ডেস্ক রিপোর্ট: পৃথিবীর বাইরে অন্য কোনো গ্রহ বা উপগ্রহের পৃষ্ঠে দূরনিয়ন্ত্রিত যান চালনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি পথ পেরিয়ে অনন্য মাইলফলক স্পর্শ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার রোবোটিক রোভার পার্সিভ্যারেন্স। সম্প্রতি নাসা জানিয়েছে, ২০২১ সালে লাল গ্রহে অবতরণের পর থেকে ছয় চাকার এই রোবট যানটি মোট ৪৫ দশমিক ২ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। এর মাধ্যমে এটি ২০০৪ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে নাসারই অপর রোভার অপারচুনিটির চালিত ৪৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পুরনো রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। এই অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল মঙ্গলে অতীতে কোনো অণুজীব বা প্রাণের উপযোগী পরিবেশের অস্তিত্ব ছিল কি না তা অনুসন্ধান করা।
আধুনিক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতিতে সমৃদ্ধ এই রোভারটি মঙ্গলের উত্তর গোলার্ধের জেজেরো ক্রেটার এলাকায় দীর্ঘ সময় ধরে গবেষণা পরিচালনা করছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, শত কোটি বছর আগে এই অঞ্চলটি পানিতে প্লাবিত ছিল এবং সেখানে একটি বড় হ্রদ বা লেক অববাহিকা ছিল। লাক দ্য চার্মস ডাকনামের একটি অঞ্চলের মধ্য দিয়ে ইদুবি এলাকার দিকে যাত্রাপথে সম্প্রতি যানটি এই রেকর্ড গড়েছে। এছাড়া মঙ্গলের বিষুবরেখার কাছাকাছি গেল ক্রেটারে নাসার কিউরিওসিটি নামের আরেকটি রোভারও বর্তমানে নিয়মিত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
নাসার জেট প্রোপালশন ল্যাবরেটরির প্রকল্প ব্যবস্থাপক স্টিভেন লি জানিয়েছেন, পার্সিভ্যারেন্সের ভেতরের যন্ত্রপাতি ও প্রকৌশল সামগ্রীগুলো অত্যন্ত চমৎকার অবস্থায় রয়েছে। যানটির স্বয়ংক্রিয় গাড়ি চালানোর বিশেষ প্রযুক্তি বা অটোনেভ ব্যবস্থার কারণে মানুষের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়াই নব্বই শতাংশ পথ অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে। এই উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে রোভারটি নিজেই ত্রিমাত্রিক ম্যাপ তৈরি করে গন্তব্যে পৌঁছানোর সবচেয়ে নিরাপদ পথ বেছে নেয়। অতীতের চারটি মঙ্গল রোভারের দীর্ঘ প্রায় তিন দশকের অভিজ্ঞতার আলোকে এই যানটিকে আরও উন্নত করা হয়েছে।
রোভারটির এ যাবৎকালের সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সাফল্য হিসেবে গেল বছর প্রাচীন কোনো অণুজীবের সম্ভাব্য জীবাশ্ম বা প্রাণের বায়োসিগনেচার আবিষ্কারকে চিহ্নিত করা হয়েছে। জেজেরো ক্রেটারের শিলার মধ্যে এই সম্ভাব্য আলামত পাওয়ার পাশাপাশি গ্রহটির প্রাথমিক ভূতাত্ত্বিক প্রক্রিয়া ও উল্কাপাতের প্রভাব সম্পর্কেও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলেছে। প্রাথমিক মিশনে মাত্র কুড়ি কিলোমিটার পথ পাড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, এর দারুণ সাফল্যের কারণে অভিযানের মেয়াদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে নাসা। বিজ্ঞানীরা আশা করছেন, রোভারটির ভেতরের প্লুটোনিয়ামভিত্তিক পাওয়ার সিস্টেমের কল্যাণে এটি ২০৩০-এর দশক পর্যন্ত নির্বিঘ্নে কাজ চালিয়ে যেতে পারবে।







































