ঢাকা ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন চাকরির প্রতারণা ও প্রতিকার

মতামত ডেস্ক: বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির চক্র আকর্ষণীয় বেতন বা ঘরে বসে আয়ের লোভ দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভুয়া বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ভুয়া চাকরির এই বিজ্ঞাপনগুলো কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং এর সঙ্গে মানব পাচারেরও যোগসূত্র রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া দেশের ভেতরেও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সিআইডির তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মতে, অপরাধ চক্রগুলো ভুয়া চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় প্রশিক্ষণ বা ভ্রমণের নাম করে অগ্রিম অর্থ দাবি করে থাকে। চাকরির আবেদনের সময় প্রার্থীর দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্যগুলোর অপব্যবহারের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে চাকরিপ্রার্থীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার কোনো বিকল্প নেই।

অনলাইনে কোনো ধরনের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই তাতে দ্রুত সাড়া দেওয়া কিংবা কোনো অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আবেদন করার আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।

কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ভুয়া বিজ্ঞাপন অপসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ও এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

জনপ্রিয়

ঘুম থেকে উঠে যে দোয়া পড়তেন মহানবী (সা.)

অনলাইন চাকরির প্রতারণা ও প্রতিকার

প্রকাশিত ০৯:৫২:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

মতামত ডেস্ক: বর্তমান সময়ে তরুণ সমাজের একটি বড় অংশ কর্মসংস্থানের সন্ধানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভর করছে। কিন্তু এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে এক শ্রেণির চক্র আকর্ষণীয় বেতন বা ঘরে বসে আয়ের লোভ দেখিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের সঙ্গে প্রতারণা করছে। ভুয়া বিজ্ঞাপনের ফাঁদে ফেলে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ ও সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, ভুয়া চাকরির এই বিজ্ঞাপনগুলো কেবল আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং এর সঙ্গে মানব পাচারেরও যোগসূত্র রয়েছে। দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মানুষকে মিথ্যা প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে বিদেশে নিয়ে জোরপূর্বক সাইবার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করা হয়। এ ছাড়া দেশের ভেতরেও টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ভুয়া ওয়েবসাইট খুলে বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনা সিআইডির তদন্তে প্রকাশ পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংস্থার মতে, অপরাধ চক্রগুলো ভুয়া চাকরির লোভ দেখিয়ে প্রাথমিক অবস্থায় প্রশিক্ষণ বা ভ্রমণের নাম করে অগ্রিম অর্থ দাবি করে থাকে। চাকরির আবেদনের সময় প্রার্থীর দেওয়া ব্যক্তিগত তথ্যগুলোর অপব্যবহারের ঝুঁকিও অনেক বেশি থাকে। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে চাকরিপ্রার্থীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করার কোনো বিকল্প নেই।

অনলাইনে কোনো ধরনের চাকরির বিজ্ঞাপন দেখলেই তাতে দ্রুত সাড়া দেওয়া কিংবা কোনো অর্থ প্রদান করা থেকে বিরত থাকা উচিত। আবেদন করার আগে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানের বৈধতা এবং যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ভালোভাবে যাচাই করে নেওয়া জরুরি। পাশাপাশি বিদেশে চাকরির ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সঠিক তথ্য নিশ্চিত করতে হবে।

কেবল ব্যক্তিগত সচেতনতা নয়, বরং অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে ভুয়া বিজ্ঞাপন অপসারণ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি বাড়াতে হবে। রাষ্ট্র, প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও গণমাধ্যমের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমেই কেবল এই ধরনের প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড ও এর ঝুঁকি কমানো সম্ভব।