প্রযুক্তি ডেস্ক: দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির ব্যবহার অত্যন্ত দ্রুতগতিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি প্রকাশিত গুগলের একটি বার্ষিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে অঞ্চলটিতে জেনারেটিভ এআই ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইতোমধ্যে ২৪ কোটি ৩০ লাখে পৌঁছেছে। এই বিশাল সংখ্যক ব্যবহারকারী অঞ্চলটির মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার প্রায় ৫৮ শতাংশের সমান। প্রযুক্তিটির এই প্রসারের গতি মোবাইল ইন্টারনেট চালুর গতির তুলনায় প্রায় চারগুণেরও বেশি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। তবে এত ব্যাপক ব্যবহারের বিপরীতে ব্যক্তিগত পর্যায়ে এআইয়ের জন্য সাবস্ক্রিপশন ফি দেওয়ার হার মাত্র এক থেকে দুই শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
সাবস্ক্রিপশন থেকে সরাসরি বড় অঙ্কের আয় না হলেও বিভিন্ন কোম্পানি বিকল্প উপায়ে এআই থেকে মুনাফা অর্জনের পথ তৈরি করেছে। অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে ডিজিটাল বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে এই প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহার এখন বেশ লক্ষণীয়। ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলো গ্রাহকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া এবং কেনাকাটার প্রক্রিয়া সহজ করতে এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছে। এর ফলে কর্মীরা আরও জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোতে নিজেদের মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এছাড়া পরোক্ষভাবে বিভিন্ন পণ্য কেনার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এই প্রযুক্তির মূল্য পরিশোধ করছেন।
এআই প্রযুক্তির প্রতি স্থানীয় গ্রাহকদের ইতিবাচক মানসিকতা ও নতুন প্রযুক্তি গ্রহণের প্রবণতা এর প্রসারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। গবেষকদের মতে এই অঞ্চলের মানুষ বেশ পরীক্ষাপ্রবণ এবং তারা নতুন প্রযুক্তির বাস্তব সুবিধাগুলো দ্রুত লুফে নিচ্ছেন। জরিপে অংশ নেওয়া সিংহভাগ মানুষ জানিয়েছেন যে তারা কেনাকাটা সম্পন্ন করা ও সেরা দাম খুঁজে বের করার মতো কাজে এআই এজেন্টের ওপর ভরসা রাখতে প্রস্তুত। একক দেশ হিসেবে সিঙ্গাপুর এই প্রযুক্তির ব্যবহার শুরুর ক্ষেত্রে অন্যতম অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই অঞ্চলের মানুষের মাঝে এআই টুলের ওপর আস্থা ও বিশ্বাসের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
ব্যবসা বা বাণিজ্যের ক্ষেত্রে এআই ব্যবহারের সুফল এখন অত্যন্ত স্পষ্ট ও বাস্তব রূপ ধারণ করেছে। জটিল ও ব্যয়বহুল পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে বড় একটি অংশের ক্রেতা বিভিন্ন পণ্যের তুলনা করতে এআইয়ের সহায়তা নিচ্ছেন। প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গেছে যে এআইয়ের যথাযথ ব্যবহারে ব্যবসার রূপান্তর হার এবং গ্রাহকদের গড় অর্ডারের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উদাহরণস্বরূপ বিখ্যাত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম শপি তাদের অধিকাংশ গ্রাহকসেবা এখন এআই চ্যাটবটের মাধ্যমে পরিচালনা করে যোগাযোগের খরচ কমিয়ে এনেছে। এছাড়া ট্রিপ প্ল্যান তৈরি, ডিজিটাল বিজ্ঞাপন উন্নত করা এবং রাইড-শেয়ারিংয়ে ভয়েস কমান্ডের ব্যবহারেও এআই গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।



































