স্বাস্থ্য ডেস্ক: শিশুদের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণগুলোকে অনেক সময় সাধারণ ক্লান্তি, শারীরিক দুর্বলতা বা অ্যালার্জি ভেবে ভুল করেন অভিভাবকেরা। অথচ এসব শারীরিক পরিবর্তন দীর্ঘস্থায়ী হলে কিংবা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে তা গুরুতর কোনো রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। তাই শিশুদের শারীরিক অবস্থার প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া এবং কোনো জটিলতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। যুক্তরাজ্যে শিশুদের রোগজনিত মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ ক্যানসার হলেও দেশটির অনেক অভিভাবক এর লক্ষণগুলো সঠিকভাবে চিনতে পারেন না। ক্যানসার রিসার্চ ইউকের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিবছর শূন্য থেকে চৌদ্দ বছর বয়সী প্রায় এক হাজার নয়শো শিশুর শরীরে ক্যানসার ধরা পড়ে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের শরীরে ক্যানসারের উপসর্গগুলো প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় অনেক দ্রুত বিকশিত হতে পারে। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, অকারণে শরীরে কালশিটে দাগ পড়া এবং কোনো পিণ্ড বা ফোলা অংশ তৈরি হওয়া হলো ক্যানসারের প্রধান কিছু লক্ষণ। শিশুদের ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বব ফিলিপস জানান, কোনো একটি একক লক্ষণের পরিবর্তে একসঙ্গে একাধিক উপসর্গ দেখা দিচ্ছে কি না, সেদিকে অভিভাবকদের নজর রাখতে হবে। চিকিৎসকেরা লক্ষণ শনাক্তকরণের জন্য তিনের নিয়ম অনুসরণের ওপর জোর দিয়েছেন, যেখানে একই সমস্যা বা উপসর্গ দীর্ঘদিন স্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়ার কথা বলা হয়েছে। অ্যামেলিয়া ক্যারল ও জেক সুইনসকোর মতো কিশোর-কিশোরীদের ক্ষেত্রে প্রাথমিক লক্ষণগুলো সাধারণ সমস্যা মনে করে উপেক্ষা করার কারণে রোগ নির্ণয়ে কিছুটা সময় লেগেছিল।
অ্যামেলিয়া ক্যারলের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ক্লান্তি ও চোখের রক্তনালী ফেটে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিলেও মাত্র দশ দিনের মধ্যেই তার লিউকেমিয়া শনাক্ত করা সম্ভব হয়। অন্যদিকে, জেক সুইনসকোর নাক বন্ধ হওয়া ও চোখ দিয়ে পানি পড়ার মতো সাধারণ উপসর্গগুলোকে অ্যালার্জি মনে করা হয়েছিল, যা পরবর্তীতে নরম টিস্যুর ক্যানসার হিসেবে ধরা পড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ক্যানসার দ্রুত শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার জটিলতা ও কষ্ট অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব হয়। যুক্তরাজ্যে আক্রান্ত শিশুদের প্রায় অর্ধেকের রোগ দুই সপ্তাহের মধ্যে ধরা পড়লেও অনেকের ক্ষেত্রে কয়েক সপ্তাহ বা মাসও পার হয়ে যায়। তবে সত্তরের দশকের তুলনায় বর্তমানে শিশুদের ক্যানসারে বেঁচে থাকার হার অনেক বেড়েছে এবং আক্রান্তদের অধিকাংশই দীর্ঘমেয়াদী সুরক্ষা পাচ্ছে।
শিশুদের ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত রোগ নির্ণয়ের লক্ষ্যে বিভিন্ন সংগঠন ও বিশেষজ্ঞরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। সচেতনতা বাড়লে অভিভাবকদের পক্ষে সঠিক সময়ে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া সহজ হয়, যা শিশুদের প্রাণ বাঁচাতে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া জেকের মা লিনসি সুইনসকো তার ছেলের স্মৃতিরক্ষার্থে এবং সচেতনতা তৈরিতে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমে যুক্ত রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য সতর্কতা ও সঠিক সময়ে রোগ শনাক্তকরণ শিশুদের সুস্থ করে তোলার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।
































