রাজনীতি ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অভিযোগ করেছেন যে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারী শক্তি ও বিরোধী দল মিলে দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালাচ্ছে। সম্প্রতি রাজশাহীর হাজী মুহাম্মদ মহসীন উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় তিনি দেশবাসীকে এ বিষয়ে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। গোয়েন্দা রিপোর্টের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, দেশের কয়েকটি কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ তৈরির পেছনে সীমান্ত পার থেকে অর্থায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ একটি দল এই ষড়যন্ত্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে দেশে অস্থিরতা তৈরি করার অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সাধারণ মানুষের অর্থনৈতিক মুক্তির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই কুচক্রী মহল সক্রিয় রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। সমাবেশে যোগদানের আগে তিনি রংপুরে পূজা মণ্ডপ পরিদর্শন করেন এবং সামরিক বিমানে রাজশাহী পৌঁছান। এছাড়া পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের কাজ দ্রুত শুরু করে শেষ করার ঘোষণা দেন সরকারপ্রধান।
জনসভার শুরুতে প্রধানমন্ত্রী রাজশাহী অঞ্চলের প্রায় ৩৯ হাজার আখচাষীর মাঝে মোট ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ করেন। কম্পিউটারে বোতাম চেপে তিনি সরাসরি চাষীদের মোবাইল অ্যাকাউন্টে এই অর্থ পৌঁছে দেন এবং অনুষ্ঠানে ১৫ জন চাষীর হাতে প্রতীকী চেক তুলে দেন। বেকারত্ব দূর করতে বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালুর সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি জানান, বিগত সাত মাসে ইতোমধ্যে ছয়টি বন্ধ মিল চালু করা হয়েছে। আগামী জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের মধ্যে সারা দেশে আরও প্রায় ৪৬টি বন্ধ কারখানা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। শ্রমিকদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য বলে জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। এছাড়া সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়সহ স্থানীয় সংসদ সদস্যরা। সমাবেশে রাজশাহী জেলার বিভিন্ন এলাকার হাজার হাজার নেতাকর্মী ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী-পুরুষরা অংশ নেন।
দেশবাসীকে যেকোনো ধরনের চক্রান্তের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, যারা দেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে বিশ্বাস করে না, তারাই আজ নানা মিথ্যাচার ও প্রোপাগাণ্ডা ছড়াচ্ছে। জনগণের সচেতনতাই এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির যেকোনো অপচেষ্টা রুখে দিতে পারে। দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এবং উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সবাইকে সজাগ থাকার তাগিদ দেন তিনি।





































