ফিচার ডেস্ক: আমাদের চারপাশে থাকা সোনা, লোহা বা অক্সিজেনের মতো প্রতিটি মৌলই হলো প্রকৃতির লেগো ব্লকের মতো, যা দিয়ে এই বিশাল পৃথিবী গঠিত হয়েছে। সপ্তদশ শতাব্দীতে সস্তা ধাতুকে সোনা বানানোর লোভ থেকে হেনিগ ব্রান্ড নামের এক জার্মান আলকেমিস্ট পরশপাথর খোঁজার পরীক্ষা শুরু করেছিলেন। জাদুর সেই পাথর তৈরির অদ্ভুত এক তাগিদে তিনি প্রায় ৬ হাজার লিটার বা ১ হাজার ৫০০ গ্যালন মানুষের প্রস্রাব জোগাড় করেন।
১৬৬৯ সালে তিনি বিশাল সব পাত্রে সেই প্রস্রাব ফুটিয়ে আলাদা করার কাজ শুরু করেন এবং পরশপাথরের বদলে এমন একটি পদার্থ পান যা অন্ধকারে জ্বলজ্বল করত। কোল্ড ফায়ার বা ঠান্ডা আগুন নামে অভিহিত এই পদার্থটিই মূলত রসায়নের ইতিহাসের প্রথম আবিষ্কৃত মৌল ফসফরাস। যদিও হেনিগ ঘুণাক্ষরেও বুঝতে পারেননি যে তিনি আসলে কী আবিষ্কার করেছেন, তবুও তাঁর এই পাগলাটে পরীক্ষা-নিরীক্ষার হাত ধরেই মূলত আধুনিক রসায়নের যাত্রা শুরু হয়েছিল।
হেনিগের এই আবিষ্কারের অনেক বছর পর ১৭৭০-এর দশকে ফসফরাসকে একটি নতুন মৌল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এরপর বিজ্ঞানীদের মাঝে মৌল আবিষ্কারের এক বিরাট হিড়িক পড়ে যায় এবং মাত্র ১০ বছরের ব্যবধানে অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, ক্লোরিন ও ম্যাঙ্গানিজের মতো গুরুত্বপূর্ণ মৌলগুলো আলাদা করা হয়। হেনিগের সেই আবিষ্কারের ঠিক দুই শতাব্দী পর ১৮৬৯ সালে রুশ বিজ্ঞানী দিমিত্রি মেন্ডেলিভ আবিষ্কৃত সব মৌলকে সাজিয়ে একটি চমৎকার পর্যায় সারণি বা পিরিওডিক টেবিল তৈরি করেন।
এই পর্যায় সারণিতে সিলিকন ও সালফারের ঠিক মাঝখানে ফসফরাস তার সঠিক জায়গা খুঁজে পায় এবং বিজ্ঞানীরা মৌলগুলোকে ইংরেজি অক্ষরের প্রতীক ও সংখ্যার মাধ্যমে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত করেন। আলকেমিস্টদের লোভ বা পরশপাথর খোঁজার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও, তাঁদের সেই অদ্ভুত পরীক্ষা-নিরীক্ষার পথ ধরেই আজকের আধুনিক বিজ্ঞান ও রসায়নের ভিত্তি রচিত হয়েছে।







































