ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
সর্বশেষ সংবাদ

ঘোড়া যেভাবে মানুষের সঙ্গী হল

ফিচার ডেস্ক: বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী প্রায় চার হাজার দুইশ বছর আগে ইউরেশিয়াজুড়ে আধুনিক গৃহপালিত ঘোড়ার একটি নির্দিষ্ট বংশধারা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানবজীবনে ঘোড়া বহু যুগ ধরে যাতায়াত, কৃষিকাজ ও যুদ্ধের মতো বিভিন্ন কার্যক্রমে বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মানুষ ও এই চতুষ্পদ প্রাণীর দীর্ঘদিনের পথচলার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় ইতিহাস। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে এই প্রাচীন যোগাযোগের নানা অজানা তথ্য উন্মোচিত হয়েছে যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্রায় চারশ পঁচাত্তরটি প্রাচীন ঘোড়ার জিনোম বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে ঠিক ওই সময় থেকেই মানুষের যাতায়াতে ঘোড়ার ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ঘোড়ার এই বহুমুখী ব্যবহারের ফলে মানবজাতির চলাচল, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। তবে মানুষ ও ঘোড়ার এই সম্পর্কের সূচনার ইতিহাস আরও অনেক আগের বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার পাঁচশ বছর আগে কাজাখস্তানের বোটাই সংস্কৃতির মানুষ ঘোড়া লালনপালন করত। তবে বর্তমান যুগের সব গৃহপালিত ঘোড়ার উৎপত্তি সেই প্রাচীন প্রাণীদের থেকে হয়নি বলে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানের ঘোড়াগুলো মূলত প্রায় চার হাজার সাতশ বছর আগে পশ্চিম রাশিয়ার স্টেপ অঞ্চলে গড়ে ওঠা একটি বিশেষ বংশধারা থেকে এসেছে। পরবর্তীতে এই নির্দিষ্ট বংশধারার প্রাণীগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সমগ্র ইউরেশিয়া অঞ্চলে বিস্তার লাভ করেছিল।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুসারে দীর্ঘ শতাব্দী ধরে ঘোড়া মানুষের যাতায়াত, কৃষি কাজ এবং ভার বহনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও এই প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান আধুনিক যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলাধুলা, পর্যটন এবং নানা কর্মক্ষেত্রে ঘোড়ার অপরিহার্য ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।

জনপ্রিয়

ইমরান খানের ঘাঁটি অবরুদ্ধ করেছে পাকিস্তান, উল্টো হতে পারে ফল

ঘোড়া যেভাবে মানুষের সঙ্গী হল

প্রকাশিত ০২:২২:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

ফিচার ডেস্ক: বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী প্রায় চার হাজার দুইশ বছর আগে ইউরেশিয়াজুড়ে আধুনিক গৃহপালিত ঘোড়ার একটি নির্দিষ্ট বংশধারা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। মানবজীবনে ঘোড়া বহু যুগ ধরে যাতায়াত, কৃষিকাজ ও যুদ্ধের মতো বিভিন্ন কার্যক্রমে বিশ্বস্ত সঙ্গী হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। মানুষ ও এই চতুষ্পদ প্রাণীর দীর্ঘদিনের পথচলার পেছনে রয়েছে হাজার বছরের সমৃদ্ধ ও আকর্ষণীয় ইতিহাস। সাম্প্রতিক বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ থেকে এই প্রাচীন যোগাযোগের নানা অজানা তথ্য উন্মোচিত হয়েছে যা বেশ তাৎপর্যপূর্ণ।

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী নেচারে প্রকাশিত একটি গবেষণায় প্রায় চারশ পঁচাত্তরটি প্রাচীন ঘোড়ার জিনোম বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে ঠিক ওই সময় থেকেই মানুষের যাতায়াতে ঘোড়ার ব্যবহার নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। ঘোড়ার এই বহুমুখী ব্যবহারের ফলে মানবজাতির চলাচল, বাণিজ্য এবং সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক বড় ধরণের পরিবর্তন আসে। তবে মানুষ ও ঘোড়ার এই সম্পর্কের সূচনার ইতিহাস আরও অনেক আগের বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী প্রায় পাঁচ হাজার পাঁচশ বছর আগে কাজাখস্তানের বোটাই সংস্কৃতির মানুষ ঘোড়া লালনপালন করত। তবে বর্তমান যুগের সব গৃহপালিত ঘোড়ার উৎপত্তি সেই প্রাচীন প্রাণীদের থেকে হয়নি বলে গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানের ঘোড়াগুলো মূলত প্রায় চার হাজার সাতশ বছর আগে পশ্চিম রাশিয়ার স্টেপ অঞ্চলে গড়ে ওঠা একটি বিশেষ বংশধারা থেকে এসেছে। পরবর্তীতে এই নির্দিষ্ট বংশধারার প্রাণীগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে সমগ্র ইউরেশিয়া অঞ্চলে বিস্তার লাভ করেছিল।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার তথ্য অনুসারে দীর্ঘ শতাব্দী ধরে ঘোড়া মানুষের যাতায়াত, কৃষি কাজ এবং ভার বহনের কাজে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এমনকি সামরিক ক্ষেত্রেও এই প্রাণীর গুরুত্বপূর্ণ অবদানের কথা বিভিন্ন ঐতিহাসিক তথ্যে বারবার প্রমাণিত হয়েছে। বর্তমান আধুনিক যুগেও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে খেলাধুলা, পর্যটন এবং নানা কর্মক্ষেত্রে ঘোড়ার অপরিহার্য ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে।