। জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে চরম ব্যাটিং বিপর্যয়ের শিকার হয় বরিশাল এবং মাত্র ৯৪ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের পুরো ইনিংস। প্রতিপক্ষ বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের মুখে দলের অধিনায়ক ইফতেখার হোসেন সর্বোচ্চ ৪৪ রান করতে সক্ষম হন। খুলনার বোলারদের মধ্যে পেসার মেহেদী হাসান রানা ও স্পিনার শেখ পারভেজ প্রত্যেকে তিনটি করে উইকেট দখল করেন। বিশাল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় ফলোঅনে পড়তে বাধ্য হয় বরিশাল এবং দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ২ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৪৩ রান সংগ্রহ করে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কা নিয়ে মাঠ ছাড়ে।
এই ম্যাচে দল চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়লেও বল হাতে দারুণ নৈপুণ্য দেখিয়েছেন বরিশালের বাঁহাতি পেসার রুয়েল মিয়া। খুলনার শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে তিনি একাই শিকার করেছেন ৫টি উইকেট। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এটি তার পঞ্চমবারের মতো ইনিংসে পাঁচ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব। তার এই নান্দনিক বোলিং প্রচেষ্টা দলের বিপর্যয় পুরোপুরি আটকাতে না পারলেও ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের বিচারে বেশ প্রশংসিত হয়েছে। সামগ্রقভাবে জাতীয় ক্রিকেট লিগের এই রাউন্ডের দ্বিতীয় দিনটিতে দেশের বিভিন্ন ভেন্যুতে ব্যাটার ও বোলারদের জমজমাট লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে বেশ রোমাঞ্চকর একটি দিন অতিবাহিত হয়েছে।





































