ঢাকা ০৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ
Logo সাংবাদিকতা থেকে ‘মনের বন্ধু’: তৌহিদা শিরোপার গল্প | লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ | পর্ব–০৯ Logo ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নে বরিশালে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ শুরু Logo চট্টগ্রামের মেজবানি স্বাদ এবার ঢাকায়, রেনেসন্সের বাহারে ‘মেজ্জানত আইয়ুন’ Logo শত্রু ড্রোন শিকারে তুরস্কের নতুন প্রযুক্তি ‘গোকাল্প’ উন্মোচন Logo পানি নিয়ে আইন-পরিকল্পনা আছে, নেই সমন্বিত ব্যবস্থাপনা Logo পিঁপড়ারা কখনো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় না কেন Logo নিজেই বক্স ক্যামেরা বানিয়ে বদলে যাওয়া ঢাকার ছবি তুলেছেন এই আলোকচিত্রী Logo মশা দমনে ব্যর্থতার অভিযোগ, রাস্তায় মশারি টানিয়ে অবস্থান চার তরুণীর Logo ‘প্রধানমন্ত্রী আম্বানি’ স্টারলিংক নিয়ে মুকেশকে খোঁচা ইলন মাস্কের Logo বিশ্বাসের বাজারে সব মাল ভেজাল

পিঁপড়ারা কখনো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় না কেন

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রকৃতির এক বিস্ময়কর জীব হলো পিঁপড়া, যারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করার সময় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চলে। মাটিতে শত শত পিঁপড়া একসঙ্গে যাতায়াত করলেও তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায় না বললেই চলে। অথচ মানুষের তৈরি বড় বড় শহরে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার চিত্র অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। গবেষকদের দীর্ঘদিনের কৌতূহলের বিষয় ছিল কীভাবে এই ক্ষুদ্রকায় পতঙ্গগুলো নিখুঁত ট্রাফিক ব্যবস্থা বজায় রেখে চলাচল করে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় পিঁপড়ার এই সুশৃঙ্খল চলাচলের পেছনে লুকিয়ে থাকা চমৎকার কিছু কৌশল উন্মোচিত হয়েছে। এরা সাধারণত ফেরোমন নামক এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে পথঘাট নির্ধারণ করে এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। যখন একটি পিঁপড়া খাবার বা অন্য কোনো প্রয়োজনে চলাচল করে, তখন তার গতিবিধি ও সংকেত অনুসরণ করে বাকিরাও একই পথ ধরে। এই সম্মিলিত যোগাযোগের মাধ্যমেই তারা ভিড়ের মধ্যেও সংঘর্ষ এড়াতে সক্ষম হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পিঁপড়ারা কেবল রাসায়নিক সংকেতের ওপর নির্ভর করে না, বরং তাদের নিজস্ব কিছু শারীরিক আচরণও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তারা সামনের পথচারী পিঁপড়ার গতি এবং দূরত্ব অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারে। কোনো কারণে সামনে বাধা সৃষ্টি হলে বা অন্য কোনো পিঁপড়া বিপরীত দিক থেকে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে গতি কমিয়ে দেয় বা দিক পরিবর্তন করে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

প্রাণীজগতের এই ছোট্ট জীবের সুশৃঙ্খল চলাচলের কৌশল আধুনিক বিজ্ঞানীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। গবেষকরা মনে করছেন, পিঁপড়ার এই ট্রাফিক ব্যবস্থার অনুকরণ করে মানুষের আধুনিক নগর জীবনে যানজট নিরসন এবং রোবটিক্স প্রযুক্তিতে চলাচলের অ্যালগরিদম উন্নত করা সম্ভব। প্রকৃতির এই চমৎকার পাঠ আমাদের বাস্তব জীবনেও অনেক বড় সমস্যার সহজ সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।

জনপ্রিয়

সাংবাদিকতা থেকে ‘মনের বন্ধু’: তৌহিদা শিরোপার গল্প | লিগ্যাসি উইথ এমআরএইচ | পর্ব–০৯

পিঁপড়ারা কখনো একে অপরের সঙ্গে ধাক্কা খায় না কেন

প্রকাশিত ০৮:৩০:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রকৃতির এক বিস্ময়কর জীব হলো পিঁপড়া, যারা দলবদ্ধভাবে চলাফেরা করার সময় অত্যন্ত সুশৃঙ্খল নিয়ম মেনে চলে। মাটিতে শত শত পিঁপড়া একসঙ্গে যাতায়াত করলেও তাদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা যায় না বললেই চলে। অথচ মানুষের তৈরি বড় বড় শহরে তীব্র যানজট ও দুর্ঘটনার চিত্র অত্যন্ত সাধারণ একটি বিষয়। গবেষকদের দীর্ঘদিনের কৌতূহলের বিষয় ছিল কীভাবে এই ক্ষুদ্রকায় পতঙ্গগুলো নিখুঁত ট্রাফিক ব্যবস্থা বজায় রেখে চলাচল করে।

বিজ্ঞানীদের সাম্প্রতিক গবেষণায় পিঁপড়ার এই সুশৃঙ্খল চলাচলের পেছনে লুকিয়ে থাকা চমৎকার কিছু কৌশল উন্মোচিত হয়েছে। এরা সাধারণত ফেরোমন নামক এক ধরনের রাসায়নিক সংকেত ব্যবহার করে পথঘাট নির্ধারণ করে এবং একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে। যখন একটি পিঁপড়া খাবার বা অন্য কোনো প্রয়োজনে চলাচল করে, তখন তার গতিবিধি ও সংকেত অনুসরণ করে বাকিরাও একই পথ ধরে। এই সম্মিলিত যোগাযোগের মাধ্যমেই তারা ভিড়ের মধ্যেও সংঘর্ষ এড়াতে সক্ষম হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, পিঁপড়ারা কেবল রাসায়নিক সংকেতের ওপর নির্ভর করে না, বরং তাদের নিজস্ব কিছু শারীরিক আচরণও এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখে। সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তারা সামনের পথচারী পিঁপড়ার গতি এবং দূরত্ব অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পরিমাপ করতে পারে। কোনো কারণে সামনে বাধা সৃষ্টি হলে বা অন্য কোনো পিঁপড়া বিপরীত দিক থেকে এলে তারা তাৎক্ষণিকভাবে গতি কমিয়ে দেয় বা দিক পরিবর্তন করে। এর ফলে মুহূর্তের মধ্যে একটি স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা গড়ে ওঠে।

প্রাণীজগতের এই ছোট্ট জীবের সুশৃঙ্খল চলাচলের কৌশল আধুনিক বিজ্ঞানীদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ তৈরি করেছে। গবেষকরা মনে করছেন, পিঁপড়ার এই ট্রাফিক ব্যবস্থার অনুকরণ করে মানুষের আধুনিক নগর জীবনে যানজট নিরসন এবং রোবটিক্স প্রযুক্তিতে চলাচলের অ্যালগরিদম উন্নত করা সম্ভব। প্রকৃতির এই চমৎকার পাঠ আমাদের বাস্তব জীবনেও অনেক বড় সমস্যার সহজ সমাধান খুঁজে পেতে সাহায্য করতে পারে।