রাজনীতি ডেস্ক: হাতে পিস্তল ও হ্যান্ড মাইক নিয়ে রাজধানীর গেণ্ডারিয়া রেললাইন সংলগ্ন এলাকায় একটি মাদকবিরোধী অভিযানে অংশ নেন মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন। গাড়ি থেকে নেমে তিনি স্লাইড টেনে পিস্তল প্রস্তুত করে একদল লোককে তাড়া করেন এবং তাদের উদ্দেশ্যে চিৎকার করেন। সম্প্রতি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। ভিডিওর ক্যাপশনে দাবি করা হয়েছে যে, ওই অভিযানে একটি মাদকের আস্তানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং মাদক বিক্রেতাদের পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে।
প্রকাশিত ভিডিওটিতে দেখা যায়, প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাদা পোশাকধারী আরও একজন ব্যক্তি অস্ত্র হাতে কিছু ব্যক্তিকে ধাওয়া করছেন। গেণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, প্রতিমন্ত্রী মহোদয় ছয়জনকে ধরে মাদকসেবী হিসেবে থানায় হস্তান্তর করার পর পুলিশ গিয়ে তাদের হেফাজতে নেয়। আটককৃতদের কাছ থেকে কিছু পাউডার জাতীয় বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে, যা পরীক্ষার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে এই ধরনের অভিযান পরিচালনার বিষয়ে স্থানীয় থানাকে আগে থেকে জানানো হয়েছিল কিনা, সে বিষয়ে কোনো স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
পুলিশের ওয়ারি বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার মাসুদ রানা জানান, তারা বিষয়টি পরে জানতে পেরেছেন এবং প্রতিমন্ত্রী ছয়-সাতজন ব্যক্তিকে ধরে থানায় সোপর্দ করেছেন। জনপ্রতিনিধি হয়ে এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র উঁচিয়ে অভিযান চালানোর বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ভিডিওটির কমেন্ট বক্সে অনেকে প্রতিমন্ত্রীর এই অ্যাকশনের প্রশংসা করলেও অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন যে, পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থাকতে একজন প্রতিমন্ত্রী কেন এভাবে নিজে অস্ত্র হাতে অভিযানে নামলেন। লাইসেন্সকৃত অস্ত্র প্রকাশ্যে এভাবে ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়েও নেটিজেনদের একাংশ নানা মন্তব্য প্রকাশ করেছেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই ভিডিও ক্লিপটিতে হাজার হাজার মন্তব্য ও প্রতিক্রিয়া জমা হয়েছে। কেউ কেউ বিষয়টিকে সিনেমার দৃশ্যের সঙ্গে তুলনা করলেও অনেকেই একে দেশের প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলে মন্তব্য করেছেন। সরকারের একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রীর এমন ব্যতিক্রমী ও সরাসরি হস্তক্ষেপে পরিচালিত অভিযান দেশের বিভিন্ন মহলে বেশ আলোড়ন তৈরি করেছে। এর ফলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকা নিয়ে নতুন করে জনমনে বিভিন্ন প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।






































