ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ইতালিতে চলছে পর্যটকদের পকেট কাটার ট্রেন্ড

পর্যটন ডেস্ক: ইতালির রোম শহরে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এক অভিনব বাণিজ্যিক কৌশল বা ট্যুরিস্ট ট্র্যাপ চালু হয়েছে। রেস্তোরাঁগুলোর রাস্তার পাশের জানালায় বয়স্ক নারীদের বসিয়ে রেখে হাতে তাজা পাস্তা বানানোর দৃশ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে পর্যটকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। নস্টালজিয়া ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই ট্রেন্ডকে ইতালীয় ভাষায় নোনা ম্যাক্সিং বলা হচ্ছে।

ইতালীয় পরিবারগুলোতে বয়স্ক নারীরা বা ‘নোনা’রা বংশপরম্পরায় ঐতিহ্যবাহী রেসিপি ও রান্নার ধারা বাঁচিয়ে রেখেছেন। গ্রীষ্মের পর্যটন মৌসুমে রোমের রেস্তোরাঁগুলো এই ঘরোয়া আবেগকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পথচারী ও পর্যটকেরা এই দৃশ্য দেখে উৎফুল্ল হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও খাদ্যবিশেষজ্ঞরা একে বাণিজ্যিক প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, খাঁটি ইতালীয় রেস্তোরাঁয় এমন কৃত্রিম প্রদর্শনী বা প্রচারের কোনো প্রচলন নেই।

খাদ্যপ্রেমী ও শেফদের অনেকেই এই নতুন প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে একে চিড়িয়াখানার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ফুড ট্যুর কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, পাস্তা সুস্বাদু হলেও এভাবে মানুষকে কাচের পেছনে প্রদর্শনীতে রাখা একদমই অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোমের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ এখন কৃত্রিম ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, মানসম্মত ও আসল রেস্তোরাঁয় স্থানীয় মানুষেরাই খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ায়।

এর বিপরীতে কিছু রেস্তোরাঁ এই ধারার মাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং অনেক পর্যটকও এর প্রশংসা করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, সত্যিকারের ইতালীয় সংস্কৃতি ও খাবারের স্বাদ পেতে হলে কাচের জানালার বাইরের এই কৃত্রিম প্রদর্শনী এড়িয়ে চলা উচিত। পর্যটকদের জন্য কাচের ওপারের সাজানো দৃশ্য দেখার চেয়ে স্থানীয়দের পছন্দ করা সাধারণ রেস্তোরাঁয় যাওয়া বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

জনপ্রিয়

ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে শেষ হল ‘ক্যারিয়ার ফেয়ার’

ইতালিতে চলছে পর্যটকদের পকেট কাটার ট্রেন্ড

প্রকাশিত ১১:০৭:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পর্যটন ডেস্ক: ইতালির রোম শহরে পর্যটকদের আকর্ষণ করতে এক অভিনব বাণিজ্যিক কৌশল বা ট্যুরিস্ট ট্র্যাপ চালু হয়েছে। রেস্তোরাঁগুলোর রাস্তার পাশের জানালায় বয়স্ক নারীদের বসিয়ে রেখে হাতে তাজা পাস্তা বানানোর দৃশ্য প্রদর্শন করা হচ্ছে। এই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দী করে পর্যটকেরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। নস্টালজিয়া ও মানুষের আবেগকে পুঁজি করে গড়ে ওঠা এই ট্রেন্ডকে ইতালীয় ভাষায় নোনা ম্যাক্সিং বলা হচ্ছে।

ইতালীয় পরিবারগুলোতে বয়স্ক নারীরা বা ‘নোনা’রা বংশপরম্পরায় ঐতিহ্যবাহী রেসিপি ও রান্নার ধারা বাঁচিয়ে রেখেছেন। গ্রীষ্মের পর্যটন মৌসুমে রোমের রেস্তোরাঁগুলো এই ঘরোয়া আবেগকে ব্যবসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। পথচারী ও পর্যটকেরা এই দৃশ্য দেখে উৎফুল্ল হলেও স্থানীয় বাসিন্দা ও খাদ্যবিশেষজ্ঞরা একে বাণিজ্যিক প্রতারণা হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, খাঁটি ইতালীয় রেস্তোরাঁয় এমন কৃত্রিম প্রদর্শনী বা প্রচারের কোনো প্রচলন নেই।

খাদ্যপ্রেমী ও শেফদের অনেকেই এই নতুন প্রবণতার তীব্র সমালোচনা করে একে চিড়িয়াখানার সঙ্গে তুলনা করেছেন। ফুড ট্যুর কোম্পানির এক কর্মকর্তা জানান, পাস্তা সুস্বাদু হলেও এভাবে মানুষকে কাচের পেছনে প্রদর্শনীতে রাখা একদমই অনুচিত। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রোমের ঐতিহাসিক কেন্দ্রের বেশির ভাগ রেস্তোরাঁ এখন কৃত্রিম ফাঁদে পরিণত হয়েছে। তাঁরা মনে করেন, মানসম্মত ও আসল রেস্তোরাঁয় স্থানীয় মানুষেরাই খাবারের জন্য দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ায়।

এর বিপরীতে কিছু রেস্তোরাঁ এই ধারার মাধ্যমে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে এবং অনেক পর্যটকও এর প্রশংসা করেছেন। তবে সমালোচকদের মতে, সত্যিকারের ইতালীয় সংস্কৃতি ও খাবারের স্বাদ পেতে হলে কাচের জানালার বাইরের এই কৃত্রিম প্রদর্শনী এড়িয়ে চলা উচিত। পর্যটকদের জন্য কাচের ওপারের সাজানো দৃশ্য দেখার চেয়ে স্থানীয়দের পছন্দ করা সাধারণ রেস্তোরাঁয় যাওয়া বেশি বুদ্ধিমানের কাজ হবে।