লাইফস্টাইল ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রবেশ করলেই দেখা যায় পরিচিত বা সমবয়সী অনেকের ভালো ফলাফল, ভ্রমণ কিংবা সাফল্যের নানা চিত্র। এসব বিষয় কখনো অনুপ্রেরণা জোগালেও অনেক সময় মনে হতে পারে অন্যরা অনেক এগিয়ে গেছে। কিশোর বয়সে নিজস্ব পরিচয় ও যোগ্যতা গঠনের এই সময়ে এমন তুলনা মনে গভীর অসন্তুষ্টি তৈরি করতে পারে।
তবে অনলাইন মাধ্যমের সব অভিজ্ঞতা যে নেতিবাচক, বিষয়টি তেমন নয় বরং এখান থেকে নতুন দক্ষতা অর্জন ও প্রতিভা প্রকাশ করা সম্ভব। মূল সমস্যাটি তৈরি হয় যখন কেউ অন্যের খণ্ডিত সাফল্যকে নিজের ব্যক্তিগত ব্যর্থতা হিসেবে ধরে নেয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাধারণত মানুষের জীবনের কেবল সুন্দর মুহূর্তগুলোই বেশি দৃশ্যমান হয়।
অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত সামান্য কিছু ছবি বা ভিডিও দিয়ে কারও গোটা জীবনকে মূল্যায়ন করা অত্যন্ত ভুল একটি সিদ্ধান্ত। কারণ সেসব মানুষের জীবনের নেপথ্যের বাধা, ব্যর্থতা কিংবা দুশ্চিন্তার দিকগুলো কখনোই সাধারণের চোখে পড়ে না। সবার আগ্রহ, দক্ষতা এবং জীবনে এগিয়ে যাওয়ার পথ সম্পূর্ণ আলাদা ও স্বতন্ত্র হয়ে থাকে।
প্রত্যেক মানুষ পড়াশোনা, খেলাধুলা, লেখালেখি কিংবা ছবি আঁকার মতো ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্রে নিজস্ব পারদর্শিতা প্রদর্শন করে থাকে। তাই অন্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় তুলনা না করে নিজের ভেতরকার দক্ষতা বৃদ্ধি এবং নতুন কিছু শেখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া উচিত। সামাজিক মাধ্যম কেবল দৈনন্দিন জীবনের একটি ক্ষুদ্র অংশ মাত্র, পুরো জীবন কখনোই নয়।
অন্যের মতো হওয়ার অন্ধ চাপে না ভুগে বরং নিজের প্রকৃত সামর্থ্য ও শক্তি অনুযায়ী সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা দরকার। কিশোর বয়সের এই মানসিকতা বজায় রাখলে অনলাইনের নেতিবাচক প্রভাব থেকে মুক্ত থেকে নিজের ওপর আস্থা ধরে রাখা সম্ভব হয়। সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করলে মানসিক শান্তি বজায় রাখা সহজ হয়।






































